ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু নির্বাচনে ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ভেঙে পড়ল ক্রেন, নিহত ২২ জাস্টিস ফর হাদি, ইনশাআল্লাহ : মির্জা ফখরুল আলমগীর টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

কুরবানীর গোশত বণ্টনের উত্তম পদ্ধতি

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

কোরবানি মূলত আল্লাহ তায়ালার সামনে নিজের আনুগত্যের একটি নিদর্শন। আল্লাহ তায়ালা বান্দা থেকে সেই আত্মিক পরীক্ষা নিয়ে থাকেন কোরবানির মাধ্যমে; এখানে গোশত মূখ্য নয়। ইরশাদ হয়েছে, `এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। ` (সূরা হজ: ৩৭)

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কোরবানির গোশত কী করা হবে? কোরআন ও হাদিসের আলোকে উলামায়ে কেরাম অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, চাইলে কোরবানিদাতা নিজেই সব গোশত খেয়ে নিতে পারেন, চাইলে সব গোশত গরিব-মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করে দিবেন কিংবা কিছু খাবেন এবং কিছু সদকা করে দিবেন। বস্তুত পবিত্র কোরআন ও সুন্নায় নিজে খাওয়া এবং গরিবদের খাওয়ানো দুটোর কথাই বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, `অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুঃস্থ অভাবীকে আহার করাও`। (সূরা হাজ্জ: ২৮) তিনি আরও বলেন, `তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং আহার করাও এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা করে এবং এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা করে না। এভাবে আমরা সেগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। ` (সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৬) বরং কোরবানির গোশত নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রাখারও অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
সালামা বিন আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি্ ওয়া সাল্লাম বলেন, `তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ করো। ` (সহিহ বোখারি: ৫৫৬৯, সহিহ মুসলিম: ১৯৭১)। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: `তোমরা খাও, সংরক্ষণ করে রাখো এবং দান করো। ` (সহিহ মুসলিম)

গোশত বণ্টনের সুন্নাহ পদ্ধতি
এবার প্রশ্ন হলো, কী পরিমাণ নিজে খাবে এবং কী পরিমাণ সদকা করবে? এব্যাপারে উম্মাহর স্বীকৃত ও অনুসৃত ইমামগণের মাঝে কিছুটা মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম মালিক (রহ.) এর মতে গোশত বণ্টনের নির্ধারিত কোনো পরিমাণ নেই। আর বণ্টনের ক্ষেত্রে কাঁচা গোশত আর রান্নাকরা গোশতের মাঝে কোনো তফাৎ নেই। (আল কাফি, ১/৪২৪) ইমাম শাফেয়ি (রহ.) এর মতে অধিকাংশ গোশত সদকা করা দেয়া মুস্তাহাব। (আস সিরাজ আল ওয়াহহাজ, ৫৬৩) আর ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং ইমাম আহমদ (রহ.) এর মতে কোরবানির গোশতের একতৃতীয়াংশ নিজে খাবে, একতৃতীয়াংশ আত্মীয়স্বজন এবং পাড়াপড়শির মাঝে বিতরণ করবে আর বাকি তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকিনদেরকে সদকা করবে। বস্তুত এবিষয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস এই মতের সমর্থন করে। তাছাড়া একই কথা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এবং হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। (দেখুন, আল মুগনি, ৮/৬৩২, আল মুহাল্লা, ৭/২৭০, আস সুনানুল কুবরা; বায়হাকি, ৫/২৪০ প্রভৃতি গ্রন্থ) এ মতটিই অগ্রগণ্য।

কোরবানির গোশত হতে কাফেরকে তার অভাব, আত্মীয়তা, প্রতিবেশী অথবা তাকে ইসলামের প্রতি অনুরাগী করার জন্য দেওয়া বৈধ। আর তা ইসলামের এক মহানুভবতা। (আল মুগনি, ১৩/৩৮১, ফাতহুল বারি, ১০/৪৪২) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) তাঁর ইহুদি প্রতিবেশীকে দিয়ে গোশত বণ্টন শুরু করেছিলেন। (আদাবুল মুফরাদ: ১২৮)

দুর্ভিক্ষের সময় কোরবানির গোশত!
প্রথম প্রথম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনদিনের বেশি কোরবানির গোশত সংরক্ষণ করে রাখতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন। তিনদিন পর্যন্ত খাওয়ার অনুমিত ছিল আর বাকি গোশত যেন অবশ্যই অভাবীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয়। পরে এই নিষেধ রহিত হয়ে যায়। সালামা বিন আকওয়া (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, `তোমাদের যে মধ্যে ব্যক্তি কোরবানি করেছে তৃতীয় রাত্রির পরের ভোর বেলায় তার ঘরে যেন এর কোনো অংশ অবশিষ্ট না থাকে। ` পরের বছর সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি গত বছরের মত করব? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: `তোমরা খাও, খাওয়াও এবং সংরক্ষণ করো। ওই বছর মানুষ কষ্টে ছিল। তাই আমি চেয়েছি তোমরা তাদেরকে সহযোগিতা কর। ` (সহিহ মুসলিম: ১৯৭৪)

এই হাদিসের ভিত্তিতে বেশকিছু আলেমের বক্তব্য হলো, যদি কোনো সময় দুর্ভিক্ষ ও অভাব দেখা দেয় তবে তখনও মুসলমানদের করণীয় হবে, নিজে কম খেয়ে এবং নিজের কাছে সংরক্ষিত করে না রেখে অসহায় গরিব-মিসকিনদের মাঝে ব্যাপকভাবে কোরবানির গোশত বিতরণ করে দেয়া। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিষয়টি আমাদের খেয়াল করা জরুরি। প্রকৃতার্থে অর্থনৈতিক বিবেচনায় কোরবানির গুরুত্ব ও যথার্থতা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে।

একটি মাসয়ালা
কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া, চর্বি বা অন্য কোনো কিছু বিক্রি করা জায়েয নয়। কসাই বা অন্য কাউকে পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত দেয়া জায়েয নয়। হাদিসে এসেছে, `তার প্রস্তুত করণে তার থেকে কিছু দেয়া হবে না। ` (সহিহ বোখারি: ১৭১৬, সহিহ মুসলিম: ১৩১৭) তবে দান বা উপহার হিসেবে কসাইকে কিছু দিলে তা নাজায়েয হবে না। আর যাকে কোরবানির পশুর হাদিয়া দেওয়া হলো কিংবা সদকা দেওয়া হলো তিনি এ গোশত বিক্রি করা কিংবা অন্য যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন। তবে তাকে যিনি হাদিয়া দিয়েছেন কিংবা সদকা দিয়েছেন তার কাছে বিক্রি করতে পারবেন না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুরবানীর গোশত বণ্টনের উত্তম পদ্ধতি

আপডেট সময় ০১:০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

কোরবানি মূলত আল্লাহ তায়ালার সামনে নিজের আনুগত্যের একটি নিদর্শন। আল্লাহ তায়ালা বান্দা থেকে সেই আত্মিক পরীক্ষা নিয়ে থাকেন কোরবানির মাধ্যমে; এখানে গোশত মূখ্য নয়। ইরশাদ হয়েছে, `এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। ` (সূরা হজ: ৩৭)

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, কোরবানির গোশত কী করা হবে? কোরআন ও হাদিসের আলোকে উলামায়ে কেরাম অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, চাইলে কোরবানিদাতা নিজেই সব গোশত খেয়ে নিতে পারেন, চাইলে সব গোশত গরিব-মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করে দিবেন কিংবা কিছু খাবেন এবং কিছু সদকা করে দিবেন। বস্তুত পবিত্র কোরআন ও সুন্নায় নিজে খাওয়া এবং গরিবদের খাওয়ানো দুটোর কথাই বলা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, `অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুঃস্থ অভাবীকে আহার করাও`। (সূরা হাজ্জ: ২৮) তিনি আরও বলেন, `তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং আহার করাও এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা করে এবং এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা করে না। এভাবে আমরা সেগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। ` (সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৬) বরং কোরবানির গোশত নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রাখারও অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
সালামা বিন আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি্ ওয়া সাল্লাম বলেন, `তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে আহার করাও এবং সংরক্ষণ করো। ` (সহিহ বোখারি: ৫৫৬৯, সহিহ মুসলিম: ১৯৭১)। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: `তোমরা খাও, সংরক্ষণ করে রাখো এবং দান করো। ` (সহিহ মুসলিম)

