ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ঈদের পর ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পতনের বৃত্ত থেকে বের হয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। করোনা মহামারির মধ্যেও ঈদুল আজহার পরের দুই সপ্তাহের (৩ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট) আট কার্য দিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা।

একইসঙ্গে এই সময়ে সূচকের বড় উত্থানও দেখা গেছে ডিএসই ও সিএসইতে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। টানা সূচকের উত্থান এবং বাজার মূলধন বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নতুন কমিশনের সাহসী পদক্ষেপের কারণে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা দেখা দিয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, শেয়ারের দাম কমে গেলে বাজার মূলধন কমে যায়। আর শেয়ারের দাম বাড়লে বাজার মূলধন বাড়ে, এটিই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে করোনাকালে সূচকের টানা উত্থান নতুন কমিশনের সাহসী পদক্ষেপের কারণে হয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা আস্থা সঙ্কটে ভুগছিলেন। বিএসইসির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন একাধিক সাহসী পদক্ষেপ বিশেষ করে ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বড় কোম্পানিকে জরিমানা এবং পরিচালকদের শেয়ার ধারণের সময় বেঁধে দেওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। এতে বাজার ইতিবাচক হতে শুরু করেছে।

গত আট কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। গত ৩ আগস্ট লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। ৮ কার্যদিবসে এটি বেড়ে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭ কোটি টাকায় অবস্থান করছে। একইসঙ্গে গত আট কার্যদিবসে ডিএসইর সব সূচক বেড়েছে। ৩ আগস্ট ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল চার হাজার ২১৪ পয়েন্ট। বর্তমানে সেটি চার হাজার ৭০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ এই আট কার্যদিবসে ডিএসইর সাধারণ সূচক ৪৮৯ পয়েন্ট বেড়েছে। এছাড়া ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ১১২ পয়েন্ট এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৭৮ পয়েন্ট যথাক্রমে ১০৮৮ ও ১৫৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অপরদিকে ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১ হাজার ৯৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। আট কার্যদিবসে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৬১ পয়েন্টে অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে সিএসইর সার্বিক সূচক বেড়েছে ১৪০৪ পয়েন্ট।

বাজারে সূচকের টানা উত্থানকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, টানা এক দশক বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ছিল না। এক দশক অস্থিরতার পর এরকম উত্থান স্বাভাবিক। শুধু তাই নয় নতুন কমিশনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরায় কেটে গেছে বাজারে তারল্য সংকট।

এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, গত এক দশক খাইরুল কমিশন অনেক পদক্ষেপ নিলেও সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। কিন্তু নতুন কমিশনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়েছে। এতে বাজারে বিনিয়োগকারীরা আসছেন এবং তারল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকবে বলে আমার আশা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ঈদের পর ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৩:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পতনের বৃত্ত থেকে বের হয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। করোনা মহামারির মধ্যেও ঈদুল আজহার পরের দুই সপ্তাহের (৩ আগস্ট থেকে ১৩ আগস্ট) আট কার্য দিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা।

একইসঙ্গে এই সময়ে সূচকের বড় উত্থানও দেখা গেছে ডিএসই ও সিএসইতে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। টানা সূচকের উত্থান এবং বাজার মূলধন বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, নতুন কমিশনের সাহসী পদক্ষেপের কারণে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা দেখা দিয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, শেয়ারের দাম কমে গেলে বাজার মূলধন কমে যায়। আর শেয়ারের দাম বাড়লে বাজার মূলধন বাড়ে, এটিই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে করোনাকালে সূচকের টানা উত্থান নতুন কমিশনের সাহসী পদক্ষেপের কারণে হয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা আস্থা সঙ্কটে ভুগছিলেন। বিএসইসির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বর্তমান কমিশন একাধিক সাহসী পদক্ষেপ বিশেষ করে ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, বড় কোম্পানিকে জরিমানা এবং পরিচালকদের শেয়ার ধারণের সময় বেঁধে দেওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। এতে বাজার ইতিবাচক হতে শুরু করেছে।

গত আট কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২৯ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। গত ৩ আগস্ট লেনদেন শুরুর আগে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা। ৮ কার্যদিবসে এটি বেড়ে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭ কোটি টাকায় অবস্থান করছে। একইসঙ্গে গত আট কার্যদিবসে ডিএসইর সব সূচক বেড়েছে। ৩ আগস্ট ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল চার হাজার ২১৪ পয়েন্ট। বর্তমানে সেটি চার হাজার ৭০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অর্থাৎ এই আট কার্যদিবসে ডিএসইর সাধারণ সূচক ৪৮৯ পয়েন্ট বেড়েছে। এছাড়া ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ১১২ পয়েন্ট এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৭৮ পয়েন্ট যথাক্রমে ১০৮৮ ও ১৫৯৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অপরদিকে ৩ আগস্ট চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১ হাজার ৯৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। আট কার্যদিবসে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৬১ পয়েন্টে অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে সিএসইর সার্বিক সূচক বেড়েছে ১৪০৪ পয়েন্ট।

বাজারে সূচকের টানা উত্থানকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, টানা এক দশক বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ছিল না। এক দশক অস্থিরতার পর এরকম উত্থান স্বাভাবিক। শুধু তাই নয় নতুন কমিশনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরায় কেটে গেছে বাজারে তারল্য সংকট।

এ ব্যাপারে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, গত এক দশক খাইরুল কমিশন অনেক পদক্ষেপ নিলেও সেগুলো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। কিন্তু নতুন কমিশনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়েছে। এতে বাজারে বিনিয়োগকারীরা আসছেন এবং তারল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি অব্যাহত থাকবে বলে আমার আশা।