ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ফেসবুক বান্ধবীর সঙ্গে করোনা নিয়ে চ্যাট করে ব্যবসায়ী খোয়ালেন ৫৫ লাখ টাকা!

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

করোনার ভ্যাকসিন তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ করার টোপ দিয়ে স্কটিস নাগরিক নারীর ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হলেন ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার এক ব্যাবসায়ী। খোয়ালেন প্রায় ৫৫ লাখ টাকা। প্রতারিত ব্যক্তির নাম আশিস সাউ।

আশিসের দাবি, গত ৬ এপ্রিল তার সঙ্গে ওই নারীর প্রথম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। নিজেকে স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ওই নারী আলাপ জমান। ওই নারী নিজেকে আমেরিকার একটি ওষুধ প্রস্তুতকারি সংস্থার প্রোকিওরমেন্ট ম্যানেজার বলে পরিচয় দেন।

গত ২১জুন চ্যাট চলাকালীন ওই নারী আশিকে জানান, তাদের সংস্থা করোনা প্রতিষেধক ভ্যাকসিন ও ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে। ভারত থেকেই নেওয়া হচ্ছে এই ওষুধের কাঁচামাল। সেই কাঁচামাল যারা পাঠাচ্ছেন, তারা মোটা কমিশন পাচ্ছেন। আশিসকেও সে ওই কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রথমে তিনি না করে দেন। পরে অবশ্য তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। তারপরই ওই নারী আশিসকে সাহায্য করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। এরপর খুব দ্রুত কাঁচামাল প্রস্তুতকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

মহারাষ্ট্রের সেই সংস্থার ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইলসহ যাবতীয় তথ্য দিয়ে দেন। আশিসকে জানিয়ে দেন, ৬ জুলাই বিদেশ থেকে বিশেষ ফ্লাইট গিয়ে ওই কাঁচামাল নিয়ে যাবে। হাতে সময় কম। তাই আশিস ফোন নম্বর পাওয়া মাত্র দেরি না করে কাঁচামাল কেনার জন্য অর্ডারও দিয়ে দেন।

কিছুদিন পর মহারাষ্ট্রের সেই সংস্থা জানায়, মোট দামের ৪০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হবে। সেই টাকা পাওয়ার কিছুদিন পর ফের জানানো হয়, আরও টাকা দিতে হবে। তা না হলে কাঁচামাল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এইভাবে ধাপে ধাপে ৫৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়।

দিনের পর দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও কাঁচামাল তার নাগালে আসেনি। এমনকি তার কমিশনের যে টাকা তার পাওয়ার কথা ছিল সেই সংক্রান্ত আর বি আই’র নাম করে একটি ভুয়া মেল পান তিনি। তখন বুঝতে পারেন, প্রতারকচক্রের পাল্লায় পড়েছেন তিনি। এরপর একাধিকবার সেইসব নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। তিনি মোট তিনটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। সেইসব অ্যাকাউন্ট রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের বলে পরে জানা গেছে। আশিস ইতিমধ্যেই পাঁশকুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সিআইডিকেও পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। জেলা পুলিশ সুপার সুনীল কুমার যাদবের বক্তব্য, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ফেসবুক বান্ধবীর সঙ্গে করোনা নিয়ে চ্যাট করে ব্যবসায়ী খোয়ালেন ৫৫ লাখ টাকা!

আপডেট সময় ০৬:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২০

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

করোনার ভ্যাকসিন তৈরির কাঁচামাল সরবরাহ করার টোপ দিয়ে স্কটিস নাগরিক নারীর ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হলেন ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়ার এক ব্যাবসায়ী। খোয়ালেন প্রায় ৫৫ লাখ টাকা। প্রতারিত ব্যক্তির নাম আশিস সাউ।

আশিসের দাবি, গত ৬ এপ্রিল তার সঙ্গে ওই নারীর প্রথম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। নিজেকে স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ওই নারী আলাপ জমান। ওই নারী নিজেকে আমেরিকার একটি ওষুধ প্রস্তুতকারি সংস্থার প্রোকিওরমেন্ট ম্যানেজার বলে পরিচয় দেন।

গত ২১জুন চ্যাট চলাকালীন ওই নারী আশিকে জানান, তাদের সংস্থা করোনা প্রতিষেধক ভ্যাকসিন ও ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে। ভারত থেকেই নেওয়া হচ্ছে এই ওষুধের কাঁচামাল। সেই কাঁচামাল যারা পাঠাচ্ছেন, তারা মোটা কমিশন পাচ্ছেন। আশিসকেও সে ওই কাজে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রথমে তিনি না করে দেন। পরে অবশ্য তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান। তারপরই ওই নারী আশিসকে সাহায্য করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। এরপর খুব দ্রুত কাঁচামাল প্রস্তুতকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

মহারাষ্ট্রের সেই সংস্থার ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইলসহ যাবতীয় তথ্য দিয়ে দেন। আশিসকে জানিয়ে দেন, ৬ জুলাই বিদেশ থেকে বিশেষ ফ্লাইট গিয়ে ওই কাঁচামাল নিয়ে যাবে। হাতে সময় কম। তাই আশিস ফোন নম্বর পাওয়া মাত্র দেরি না করে কাঁচামাল কেনার জন্য অর্ডারও দিয়ে দেন।

কিছুদিন পর মহারাষ্ট্রের সেই সংস্থা জানায়, মোট দামের ৪০ শতাংশ অগ্রিম দিতে হবে। সেই টাকা পাওয়ার কিছুদিন পর ফের জানানো হয়, আরও টাকা দিতে হবে। তা না হলে কাঁচামাল পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এইভাবে ধাপে ধাপে ৫৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা তার কাছ থেকে নিয়ে নেয়।

দিনের পর দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও কাঁচামাল তার নাগালে আসেনি। এমনকি তার কমিশনের যে টাকা তার পাওয়ার কথা ছিল সেই সংক্রান্ত আর বি আই’র নাম করে একটি ভুয়া মেল পান তিনি। তখন বুঝতে পারেন, প্রতারকচক্রের পাল্লায় পড়েছেন তিনি। এরপর একাধিকবার সেইসব নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু ব্যর্থ হন। তিনি মোট তিনটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। সেইসব অ্যাকাউন্ট রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রের বলে পরে জানা গেছে। আশিস ইতিমধ্যেই পাঁশকুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। সিআইডিকেও পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। জেলা পুলিশ সুপার সুনীল কুমার যাদবের বক্তব্য, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলছে।