ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে হিংসায় জ্বলছে ভারত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে ভারত যে কখনো খুশি নয়, সেটি আরো একবার প্রমাণিত হলো। কদিন ধরেই ভারতীয় গণমাধ্যমে ভারতের পিছিয়ে পড়া নিয়ে আহজারি আর্ত্বনাতের পর এবার রাজনৈতিক আর্ত্বনাতও শোনা গেল। ভারতে চলমান বিধানসভা নিবর্বাচনে ক্ষমতাশীন বিজেপি নেতা এবং বিহারের মুখ্যে মন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ আজ বলেছেন, ক্ষমতায় এলে তিনি বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে ছুড়ে ফেলে দিবেন। এবক্তব্যের পর আবার বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কারন বিজেপির এই নেতা উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও বটে। তিনি এরকম বক্তব্য কেবল কথার কথা বলবেন এটা বিশ্বাস করার কোন কোন কারণ নাই। কারন এ বক্তব্য রাজনৈতিক বহিপ্রকাশ বলেই মনে করছেন কুটনৈতিক মহল। আর এখান থেকেই বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের মনের কথা সুস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন রাষ্ট্রদুত বিক্রম দোরাইস্বমী আশার বাণী শোনাচ্ছে।  বন্ধুত্বের কথা বলছেন এবং সুসম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার কথা বলছেন। কিন্তু তার এই বক্তব্য এবং বিজিপি সরকারের কর্মকান্ড একি সমান্তারাল ধারায় চলছে না তা প্রমানিত হচ্ছে।

সম্প্রতি আনন্দ বাজার পত্রিকা বাংলাদেশের একটি সাফল্য নিয়ে আর্ত্মনাত মুলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সেই নিবন্ধে বাংলাদেশকে ‘উঁইপোকা’ আরা ভারতকে ‘হাতির সঙ্গে’ তুলনা করা হয়েছে। এরকম হিনমন্যতায় ভোগা ভারত বাংলাদেশের সাফল্যে যে হিংসায় মরছে তা বোঝার জন্য কোন বিশেজ্ঞর দরকার হয়না। যার সব চেয়ে বড় প্রমাণ হলো বিহারের নির্বাচন। বিহারের নির্বাচনে বিজেপি প্রধান ইস্যু দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারী। সেখানে তারা বলছে যে এই অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশে থেকে আসছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভারতের চেয়ে ভালো হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ বিহারে যাবে কোন দু:খে । সে প্রশ্ন কুটনৈতিক মহলে উঠেছে এবং যদিও এর জবাব কুটনৈতিক মহল দিতে রাজি নন।

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের টানাপোড়নের আরেকটিচ চিত্র পাওয়া যায়। মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সুম্পর্ক বৃদ্ধি নিয়ে। মিয়ানমারের কাছে ভারত দুটি সাব মেরিন বিক্রি করেছে। এই সাবমেরিনদুটি হলো মিয়ানমারের নৌ বাহিনীর প্রথম সাবমেরিন। অর্থাৎ যখন বাংলাদেশকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে মনে এই সাবমেরিনদুটি দেওয়া হয়েছে বলে কুটনৈতিকরা মনে করেন। আবার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যখন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, তখন ভারতের এই সাবমেরিন দেওয়া একটা বার্তাতো বটেই। আবার এই সময়ে নেপাল  ও শ্রীলংঙ্কার সঙ্গে সুসম্পর্ক সৃষ্টির চেষ্টাও করছে ভারত।

অর্থাৎ এই উপমহাদেশে বাংলাদেশের ওপর নির্ভর না করে শ্রীলংঙ্কার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে কৌশল নিয়েছে ভারত সরকার। সবচেয়ে বড় কথা হলো বাংলাদেশে পেয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দিয়ে পেয়াজের বাজার যেমন অস্থিতিশীল করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কিছু পণৌর ওপর বিধিনিষেধ করার প্রক্রিয়া নিচ্ছে ভারত সরকার। এগুলোর প্রধান কারন হলো বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া। আইএমএফ প্রক্ষেপণ করেছে চলতি বছরে ভারতের থেকে বাংলাদেশের গড়আয় এগিয়ে যাবে। এটিতে সুধু ভারত সরকার নয় পুরো ভারত জুড়েই মাতম চলছে। আর সেই মাতমের কারনেই বাংলাদেশকে রুখতে ভারত যা যা করা দরকার তার সবই করছে। যদিও বাংলাদেশে ভারত বার বার বলছে তারা দু দেশের সুম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে হিংসায় জ্বলছে ভারত

