শেখ হাসিনার ‘অপারেশন সেপ্টেম্বর’ মিশন

127

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যই শুধু নয়, সাড়া বাংলাদেশের জন্য আগস্ট শোকের মাস। পুরো জাতি এই শোকে মুহ্যমান থাকে। আর এই শোকের মাসের পর বাংলাদেশর অনেকগুলো ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিবছরই এটা দেখা গেছে। আমরা যদি গতবছরকেও দেখি, সেপ্টেম্বর মাসেই ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হয়েছিলো, যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে দুর্বৃত্তায়ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন শেখ হাসিনা। প্রতিবছরই সেপ্টেম্বর মাসের একটা বড় সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য। কিন্তু এই বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপস্থিতির মাধ্যমে হবে নাকি ভার্চুয়ালি হবে তা নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জাতিসংঘে থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানানো হচ্ছে যে, এবার সাধারণ পরিষদ ভার্চুয়ালির দিকেই এগুচ্ছে। সেক্ষেত্রে হয়তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার দেশের বাইরে যাবেন না। সেপ্টেম্বরে পুরো মাসটাই তিনি দেশে থাকবেন। আগস্ট মাস শোকের মাস হওয়ার কারণে যে পরিবর্তন বা আবর্জনা পরিস্কারে তিনি হাত দেননি। সেটি সেপ্টেম্বরে তিনি কঠোরভাবে প্রয়োগ করবেন।

এরকম ধারণার কারণ হলো প্রতিবছর সেপ্টেম্বরেই শেখ হাসিনা কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে। তাই এবারের সেপ্টেম্বরে শেখ হাসিনা কি করবেন, ‘অপারেশন সেপ্টেম্বর’র মিশন কি হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা কল্পনা চলছে। একাধিক আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে যে, ‘অপারেশন সেপ্টেম্বর’র কতগুলো সুনির্দিষ্ট বিষয় শেখ হাসিনার এজেন্ডার মধ্যে থাকতে পারে। এগুলো হলো;

মন্ত্রিসভায় রদবদল:

দীর্ঘদিন ধরেই মন্ত্রিসভার রদবদলের কথা বলা হচ্ছিলো। বিশেষ করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুর পর সেখানে কোন মন্ত্রী দেওয়া হয়নি। অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলোতে যেখানে কাজে গতি নেই, অস্বচ্ছতা রয়েছে এবং মন্ত্রীদের ব্যর্থতার অভিযোগ আছে, সেখানে কাজে গতি আনার জন্য মন্ত্রণালয়ে রদবদলের গুঞ্জন একটি সার্বক্ষণিক আলোচনার বিষয়। তবে শোকের মাস হওয়ার কারণে আগস্ট মাসে এই পরিবর্তনগুলো শেখ হাসিনা খুব একটা করেন না। সেপ্টেম্বরে তিনি মন্ত্রিসভার রদবদল করবেন কিনা সেটি একটি দেখার বিষয়। এটি অবশ্যই তাঁর এজেন্ডার একটি বিষয় বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা। কারণ সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলার ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ হবে তার প্রধান এজেন্ডা। এ কারণে মন্ত্রিসভার রদবদলকে তিনি প্রাধান্য দিতে পারেন।

শুদ্ধি অভিযান

আওয়ামী লীগ সভাপতি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে বিজয়ের পরপরই বলেছিলেন, তার প্রধান এজেন্ডা হলো দুর্নীতি বিরোধী অভিযান। বিভিন্নভাবে তিনি দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখন দুর্নীতি বন্ধটা তার জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় টাকার সাশ্রয় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি টাকার অপব্যবহার বন্ধ করা আরো গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে যদি দুর্নীতি বন্ধ করা যায় তাহলেই আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে সঙ্কটগুলোর কথা বলা হচ্ছে তা কোনভাবে থাকবে না। আর এ কারণেই শেখ হাসিনা আরো কঠোরভাবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই এ ব্যাপারে তার পদক্ষেপগুলো আরো দৃশ্যমান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দল গোছানো

আওয়ামী লীগের ভেতর অনেকরকমের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাহেদ-পাপিয়ার মতো দুর্বৃত্তরা আওয়ামী লীগে কিভাবে ঢুকে পড়ছে এবং বদনাম করছে এটি শেখ হাসিনার একটি বড় মাথা ব্যাথার কারণ। আর এ কারণেই তিনি দলের ভেতর কয়েকদফা শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার নির্দেশনাটা পুরোপুরি প্রতিপালিত হয়নি। আর এ কারণেই এবার শেখ হাসিনা দলের ভেতর একটা বড় ধরণের শুদ্ধি অভিযান করবেন এবং দলে যারা অনুপ্রবেশকারী আছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠিন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের জবাবদিহিতা

এই সময়ের মধ্যে প্রশাসনেরও কিছু ব্যর্থতা রয়েছে। সিনহার ঘটনা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রশাসনের এইসব বিষয় শেখ হাসিনা নিজেই সমাধান করেছেন। কিন্তু এগুলোর একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দরকার বলে মনে করেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। আর এখানেই দেখা যাবে, শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা এবং ব্যবস্থাপনা। সেপ্টেম্বর মাসে তিনি এ ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় নতুন কর্মকৌশল

ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা করোনার সঙ্গে বসবাসের কৌশল গ্রহণ করেছেন। সেই কৌশলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে সঙ্কট মোকাবিলার ক্ষেত্রে আরো কিছু সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কৌশল এবং রুপ পরিকল্পনা নিয়ে সেপ্টেম্বরে শেখ হাসিনা আসবেন বলে মনে করছেন নীতি নির্ধারকরা।

তবে বাংলাদেশের করোনাসঙ্কটের পরবর্তী রাজনীতি এবং বাংলাদেশ কোনপথে যাচ্ছে এটি স্পষ্ট হবে সেপ্টেম্বর নাগাদ। তখনই বোঝা যাবে যে, বাংলাদেশ করোনা সঙ্কটের পর ঘুরে দাঁড়ানো একটি দেশ নাকি করোনা সঙ্কটে নাস্তানাবুদ হওয়া একটা দেশ।