ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেহেরপুর সীমান্তে সাতজনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাসের প্রথম শনিবার ‘ক্লিনিং ডে’ পালন করা হবে: আবদুস সালাম মৎস্য ও সামুদ্রিক খাতে বড় বিনিয়োগ টানছে ‘মিডা’ ও ‘জাইকা’ একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘রাজনৈতিক ধোঁকাবাজি’: আনু মুহাম্মদ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থ বিল-২০২৬ পাশ লংকানদের হারে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ স্থানে টাইগাররা ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০৬ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার যুবক বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ চার সপ্তাহে রেমিট্যান্স এলো ২৫৯ কোটি ডলার

ম্যারাডোনাকে তার ‘গোল’ দিয়েই উৎসর্গ করলেন মেসি

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

ম্যারাডোনাকে গোল উৎসর্গ করবেন, সেটা মাথায় রেখেই যেন মাঠে নেমেছিলেন মেসি। কিন্তু সেই উৎসর্গ যে এমন নজরকাড়া হবে তা কে জানতো! বার্সা ফরোয়ার্ড গোল করলেন, সেটাও এমন এক গোল যা সাক্ষাৎ ২৭ বছর আগে ম্যারাডোনার করা গোলের একদম কার্বন কপি! দুই গোলের ভিডিও পাশাপাশি দেখলে পার্থক্য বের করাই দায়।

আর এরপর ওই জার্সি খুলে সাবেক গুরুকে স্মরণ করা। কিংবদন্তিকে এর চেয়ে ভালো উৎসর্গ হতেই পারে না।
রোববার (২৯ নভেম্বর) দিনগত রাতে লা লিগায় ওসাসুনার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জেতা ম্যাচে ম্যারাডোনার প্রতি উৎসর্গ করার গোলটি পেতে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয় বার্সা অধিনায়ককে। আর গোলটি যে মেসি গুরুকে উৎসর্গ করেন সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। ফুটবল বিধাতাও যেন সেটিই ঠিক করে রেখেছিলেন। মেসি গোল তো করলেনই তাও আবার তার গুরুর মতো অবিকল একই ভঙ্গিতে এবং গোলের উদযাপনের ভঙ্গিও ছিল ঠিক একই। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে।

ম্যাচের বয়স তখন ৭৩ মিনিট। ত্রিনকাওয়ের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে বাম দিকে আড়াআড়িভাবে জায়গা করে বাম পায়ের কোণাকুণি জোরালো শটে বল ডান কোণা দিয়ে জালে পাঠান মেসি। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়েও অমন অসাধারণ গোল ঠেকানোর ধারেকাছেও যেতে পারলেন না। এটাই যেন ম্যাচের নিয়তিতে লেখা ছিল।

গোল করে তৃপ্তিভরা মুখে জার্সি খুলে ফেললেন মেসি। ভেতরে পরা ছিল ম্যারাডোনার নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের ১০ নম্বর জার্সি। আর্জেন্টিনার এই ক্লাবটির হয়েই ক্যারিয়ারের শেষ দিগন্তে খেলেছেন ম্যারাডোনা। ওই জার্সি পরে দুই হাতের আঙুল ঠোঁটে ছুঁয়ে আকাশে পাড়ি দেওয়া গুরুর দিকে চুম্বন ছুড়ে দিলেন মেসি। এরপর দুই হাত আকাশের দিকে প্রসারিত করে স্মরণ করলেন নিজ দেশের ফুটবল মহানায়ককে।

আজ থেকে ২৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৩ সালে ঠিক এমনই এক গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। উদযাপনও ছিল একইরকম। ওই বছরের ৭ অক্টোবর নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে প্রীতি ম্যাচে মাঠে এমেলিকের বিপক্ষে এই গোল করেন তিনি। আর ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর, ম্যারাডোনা ও মেসিকে এক সুতোয় বাঁধলেন ফুটবল ঈশ্বর।

