ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট দোষারোপের সময় নয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলন: গোলাম পরওয়ার অনলাইনে মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস জাপা নেতার বাসায় নাহিদ ও হাসনাতের ডিনার-রাতযাপন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্য গঠনে কাজ করবে এবি পার্টি বিরোধী দলের ওয়াকআউট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে ডিজিটাল ডন নেট (ডিডিএন) নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে নগরীর চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা-বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযোগের তির বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের দিকে। সিএমপির চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, দুই দিন আগে ডেভিড ইমন নামে এক সন্ত্রাসী ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা চায়। চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। লুট করা হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের ৩৫ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে এসেছে । এতে দেখা যায়, সশস্ত্র ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ঢুকে ডিডিএনের কার্যালয়ের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকে। তারা কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। এ সময় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে এক সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন বিপ্লব দে পার্থ নামের ওই সাংবাদিককে এ হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিপ্লব দে পার্থ।

সোমবার যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালান। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন, এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর

চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট

আপডেট সময় ১২:৪০:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে দিনদুপুরে ডিজিটাল ডন নেট (ডিডিএন) নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে নগরীর চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা-বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযোগের তির বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের দিকে। সিএমপির চকবাজার থানার ওসি নুর হোসেন মামুন বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, দুই দিন আগে ডেভিড ইমন নামে এক সন্ত্রাসী ফোন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা চায়। চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। লুট করা হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের ৩৫ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে এসেছে । এতে দেখা যায়, সশস্ত্র ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল ঢুকে ডিডিএনের কার্যালয়ের কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকে। তারা কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখায়। এ সময় ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে গত ৯ মে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে এক সাংবাদিককে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। মোবারক হোসেন ওরফে ইমন বিপ্লব দে পার্থ নামের ওই সাংবাদিককে এ হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিপ্লব দে পার্থ।

সোমবার যে প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়েছে, তার পাশেই চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশি পাহারায় থাকা স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসা লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ ছিল, কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা এ হামলা চালান। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাসায় গুলি করা হয়। তখন বাসার জানালার কাচ ও দরজায় গুলি লাগে। ওই ঘটনার পর থেকে বাসাটি পুলিশি পাহারায় ছিল। এরপরও আবার গুলির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মোবারক হোসেন ওরফে ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।

পুলিশের ভাষ্য, মোবারক হোসেন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন, এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল বলে পুলিশের দাবি।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুজন। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন। এর আগে দেশে এই দলের নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ও মোহাম্মদ রায়হান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। রায়হানের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও মোবারক হোসেন তাঁর হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।