ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে ঘাতক রাসেল মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাওদা হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন উচ্চাদালত। একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এ,এস,এম আবদুল মোবিনের দ্বৈত বেঞ্চ আসামি রাসেলের সাজা কমিয়ে এই রায় ঘোষণা করেন। রাসেল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র ছিল। ওই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করে।

২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সাওদাকে কুপিয়ে হত্যা করে তার সাবেক প্রেমিক রাসেল। এ ঘটনায় সাওদার মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের ৯দিন পর রাসেল মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ওইদিন রাসেল মিয়া প্রেমে বিচ্ছেদ হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাওদাকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল রাসেল মিয়াকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৫ সালের ১ জুন ওই মামলার রায়ে রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এসএম নাসিম রেজা। রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন রাসেলের স্বজনরা। ২০১৯ সালের ৯ মে হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানী শেষে রাসেলকে ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকার জরিমানার স্থলে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন উচ্চাদালত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ড. মুহাম্মদ মুহসীন উদ্দীন এবং হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান সুজান চন্দ্র হালদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীকে এভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা ঘৃণিত অপরাধ। তারা আশা করেছিলেন আদালত অপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবে। নিম্ন আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। উচ্চাদালত তার শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছে। উচ্চাদালতের বিবেচনায় এই রায় সঠিক হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এতে খুশি নয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে ঘাতক রাসেল মিয়ার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৯:০০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাওদা হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন উচ্চাদালত। একই সাথে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এ,এস,এম আবদুল মোবিনের দ্বৈত বেঞ্চ আসামি রাসেলের সাজা কমিয়ে এই রায় ঘোষণা করেন। রাসেল একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র ছিল। ওই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার করে।

২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সাওদাকে কুপিয়ে হত্যা করে তার সাবেক প্রেমিক রাসেল। এ ঘটনায় সাওদার মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের ৯দিন পর রাসেল মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ওইদিন রাসেল মিয়া প্রেমে বিচ্ছেদ হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাওদাকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারেক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল রাসেল মিয়াকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৫ সালের ১ জুন ওই মামলার রায়ে রাসেল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এসএম নাসিম রেজা। রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন রাসেলের স্বজনরা। ২০১৯ সালের ৯ মে হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানী শেষে রাসেলকে ফাঁসির দণ্ড কমিয়ে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকার জরিমানার স্থলে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন উচ্চাদালত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ড. মুহাম্মদ মুহসীন উদ্দীন এবং হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান সুজান চন্দ্র হালদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীকে এভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা ঘৃণিত অপরাধ। তারা আশা করেছিলেন আদালত অপরাধীকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবে। নিম্ন আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। উচ্চাদালত তার শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছে। উচ্চাদালতের বিবেচনায় এই রায় সঠিক হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এতে খুশি নয়।