আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা ভূমি অফিসে প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন কাজে গেলে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয় অনেক ভুক্তভোগীকে।
এদিকে মাদারীপুরের শিবচরে ভূমি অফিসের এক পেশকারের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ভূমি অফিসের পেশকার লিটন বিশ্বাস একজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অফিস কক্ষেই টাকা নিচ্ছেন।
এসব ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে এক ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খবির মোল্লা নামে এক ব্যক্তি বনবিভাগের একটি লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ভূমি অফিসের প্রত্যয়নপত্র দরকার হয়। দীর্ঘ তিন মাস যাবত প্রত্যয়নপত্রের জন্য ভূমি অফিসের এ টেবিল থেকে ও টেবিলে ধরনা ধরেও পাননি প্রত্যয়নপত্র।
প্রত্যয়নের জন্য ভূমি অফিসের পেশকার লিটন বিশ্বাসের কাছে গেলে তিনি বিভিন্ন ওজুহাতে ভুক্তভোগী মো. খবির মোল্লাকে হয়রানি করেন। লিটন বিশ্বাস জানান- ১০ হাজার টাকা দিলে প্রত্যয়ন পাওয়া যাবে। কূলকিনারা না পেয়ে ভুক্তভোগী একপর্যায়ে তাকে পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেন।
এদিকে হয়রানির শিকার হয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সব অফিসে সর্বোচ্চ ভালো সেবা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিবচর উপজেলার ভূমি অফিসের একজন সার্টিফিকেট পেশকারের দ্বারা হয়রানির শেষ নেই। কোনো কাগজপত্র আনতে গেলেই ১০ হাজার ২০ হাজার টাকা করে দিতে হয়। অথচ এসব সেবা বিনামূল্যে দেয়ার কথা থাকলেও ভূমি অফিসের কর্মচারীরা গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পেশকার লিটন বিশ্বাস ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ডিসি অফিসে আছি; আপনার সঙ্গে পরে কথা বলছি- এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রকিবুল হাসান বলেন, ভূমি অফিসে প্রত্যয়নের জন্য কোনো টাকা লাগে না।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে একজন লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। পরে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
শিবচরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















