ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

ম্যারাডোনাকে তার ‘গোল’ দিয়েই উৎসর্গ করলেন মেসি

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

ম্যারাডোনাকে গোল উৎসর্গ করবেন, সেটা মাথায় রেখেই যেন মাঠে নেমেছিলেন মেসি। কিন্তু সেই উৎসর্গ যে এমন নজরকাড়া হবে তা কে জানতো! বার্সা ফরোয়ার্ড গোল করলেন, সেটাও এমন এক গোল যা সাক্ষাৎ ২৭ বছর আগে ম্যারাডোনার করা গোলের একদম কার্বন কপি! দুই গোলের ভিডিও পাশাপাশি দেখলে পার্থক্য বের করাই দায়।

আর এরপর ওই জার্সি খুলে সাবেক গুরুকে স্মরণ করা। কিংবদন্তিকে এর চেয়ে ভালো উৎসর্গ হতেই পারে না।
রোববার (২৯ নভেম্বর) দিনগত রাতে লা লিগায় ওসাসুনার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জেতা ম্যাচে ম্যারাডোনার প্রতি উৎসর্গ করার গোলটি পেতে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয় বার্সা অধিনায়ককে। আর গোলটি যে মেসি গুরুকে উৎসর্গ করেন সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। ফুটবল বিধাতাও যেন সেটিই ঠিক করে রেখেছিলেন। মেসি গোল তো করলেনই তাও আবার তার গুরুর মতো অবিকল একই ভঙ্গিতে এবং গোলের উদযাপনের ভঙ্গিও ছিল ঠিক একই। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে।

ম্যাচের বয়স তখন ৭৩ মিনিট। ত্রিনকাওয়ের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে বাম দিকে আড়াআড়িভাবে জায়গা করে বাম পায়ের কোণাকুণি জোরালো শটে বল ডান কোণা দিয়ে জালে পাঠান মেসি। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়েও অমন অসাধারণ গোল ঠেকানোর ধারেকাছেও যেতে পারলেন না। এটাই যেন ম্যাচের নিয়তিতে লেখা ছিল।

গোল করে তৃপ্তিভরা মুখে জার্সি খুলে ফেললেন মেসি। ভেতরে পরা ছিল ম্যারাডোনার নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের ১০ নম্বর জার্সি। আর্জেন্টিনার এই ক্লাবটির হয়েই ক্যারিয়ারের শেষ দিগন্তে খেলেছেন ম্যারাডোনা। ওই জার্সি পরে দুই হাতের আঙুল ঠোঁটে ছুঁয়ে আকাশে পাড়ি দেওয়া গুরুর দিকে চুম্বন ছুড়ে দিলেন মেসি। এরপর দুই হাত আকাশের দিকে প্রসারিত করে স্মরণ করলেন নিজ দেশের ফুটবল মহানায়ককে।

আজ থেকে ২৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৩ সালে ঠিক এমনই এক গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। উদযাপনও ছিল একইরকম। ওই বছরের ৭ অক্টোবর নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে প্রীতি ম্যাচে মাঠে এমেলিকের বিপক্ষে এই গোল করেন তিনি। আর ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর, ম্যারাডোনা ও মেসিকে এক সুতোয় বাঁধলেন ফুটবল ঈশ্বর।

মেসি অবশ্য আগেই নিশ্চিত করেছেন যে ছয় বছর বয়সে তিনি ম্যারাডোনার সেই গোলটি স্টেডিয়ামে বসে সরাসরি দেখেছিলেন। আর এত বছর পর তার পুনরাবৃত্তিও করে দেখালেন। সেটাও গুরুকে উৎসর্গ করে! ফুটবল ঈশ্বর নিশ্চয় মুচকি হাসছেন ওপারে বসে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

ম্যারাডোনাকে তার ‘গোল’ দিয়েই উৎসর্গ করলেন মেসি

আপডেট সময় ০৮:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:  

ম্যারাডোনাকে গোল উৎসর্গ করবেন, সেটা মাথায় রেখেই যেন মাঠে নেমেছিলেন মেসি। কিন্তু সেই উৎসর্গ যে এমন নজরকাড়া হবে তা কে জানতো! বার্সা ফরোয়ার্ড গোল করলেন, সেটাও এমন এক গোল যা সাক্ষাৎ ২৭ বছর আগে ম্যারাডোনার করা গোলের একদম কার্বন কপি! দুই গোলের ভিডিও পাশাপাশি দেখলে পার্থক্য বের করাই দায়।

আর এরপর ওই জার্সি খুলে সাবেক গুরুকে স্মরণ করা। কিংবদন্তিকে এর চেয়ে ভালো উৎসর্গ হতেই পারে না।
রোববার (২৯ নভেম্বর) দিনগত রাতে লা লিগায় ওসাসুনার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জেতা ম্যাচে ম্যারাডোনার প্রতি উৎসর্গ করার গোলটি পেতে ৭৩ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয় বার্সা অধিনায়ককে। আর গোলটি যে মেসি গুরুকে উৎসর্গ করেন সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। ফুটবল বিধাতাও যেন সেটিই ঠিক করে রেখেছিলেন। মেসি গোল তো করলেনই তাও আবার তার গুরুর মতো অবিকল একই ভঙ্গিতে এবং গোলের উদযাপনের ভঙ্গিও ছিল ঠিক একই। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে।

ম্যাচের বয়স তখন ৭৩ মিনিট। ত্রিনকাওয়ের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে বাম দিকে আড়াআড়িভাবে জায়গা করে বাম পায়ের কোণাকুণি জোরালো শটে বল ডান কোণা দিয়ে জালে পাঠান মেসি। গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে পড়েও অমন অসাধারণ গোল ঠেকানোর ধারেকাছেও যেতে পারলেন না। এটাই যেন ম্যাচের নিয়তিতে লেখা ছিল।

গোল করে তৃপ্তিভরা মুখে জার্সি খুলে ফেললেন মেসি। ভেতরে পরা ছিল ম্যারাডোনার নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের ১০ নম্বর জার্সি। আর্জেন্টিনার এই ক্লাবটির হয়েই ক্যারিয়ারের শেষ দিগন্তে খেলেছেন ম্যারাডোনা। ওই জার্সি পরে দুই হাতের আঙুল ঠোঁটে ছুঁয়ে আকাশে পাড়ি দেওয়া গুরুর দিকে চুম্বন ছুড়ে দিলেন মেসি। এরপর দুই হাত আকাশের দিকে প্রসারিত করে স্মরণ করলেন নিজ দেশের ফুটবল মহানায়ককে।

আজ থেকে ২৭ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৩ সালে ঠিক এমনই এক গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। উদযাপনও ছিল একইরকম। ওই বছরের ৭ অক্টোবর নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে প্রীতি ম্যাচে মাঠে এমেলিকের বিপক্ষে এই গোল করেন তিনি। আর ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর, ম্যারাডোনা ও মেসিকে এক সুতোয় বাঁধলেন ফুটবল ঈশ্বর।

মেসি অবশ্য আগেই নিশ্চিত করেছেন যে ছয় বছর বয়সে তিনি ম্যারাডোনার সেই গোলটি স্টেডিয়ামে বসে সরাসরি দেখেছিলেন। আর এত বছর পর তার পুনরাবৃত্তিও করে দেখালেন। সেটাও গুরুকে উৎসর্গ করে! ফুটবল ঈশ্বর নিশ্চয় মুচকি হাসছেন ওপারে বসে।