মেসি অবশ্য আগেই নিশ্চিত করেছেন যে ছয় বছর বয়সে তিনি ম্যারাডোনার সেই গোলটি স্টেডিয়ামে বসে সরাসরি দেখেছিলেন। আর এত বছর পর তার পুনরাবৃত্তিও করে দেখালেন। সেটাও গুরুকে উৎসর্গ করে! ফুটবল ঈশ্বর নিশ্চয় মুচকি হাসছেন ওপারে বসে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেহেরপুর সীমান্তে সাতজনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের

ম্যারাডোনাকে তার ‘গোল’ দিয়েই উৎসর্গ করলেন মেসি

আপডেট সময় ০৮:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

ম্যারাডোনাকে গোল উৎসর্গ করবেন, সেটা মাথায় রেখেই যেন মাঠে নেমেছিলেন মেসি। কিন্তু সেই উৎসর্গ যে এমন নজরকাড়া হবে তা কে জানতো! বার্সা ফরোয়ার্ড গোল করলেন, সেটাও এমন এক গোল যা সাক্ষাৎ ২৭ বছর আগে ম্যারাডোনার করা গোলের একদম কার্বন কপি! দুই গোলের ভিডিও পাশাপাশি দেখলে পার্থক্য বের করাই দায়।

আর এরপর ওই জার্সি খুলে সাবেক গুরুকে স্মরণ করা। কিংবদন্তিকে এর চেয়ে ভালো উৎসর্গ হতেই পারে না।
রোববার (২৯ নভেম্বর) দিনগত রাতে লা লিগায় ওসাসুনার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জেতা ম্যাচে ম্যারাডোনার প্রতি উৎসর্গ করার গোলটি পেতে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয় বার্সা অধিনায়ককে। আর গোলটি যে মেসি গুরুকে উৎসর্গ করেন সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। ফুটবল বিধাতাও যেন সেটিই ঠিক করে রেখেছিলেন। মেসি গোল তো করলেনই তাও আবার তার গুরুর মতো অবিকল একই ভঙ্গিতে এবং গোলের উদযাপনের ভঙ্গিও ছিল ঠিক একই। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে।

ম্যাচের বয়স তখন ৭৩ মিনিট। ত্রিনকাওয়ের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে বাম দিকে আড়াআড়িভাবে জায়গা করে বাম পায়ের কোণাকুণি জোরালো শটে বল ডান কোণা দিয়ে জালে পাঠান মেসি। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়েও অমন অসাধারণ গোল ঠেকানোর ধারেকাছেও যেতে পারলেন না। এটাই যেন ম্যাচের নিয়তিতে লেখা ছিল।

গোল করে তৃপ্তিভরা মুখে জার্সি খুলে ফেললেন মেসি। ভেতরে পরা ছিল ম্যারাডোনার নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের ১০ নম্বর জার্সি। আর্জেন্টিনার এই ক্লাবটির হয়েই ক্যারিয়ারের শেষ দিগন্তে খেলেছেন ম্যারাডোনা। ওই জার্সি পরে দুই হাতের আঙুল ঠোঁটে ছুঁয়ে আকাশে পাড়ি দেওয়া গুরুর দিকে চুম্বন ছুড়ে দিলেন মেসি। এরপর দুই হাত আকাশের দিকে প্রসারিত করে স্মরণ করলেন নিজ দেশের ফুটবল মহানায়ককে।

আজ থেকে ২৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৩ সালে ঠিক এমনই এক গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। উদযাপনও ছিল একইরকম। ওই বছরের ৭ অক্টোবর নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে প্রীতি ম্যাচে মাঠে এমেলিকের বিপক্ষে এই গোল করেন তিনি। আর ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর, ম্যারাডোনা ও মেসিকে এক সুতোয় বাঁধলেন ফুটবল ঈশ্বর।

মেসি অবশ্য আগেই নিশ্চিত করেছেন যে ছয় বছর বয়সে তিনি ম্যারাডোনার সেই গোলটি স্টেডিয়ামে বসে সরাসরি দেখেছিলেন। আর এত বছর পর তার পুনরাবৃত্তিও করে দেখালেন। সেটাও গুরুকে উৎসর্গ করে! ফুটবল ঈশ্বর নিশ্চয় মুচকি হাসছেন ওপারে বসে।