ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মেয়েকে হত্যার পর সুইমিং পুলে ফেলে পুলিশকে ফোন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসকের

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চার বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক শিশু বিশেষজ্ঞের রহস্যময় ৯১১ কল রেকর্ড প্রকাশ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

ওকলাহোমাভিত্তিক চিকিৎসক ৩৭ বছর বয়সী নেহা গুপ্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার ছোট মেয়ে আরিয়া তালাথিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সুইমিং পুলে ফেলে দিয়েছিলেন এবং পুলিশের কাছে একে দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন। গত বছরের জুন মাসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তদন্ত চলাকালীন সম্প্রতি এই কল রেকর্ডটি জনসমক্ষে আনা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, নেহা গুপ্তা পুলিশকে ফোন করে দাবি করেছিলেন যে তার মেয়ে মাঝরাতে ঘর থেকে বেরিয়ে ভুলবশত সুইমিং পুলে পড়ে গেছে।

প্রকাশিত অডিও রেকর্ডে নেহাকে বলতে শোনা যায়, তার মেয়ে পুলের নিচে তলিয়ে গেছে এবং তিনি সাঁতার না জানায় তাকে বাঁচাতে পারছেন না। অপারেটর যখন তাকে বারবার মেয়েটিকে পানি থেকে তোলার চেষ্টা করতে বলছিলেন, তখন নেহা কেবল প্যারামেডিক দল কখন পৌঁছাবে তা জানতে চান। তিনি বারবার দাবি করছিলেন যে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন কিন্তু মেয়েটি পুলের গভীর তলে স্থির হয়ে পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।

তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চিকিৎসকরা আরিয়ার ফুসফুস বা পাকস্থলীতে কোনো পানি খুঁজে পাননি, যা প্রমাণ করে যে পুলে ফেলার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, নেহা নিজেই তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন এবং ঘটনাটি আড়াল করতে পরবর্তীতে পুলে ফেলে দেন।

এই ঘটনার সময় শিশুটির বাবার সঙ্গে নেহার আইনি লড়াই চলছিল এবং বাবা আরিয়ার পূর্ণ হেফাজত চেয়েছিলেন। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, তার মেয়েকে যে ওকলাহোমা থেকে ফ্লোরিডায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

বর্তমানে নেহা গুপ্তা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। যদিও তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা ছিল, তবে ডিজিটাল তথ্য ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আগামী মে মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মেয়েকে হত্যার পর সুইমিং পুলে ফেলে পুলিশকে ফোন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসকের

আপডেট সময় ১০:০০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চার বছর বয়সী মেয়েকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক শিশু বিশেষজ্ঞের রহস্যময় ৯১১ কল রেকর্ড প্রকাশ করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

ওকলাহোমাভিত্তিক চিকিৎসক ৩৭ বছর বয়সী নেহা গুপ্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার ছোট মেয়ে আরিয়া তালাথিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সুইমিং পুলে ফেলে দিয়েছিলেন এবং পুলিশের কাছে একে দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন। গত বছরের জুন মাসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তদন্ত চলাকালীন সম্প্রতি এই কল রেকর্ডটি জনসমক্ষে আনা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, নেহা গুপ্তা পুলিশকে ফোন করে দাবি করেছিলেন যে তার মেয়ে মাঝরাতে ঘর থেকে বেরিয়ে ভুলবশত সুইমিং পুলে পড়ে গেছে।

প্রকাশিত অডিও রেকর্ডে নেহাকে বলতে শোনা যায়, তার মেয়ে পুলের নিচে তলিয়ে গেছে এবং তিনি সাঁতার না জানায় তাকে বাঁচাতে পারছেন না। অপারেটর যখন তাকে বারবার মেয়েটিকে পানি থেকে তোলার চেষ্টা করতে বলছিলেন, তখন নেহা কেবল প্যারামেডিক দল কখন পৌঁছাবে তা জানতে চান। তিনি বারবার দাবি করছিলেন যে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন কিন্তু মেয়েটি পুলের গভীর তলে স্থির হয়ে পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।

তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চিকিৎসকরা আরিয়ার ফুসফুস বা পাকস্থলীতে কোনো পানি খুঁজে পাননি, যা প্রমাণ করে যে পুলে ফেলার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, নেহা নিজেই তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন এবং ঘটনাটি আড়াল করতে পরবর্তীতে পুলে ফেলে দেন।

এই ঘটনার সময় শিশুটির বাবার সঙ্গে নেহার আইনি লড়াই চলছিল এবং বাবা আরিয়ার পূর্ণ হেফাজত চেয়েছিলেন। পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, তার মেয়েকে যে ওকলাহোমা থেকে ফ্লোরিডায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।

বর্তমানে নেহা গুপ্তা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। যদিও তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে এটি একটি নিছক দুর্ঘটনা ছিল, তবে ডিজিটাল তথ্য ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আগামী মে মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।