গোশত বণ্টনের সুন্নাহ পদ্ধতি
এবার প্রশ্ন হলো, কী পরিমাণ নিজে খাবে এবং কী পরিমাণ সদকা করবে? এব্যাপারে উম্মাহর স্বীকৃত ও অনুসৃত ইমামগণের মাঝে কিছুটা মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম মালিক (রহ.) এর মতে গোশত বণ্টনের নির্ধারিত কোনো পরিমাণ নেই। আর বণ্টনের ক্ষেত্রে কাঁচা গোশত আর রান্নাকরা গোশতের মাঝে কোনো তফাৎ নেই। (আল কাফি, ১/৪২৪) ইমাম শাফেয়ি (রহ.) এর মতে অধিকাংশ গোশত সদকা করা দেয়া মুস্তাহাব। (আস সিরাজ আল ওয়াহহাজ, ৫৬৩) আর ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং ইমাম আহমদ (রহ.) এর মতে কোরবানির গোশতের একতৃতীয়াংশ নিজে খাবে, একতৃতীয়াংশ আত্মীয়স্বজন এবং পাড়াপড়শির মাঝে বিতরণ করবে আর বাকি তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকিনদেরকে সদকা করবে। বস্তুত এবিষয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস এই মতের সমর্থন করে। তাছাড়া একই কথা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এবং হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। (দেখুন, আল মুগনি, ৮/৬৩২, আল মুহাল্লা, ৭/২৭০, আস সুনানুল কুবরা; বায়হাকি, ৫/২৪০ প্রভৃতি গ্রন্থ) এ মতটিই অগ্রগণ্য।

কোরবানির গোশত হতে কাফেরকে তার অভাব, আত্মীয়তা, প্রতিবেশী অথবা তাকে ইসলামের প্রতি অনুরাগী করার জন্য দেওয়া বৈধ। আর তা ইসলামের এক মহানুভবতা। (আল মুগনি, ১৩/৩৮১, ফাতহুল বারি, ১০/৪৪২) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) তাঁর ইহুদি প্রতিবেশীকে দিয়ে গোশত বণ্টন শুরু করেছিলেন। (আদাবুল মুফরাদ: ১২৮)

দুর্ভিক্ষের সময় কোরবানির গোশত!
প্রথম প্রথম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনদিনের বেশি কোরবানির গোশত সংরক্ষণ করে রাখতে নিষেধ করে দিয়েছিলেন। তিনদিন পর্যন্ত খাওয়ার অনুমিত ছিল আর বাকি গোশত যেন অবশ্যই অভাবীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয়। পরে এই নিষেধ রহিত হয়ে যায়। সালামা বিন আকওয়া (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, `তোমাদের যে মধ্যে ব্যক্তি কোরবানি করেছে তৃতীয় রাত্রির পরের ভোর বেলায় তার ঘরে যেন এর কোনো অংশ অবশিষ্ট না থাকে। ` পরের বছর সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি গত বছরের মত করব? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: `তোমরা খাও, খাওয়াও এবং সংরক্ষণ করো। ওই বছর মানুষ কষ্টে ছিল। তাই আমি চেয়েছি তোমরা তাদেরকে সহযোগিতা কর। ` (সহিহ মুসলিম: ১৯৭৪)

এই হাদিসের ভিত্তিতে বেশকিছু আলেমের বক্তব্য হলো, যদি কোনো সময় দুর্ভিক্ষ ও অভাব দেখা দেয় তবে তখনও মুসলমানদের করণীয় হবে, নিজে কম খেয়ে এবং নিজের কাছে সংরক্ষিত করে না রেখে অসহায় গরিব-মিসকিনদের মাঝে ব্যাপকভাবে কোরবানির গোশত বিতরণ করে দেয়া। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিষয়টি আমাদের খেয়াল করা জরুরি। প্রকৃতার্থে অর্থনৈতিক বিবেচনায় কোরবানির গুরুত্ব ও যথার্থতা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে।

একটি মাসয়ালা
কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া, চর্বি বা অন্য কোনো কিছু বিক্রি করা জায়েয নয়। কসাই বা অন্য কাউকে পারিশ্রমিক হিসেবে কোরবানির গোশত দেয়া জায়েয নয়। হাদিসে এসেছে, `তার প্রস্তুত করণে তার থেকে কিছু দেয়া হবে না। ` (সহিহ বোখারি: ১৭১৬, সহিহ মুসলিম: ১৩১৭) তবে দান বা উপহার হিসেবে কসাইকে কিছু দিলে তা নাজায়েয হবে না। আর যাকে কোরবানির পশুর হাদিয়া দেওয়া হলো কিংবা সদকা দেওয়া হলো তিনি এ গোশত বিক্রি করা কিংবা অন্য যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন। তবে তাকে যিনি হাদিয়া দিয়েছেন কিংবা সদকা দিয়েছেন তার কাছে বিক্রি করতে পারবেন না।