আপডেট সময় ০৭:৩১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে ভারত যে কখনো খুশি নয়, সেটি আরো একবার প্রমাণিত হলো। কদিন ধরেই ভারতীয় গণমাধ্যমে ভারতের পিছিয়ে পড়া নিয়ে আহজারি আর্ত্বনাতের পর এবার রাজনৈতিক আর্ত্বনাতও শোনা গেল। ভারতে চলমান বিধানসভা নিবর্বাচনে ক্ষমতাশীন বিজেপি নেতা এবং বিহারের মুখ্যে মন্ত্রী যোগী আদিত্য নাথ আজ বলেছেন, ক্ষমতায় এলে তিনি বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে ছুড়ে ফেলে দিবেন। এবক্তব্যের পর আবার বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কারন বিজেপির এই নেতা উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীও বটে। তিনি এরকম বক্তব্য কেবল কথার কথা বলবেন এটা বিশ্বাস করার কোন কোন কারণ নাই। কারন এ বক্তব্য রাজনৈতিক বহিপ্রকাশ বলেই মনে করছেন কুটনৈতিক মহল। আর এখান থেকেই বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের মনের কথা সুস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন রাষ্ট্রদুত বিক্রম দোরাইস্বমী আশার বাণী শোনাচ্ছে।  বন্ধুত্বের কথা বলছেন এবং সুসম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার কথা বলছেন। কিন্তু তার এই বক্তব্য এবং বিজিপি সরকারের কর্মকান্ড একি সমান্তারাল ধারায় চলছে না তা প্রমানিত হচ্ছে।

সম্প্রতি আনন্দ বাজার পত্রিকা বাংলাদেশের একটি সাফল্য নিয়ে আর্ত্মনাত মুলক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সেই নিবন্ধে বাংলাদেশকে ‘উঁইপোকা’ আরা ভারতকে ‘হাতির সঙ্গে’ তুলনা করা হয়েছে। এরকম হিনমন্যতায় ভোগা ভারত বাংলাদেশের সাফল্যে যে হিংসায় মরছে তা বোঝার জন্য কোন বিশেজ্ঞর দরকার হয়না। যার সব চেয়ে বড় প্রমাণ হলো বিহারের নির্বাচন। বিহারের নির্বাচনে বিজেপি প্রধান ইস্যু দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারী। সেখানে তারা বলছে যে এই অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাদেশে থেকে আসছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যদি ভারতের চেয়ে ভালো হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ বিহারে যাবে কোন দু:খে । সে প্রশ্ন কুটনৈতিক মহলে উঠেছে এবং যদিও এর জবাব কুটনৈতিক মহল দিতে রাজি নন।

বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের টানাপোড়নের আরেকটিচ চিত্র পাওয়া যায়। মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সুম্পর্ক বৃদ্ধি নিয়ে। মিয়ানমারের কাছে ভারত দুটি সাব মেরিন বিক্রি করেছে। এই সাবমেরিনদুটি হলো মিয়ানমারের নৌ বাহিনীর প্রথম সাবমেরিন। অর্থাৎ যখন বাংলাদেশকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে মনে এই সাবমেরিনদুটি দেওয়া হয়েছে বলে কুটনৈতিকরা মনে করেন। আবার রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যখন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, তখন ভারতের এই সাবমেরিন দেওয়া একটা বার্তাতো বটেই। আবার এই সময়ে নেপাল  ও শ্রীলংঙ্কার সঙ্গে সুসম্পর্ক সৃষ্টির চেষ্টাও করছে ভারত।

অর্থাৎ এই উপমহাদেশে বাংলাদেশের ওপর নির্ভর না করে শ্রীলংঙ্কার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে কৌশল নিয়েছে ভারত সরকার। সবচেয়ে বড় কথা হলো বাংলাদেশে পেয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দিয়ে পেয়াজের বাজার যেমন অস্থিতিশীল করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কিছু পণৌর ওপর বিধিনিষেধ করার প্রক্রিয়া নিচ্ছে ভারত সরকার। এগুলোর প্রধান কারন হলো বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া। আইএমএফ প্রক্ষেপণ করেছে চলতি বছরে ভারতের থেকে বাংলাদেশের গড়আয় এগিয়ে যাবে। এটিতে সুধু ভারত সরকার নয় পুরো ভারত জুড়েই মাতম চলছে। আর সেই মাতমের কারনেই বাংলাদেশকে রুখতে ভারত যা যা করা দরকার তার সবই করছে। যদিও বাংলাদেশে ভারত বার বার বলছে তারা দু দেশের সুম্পর্ককে এগিয়ে নিতে চায়।