ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা ভাববে এনসিপি : আসিফ মাহমুদ প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে : আব্দুল্লাহ মো. তাহের একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন শেখ হাসিনা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অবশেষে আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। এবার তিনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহ্বান করা হচ্ছে। এই সভায় অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা এবং করণীয় ঘোষণা করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। দুই বছর আগেই তিনি সারা দেশে আওয়ামী লীগে যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নিজস্ব উদ্যোগে এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই তালিকা তৈরির পর তিনি তালিকাটি যাচাই বাছাই করার জন্য ডা. দিপু মনির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। এই কমিটি ওই তালিকা যাছাই বাছাই করে প্রায় সাড়ে সাত হাজার নামের একটি তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে হস্তান্তর করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি পরে এই তালিকাটি দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিকট প্রদান করেন।

সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা এই তালিকা পাওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রায় প্রতি মিটিংয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সতর্কতা গ্রহণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীরা যাতে দলে না ঢুকে সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু যখন সাহেদ বা পাপিয়ার মতো দুর্বৃত্তরা ধরা পড়ছে তখনই দেখা যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের সঙ্গে তাদের যুগলবন্দী ছবি। এটি দলকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ রকম পরিস্থিতে এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি আর কারও উপর দায়িত্ব না দিয়ে নিজেই সরাসরি দায়িত্ব নিতে উদ্যোগ গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি যারা অনুপ্রবেশ করেছে তাঁদেরকে তিনটি ভাগে ভাগ করছেন।

প্রথমত, যারা বিভিন্ন বাম, প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কোন রাজনৈতিক দল থেকে আওয়ামী লীগে ঢুকেছে তাদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নমনীয় অবস্থা গ্রহণ করবে। তবে এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের আগে বড় ধরণের পদপদবী পাবেন না।

দ্বিতীয়ত, যারা অতীতে বিএনপি, জামাত বা দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং সেখান থেকে আওয়ামী লীগে এসেছেন তাদের ব্যাপারে আরো বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হবে যে, তারা আওয়ামী লীগে প্রবেশের পর কি করেছে, কি ধরণের ব্যাবসা-বাণিজ্য করেছে, কোন অপরাধ করেছে কিনা এবং তাদের অতীত কি ছিল। অর্থাৎ তারা অতীতে কোন আগুন সন্ত্রাস বা কোন সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল কিনা এবং এই ধরণের অভিযোগে কেউ অভিযুক্ত থাকলে সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদেরকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে এবং সেসময়ে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত থাকবে। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব যদি তারা সন্তোষজনক ভাবে দিতে না পারে সেক্ষেত্রে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হবে এবং স্থায়ীভাবে দল থেকে বাদ দেওয়া হবে।

তৃতীয়ত, যারা আগে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। মূলত ব্যবসাবাণিজ্য বা লাভের জন্যে তারা আওয়ামী লীগে এসেছে। এদের তালিকাগুলো পুনরায় যাচাইবাছাই করা হবে এবং দেখা হবে যে, যারা আসলেই রাজনীতি করার জন্যে বা জনকল্যাণের জন্যে দলে ঢুকেছে তাদেরকে আলাদা করা হবে এবং যারা কিছু ব্যবসা হাতিয়ে নেওয়ার জন্যে আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের জন্যে দলে ঢুকেছে তাদের ব্যাপারেও সতকর্তা ব্যবহার করা হবে এবং তারা যেন দলের পরিচয় ব্যবহার করে কোন অপকর্ম না করতে পারে সে ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে আওয়ামী লীগকে মুক্ত করার অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন এবং তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করছে না আর এইকারণেই তিনি নিজেই এখন এই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ০৬:১৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

অবশেষে আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। এবার তিনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ নাগাদ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহ্বান করা হচ্ছে। এই সভায় অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা এবং করণীয় ঘোষণা করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। দুই বছর আগেই তিনি সারা দেশে আওয়ামী লীগে যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে তাদের একটি তালিকা প্রণয়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নিজস্ব উদ্যোগে এবং একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই তালিকা তৈরির পর তিনি তালিকাটি যাচাই বাছাই করার জন্য ডা. দিপু মনির নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছিলেন। এই কমিটি ওই তালিকা যাছাই বাছাই করে প্রায় সাড়ে সাত হাজার নামের একটি তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে হস্তান্তর করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি পরে এই তালিকাটি দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিকট প্রদান করেন।

সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা এই তালিকা পাওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রায় প্রতি মিটিংয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সতর্কতা গ্রহণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীরা যাতে দলে না ঢুকে সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু যখন সাহেদ বা পাপিয়ার মতো দুর্বৃত্তরা ধরা পড়ছে তখনই দেখা যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের সঙ্গে তাদের যুগলবন্দী ছবি। এটি দলকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ রকম পরিস্থিতে এবার আওয়ামী লীগ সভাপতি আর কারও উপর দায়িত্ব না দিয়ে নিজেই সরাসরি দায়িত্ব নিতে উদ্যোগ গ্রহণ করছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি যারা অনুপ্রবেশ করেছে তাঁদেরকে তিনটি ভাগে ভাগ করছেন।

প্রথমত, যারা বিভিন্ন বাম, প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী কোন রাজনৈতিক দল থেকে আওয়ামী লীগে ঢুকেছে তাদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নমনীয় অবস্থা গ্রহণ করবে। তবে এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের আগে বড় ধরণের পদপদবী পাবেন না।

দ্বিতীয়ত, যারা অতীতে বিএনপি, জামাত বা দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং সেখান থেকে আওয়ামী লীগে এসেছেন তাদের ব্যাপারে আরো বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হবে যে, তারা আওয়ামী লীগে প্রবেশের পর কি করেছে, কি ধরণের ব্যাবসা-বাণিজ্য করেছে, কোন অপরাধ করেছে কিনা এবং তাদের অতীত কি ছিল। অর্থাৎ তারা অতীতে কোন আগুন সন্ত্রাস বা কোন সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল কিনা এবং এই ধরণের অভিযোগে কেউ অভিযুক্ত থাকলে সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদেরকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে এবং সেসময়ে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত থাকবে। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব যদি তারা সন্তোষজনক ভাবে দিতে না পারে সেক্ষেত্রে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হবে এবং স্থায়ীভাবে দল থেকে বাদ দেওয়া হবে।

তৃতীয়ত, যারা আগে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। মূলত ব্যবসাবাণিজ্য বা লাভের জন্যে তারা আওয়ামী লীগে এসেছে। এদের তালিকাগুলো পুনরায় যাচাইবাছাই করা হবে এবং দেখা হবে যে, যারা আসলেই রাজনীতি করার জন্যে বা জনকল্যাণের জন্যে দলে ঢুকেছে তাদেরকে আলাদা করা হবে এবং যারা কিছু ব্যবসা হাতিয়ে নেওয়ার জন্যে আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের জন্যে দলে ঢুকেছে তাদের ব্যাপারেও সতকর্তা ব্যবহার করা হবে এবং তারা যেন দলের পরিচয় ব্যবহার করে কোন অপকর্ম না করতে পারে সে ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

উল্লেখ্য যে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে আওয়ামী লীগকে মুক্ত করার অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন এবং তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু করছে না আর এইকারণেই তিনি নিজেই এখন এই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন।