ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় আহত সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী বছরজুড়ে যুদ্ধ চলবে: ইসরাইলি সেনাপ্রধান ডিসইনফরমেশনভিত্তিক ফটোকার্ড এলাও করবো না : জাহেদ উর রহমান ৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মানবে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও দূষণের হাত থেকে নদীগুলোকে বাঁচাতে হবে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হত্যার সরঞ্জাম কেনেন অনলাইনে, গুমের উপায় খোঁজেন চ্যাটজিপিটিতে লোহাগাড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে মাইক্রোবাস, নিহত ৩

ধর্ষণ মামলায় কারাগারে ছেলে, ‘খবর শুনে’ বাবার মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর খবর শুনে মৃত্যু হয়েছে বাবার। শনিবার সকালে উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের কোচনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, চাকরি দেয়ার কথা বলে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের মামলা হয় কবাই ইউনিয়নের ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বুধবার বিকালে শহিদুল ইসলাম বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সংবাদ শুনে শহিদুল ইসলামের বাবা আব্দুর রশিদ মাতুব্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শনিবার সকাল ৭টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে একই অটোরিকশায় যাওয়ার সময় বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। এর কিছুদিন পর তাদের আবার দেখা হয়। এ সময় অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম তার কলেজে ওই তরুণীকে চাকরি দেয়ার কথা বলেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে শহিদুল ইসলাম তার মোবাইল ফোন নম্বর চেয়ে নেন। এরপর তিনি প্রায়ই ফোন দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতেন। কয়েক মাস পর শহিদুল ইসলাম তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের সুবাদে ওই তরুণীর বাড়ি যাওয়া-আসা শুরু করেন শহিদুল ইসলাম।

২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাতে মোবাইল ফোনে ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলে শহিদুল ইসলাম জানতে পারেন তিনি বাড়িতে একা আছেন। রাতেই শহিদুল ওই তরুণীর বাড়িতে যান এবং চাকরি ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন শহিদুল। পরে ওই তরুণী দেখা করলে শহিদুল ইসলাম তাকে বিয়ে করতে ও চাকরি দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে গত ২২ জুন বাকেরগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর শহিদুল ইসলাম উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ওই অধ্যক্ষ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে এ সংবাদে তার বাবা মারা গেছেন কিনা তা বলতে পারব না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় আহত সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক

ধর্ষণ মামলায় কারাগারে ছেলে, ‘খবর শুনে’ বাবার মৃত্যু

আপডেট সময় ০৭:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ধর্ষণের মামলায় ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর খবর শুনে মৃত্যু হয়েছে বাবার। শনিবার সকালে উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের কোচনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, চাকরি দেয়ার কথা বলে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের মামলা হয় কবাই ইউনিয়নের ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বুধবার বিকালে শহিদুল ইসলাম বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সংবাদ শুনে শহিদুল ইসলামের বাবা আব্দুর রশিদ মাতুব্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শনিবার সকাল ৭টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে একই অটোরিকশায় যাওয়ার সময় বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়। এর কিছুদিন পর তাদের আবার দেখা হয়। এ সময় অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম তার কলেজে ওই তরুণীকে চাকরি দেয়ার কথা বলেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে শহিদুল ইসলাম তার মোবাইল ফোন নম্বর চেয়ে নেন। এরপর তিনি প্রায়ই ফোন দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতেন। কয়েক মাস পর শহিদুল ইসলাম তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের সুবাদে ওই তরুণীর বাড়ি যাওয়া-আসা শুরু করেন শহিদুল ইসলাম।

২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাতে মোবাইল ফোনে ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলে শহিদুল ইসলাম জানতে পারেন তিনি বাড়িতে একা আছেন। রাতেই শহিদুল ওই তরুণীর বাড়িতে যান এবং চাকরি ও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন শহিদুল। পরে ওই তরুণী দেখা করলে শহিদুল ইসলাম তাকে বিয়ে করতে ও চাকরি দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে গত ২২ জুন বাকেরগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর শহিদুল ইসলাম উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, ওই অধ্যক্ষ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে এ সংবাদে তার বাবা মারা গেছেন কিনা তা বলতে পারব না।