ঢাকা ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা বা অনিয়মের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী ‘খেলাধুলার মাধ্যমে দেশপ্রেম ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে’ সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি মঈনসহ ৩ জন তিনদিনের রিমান্ডে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই বিশেষ অভিযান শুরু হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের বন্দর অবরোধ বিপজ্জনক পদক্ষেপ: চীন কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে দেওয়া হবে ‘কৃষক কার্ড’: প্রধানমন্ত্রী

অভাবের তাড়নায় সন্তান দত্তক!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বাবা খোঁজ নেন না। অসুস্থ মা নিজেই অসহায়। অভাবের সংসারে ঠিকভাবে খেতেই পারে না, দুধ জুটবে কোথা থেকে! তাই বাধ্য হয়ে ১৫ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে দত্তক দিয়েছেন অসহায় মা।

একদিকে ছোট মেয়েকে দত্তক, অন্যদিকে আট বছর বয়সী মেয়ের ভরণপোষণ- সব মিলিয়ে মা এখন মানসিক বিপর্যস্ত। এ পরিস্থিতিতে দুই বছরেও খোঁজ নেননি পাষণ্ড পিতা। বরং ঢাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার পেতেছেন বলে জানান স্বজনরা।

আর এমনই ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের উলিপুরের করতোয়ারপাড় গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, ২০১১ সালে থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার গ্রামের সৈয়দ আলীর পুত্র আনিছুর রহমানের সঙ্গে একই উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের করতোয়ারপাড় গ্রামের গফফার আলীর মেয়ে শেফালী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় একটি কন্যাসন্তান আসে তাদের সংসারে। আনিছুর বিয়ের আগে থেকেই ছিলেন মাদকাসক্ত।

বিয়ের পর থেকে সামান্য বিষয় নিয়েই স্ত্রী শেফালীকে নির্যাতন করতেন তিনি। এরই মধ্যে তাদের ঘরে আরও একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হলে মাদকাসক্ত আনিছুর স্ত্রীকে জোর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এর কিছুদিন পর দুই মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে ফিরে এলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ে আনিছুরের। একপর্যায়ে বেধড়ক মারপিট করে হাড় ভেঙে দেয় শেফালীর। পরে তাদের ছেড়ে চলে যায় ঢাকায়। এরপর আর যোগাযোগ রাখেনি সে।

এদিকে দুই মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও বাড়িতে থাকতে না দিলে নিরুপায় হয়ে বৃদ্ধা মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন শেফালী। সেখানে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে অসুস্থ শেফালীর দিন কাটে অনাহারে অর্ধাহারে।

এদিকে ১৫ মাসের কন্যাশিশু খাবারের অভাবে কেঁদেই চলতো সারাদিন। এ পরিস্থিতিতে ১৫ মাসের শিশুকে বাধ্য হয়ে একই ইউনিয়নের দলবাড়ি গ্রামের নিঃসন্তান আনিছুর রহমান দম্পতির কাছে দত্তক দেন তিনি।

অসহায় শেফালী বেগম বলেন, আমার স্বামী নেশাগ্রস্ত; প্রায়ই আমাকে মারপিট করত। আমাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে সে গোপনে বিয়ে করেছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে আসার আকুতি অসহায় শেফালীর।

শেফালীর মা রমিছা খাতুন বলেন, অভাবের সংসার নিজেই খাবার পাই না, ছোট শিশুকে কী খাওয়াই। তাই বাধ্য হয়ে ছোট নাতনিকে দত্তক দিয়েছি।

দলদলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান মুন্সি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ ইউনিয়নে অভাবী মানুষের সংখ্যা বেশি। এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নূরে-এ-জান্নাত রুমি বলেন, বিষয়টি আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী

অভাবের তাড়নায় সন্তান দত্তক!

আপডেট সময় ১০:১১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বাবা খোঁজ নেন না। অসুস্থ মা নিজেই অসহায়। অভাবের সংসারে ঠিকভাবে খেতেই পারে না, দুধ জুটবে কোথা থেকে! তাই বাধ্য হয়ে ১৫ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে দত্তক দিয়েছেন অসহায় মা।

একদিকে ছোট মেয়েকে দত্তক, অন্যদিকে আট বছর বয়সী মেয়ের ভরণপোষণ- সব মিলিয়ে মা এখন মানসিক বিপর্যস্ত। এ পরিস্থিতিতে দুই বছরেও খোঁজ নেননি পাষণ্ড পিতা। বরং ঢাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করে সংসার পেতেছেন বলে জানান স্বজনরা।

আর এমনই ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের উলিপুরের করতোয়ারপাড় গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, ২০১১ সালে থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার গ্রামের সৈয়দ আলীর পুত্র আনিছুর রহমানের সঙ্গে একই উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের করতোয়ারপাড় গ্রামের গফফার আলীর মেয়ে শেফালী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় একটি কন্যাসন্তান আসে তাদের সংসারে। আনিছুর বিয়ের আগে থেকেই ছিলেন মাদকাসক্ত।

বিয়ের পর থেকে সামান্য বিষয় নিয়েই স্ত্রী শেফালীকে নির্যাতন করতেন তিনি। এরই মধ্যে তাদের ঘরে আরও একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হলে মাদকাসক্ত আনিছুর স্ত্রীকে জোর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এর কিছুদিন পর দুই মেয়েকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে ফিরে এলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়ে আনিছুরের। একপর্যায়ে বেধড়ক মারপিট করে হাড় ভেঙে দেয় শেফালীর। পরে তাদের ছেড়ে চলে যায় ঢাকায়। এরপর আর যোগাযোগ রাখেনি সে।

এদিকে দুই মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনও বাড়িতে থাকতে না দিলে নিরুপায় হয়ে বৃদ্ধা মায়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন শেফালী। সেখানে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে অসুস্থ শেফালীর দিন কাটে অনাহারে অর্ধাহারে।

এদিকে ১৫ মাসের কন্যাশিশু খাবারের অভাবে কেঁদেই চলতো সারাদিন। এ পরিস্থিতিতে ১৫ মাসের শিশুকে বাধ্য হয়ে একই ইউনিয়নের দলবাড়ি গ্রামের নিঃসন্তান আনিছুর রহমান দম্পতির কাছে দত্তক দেন তিনি।

অসহায় শেফালী বেগম বলেন, আমার স্বামী নেশাগ্রস্ত; প্রায়ই আমাকে মারপিট করত। আমাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে সে গোপনে বিয়ে করেছে। স্বামী-সন্তান নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে আসার আকুতি অসহায় শেফালীর।

শেফালীর মা রমিছা খাতুন বলেন, অভাবের সংসার নিজেই খাবার পাই না, ছোট শিশুকে কী খাওয়াই। তাই বাধ্য হয়ে ছোট নাতনিকে দত্তক দিয়েছি।

দলদলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান মুন্সি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এ ইউনিয়নে অভাবী মানুষের সংখ্যা বেশি। এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. নূরে-এ-জান্নাত রুমি বলেন, বিষয়টি আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।