ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মহামারীকালে দুই মাসে রেমিটেন্সে রেকর্ড

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঈদের আগের মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স) এসেছে ২৬০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। একক মাসে এত বেশি প্রবাসী আয় এর আগে আর আসেনি। একক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল ঠিক আগের মাসেই ১৮৩ কোটি ডলার (প্রায় ১৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা)। সেই হিসাবে এক মাসেই প্রবাসী আয় বেশি এসেছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। আর দুই মাসের হিসাব এক করলে রেমিটেন্সের অঙ্ক দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। দেশে দুই মাসে এত রেমিটেন্স আগে কখনও আসেনি।

করোনাভাইরাসের মধ্যে উচ্চ প্রবাসী আয় দেখে উচ্ছ্বসিত ব্যাংক কর্মকর্তারা। কারণ প্রবাসী আয় আসায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনে দাম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকা কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। দীর্ঘদিন ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সায় প্রতি ডলারের দাম আটকে রেখেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এখন কমে হয়েছে ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির যুগান্তরকে বলেন, রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান সরকারের। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয় রয়েছে। এছাড়া সরকার ঘোষিত রেমিটেন্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা কীভাবে গ্রাহক পেতে পারে সেজন্য একটি সহজ নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা যায়, ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আয় আসে। জুলাই মাসে ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৮০ কোটি ডলার বা ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা যে কোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া বলেন, সরকারি ২% প্রণোদনার সঙ্গে ব্যাংকও ১% প্রণোদনা দিয়েছে কিছু ক্ষেত্রে। ফলে বৈধ পথে আয় বেড়েছে। এছাড়া করোনার কারণে অনেকে সঞ্চয়ের টাকাও দেশে পাঠাচ্ছেন। এর বাইরে ঈদ এলে রেমিটেন্স বাড়ে। এসব কারণে এত বেশি রেমিটেন্স এসেছে। তবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে দেশে ফেরত আসছেন। এর বিপরীতে নতুন করে জনশক্তি পাঠাতে না পারলে ভবিষ্যতে এত আয় আসবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে জুলাই মাসে ৪২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় আসে। যা যে কোনো মাসের চেয়ে বেশি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এক মাসে এত আয় আগে আসেনি। চার শাখার মাধ্যমে একদিনে ৩ কোটি ডলারের বেশি আয় এসেছে। এসব শাখার রেমিটেন্স কর্মকর্তা একটি করে ল্যাপটপ উপহার দেয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারের ২ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি। এর ফলে আয় আসা বেড়েছে। তবে মনে হয় না, এরপর কোনো মাসে এত প্রবাসী আয় আসবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে আয় আসছে, তা সাময়িক। এতে উচ্ছ্বাসের কিছু নেই। করোনার কারণে অনেক প্রবাসীকে দেশে ফেরত আসতে হচ্ছে। তারা সঞ্চয় ভেঙে টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন। বিদেশে যে সম্পদ অর্জন করেছেন, সবকিছু বিক্রি করে দেশে ফেরত আসছেন। দেশে ফেরত এসব মানুষকে কাজে লাগানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে গত জুন মাসে প্রবাসীরা ১৮৩ কোটি ডলার আয় পাঠান। এর আগে কোনো একক মাসে এত আয় আসেনি। সব মিলিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীদের ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার আয় দেশে আসে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। আর গত জুলাইয়ে সেই রেকর্ড ভেঙে প্রবাসী আয় এসেছে ২৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। যেসব দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয় আসে, সেসব দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রেমিটেন্স হাউস ও ব্যাংকগুলো বন্ধ করা হয়েছিল। এখন অনেক দেশ খুলে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশি শ্রমিকরা পড়েছেন বিপদের মুখে। অনেকে কাজ হারিয়ে ফিরে আসছেন। প্রবাসী আয় আহরণের শীর্ষ ১৫টি উৎস দেশ হল- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও জর্ডান।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, সংকটে থাকলেও ঈদের কারণে অনেকেই টাকা পাঠিয়েছেন। আবার বন্যা ও করোনার কারণে অনেক সাহায্যও আসছে। যারা দেশে চলে আসছেন, তারাও টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। কারণ বহন করে বেশি টাকা আনা যায় না। এ জন্য আয় বেড়েছে। সামনের দিনে প্রবাসী আয় পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে।

বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়াতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। সে অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ২ টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন। বাজেটে এজন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত করে অনেক ব্যাংক আরও ১ শতাংশ বেশি প্রণোদনা দিচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মহামারীকালে দুই মাসে রেমিটেন্সে রেকর্ড

আপডেট সময় ০৬:৩৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঈদের আগের মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় (রেমিটেন্স) এসেছে ২৬০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। একক মাসে এত বেশি প্রবাসী আয় এর আগে আর আসেনি। একক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল ঠিক আগের মাসেই ১৮৩ কোটি ডলার (প্রায় ১৫ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা)। সেই হিসাবে এক মাসেই প্রবাসী আয় বেশি এসেছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। আর দুই মাসের হিসাব এক করলে রেমিটেন্সের অঙ্ক দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। দেশে দুই মাসে এত রেমিটেন্স আগে কখনও আসেনি।

করোনাভাইরাসের মধ্যে উচ্চ প্রবাসী আয় দেখে উচ্ছ্বসিত ব্যাংক কর্মকর্তারা। কারণ প্রবাসী আয় আসায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনে দাম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকা কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। দীর্ঘদিন ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সায় প্রতি ডলারের দাম আটকে রেখেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, এখন কমে হয়েছে ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির যুগান্তরকে বলেন, রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান সরকারের। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও শ্রম মন্ত্রণালয় রয়েছে। এছাড়া সরকার ঘোষিত রেমিটেন্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা কীভাবে গ্রাহক পেতে পারে সেজন্য একটি সহজ নীতিমালা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জানা যায়, ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আয় আসে। জুলাই মাসে ব্যাংকটির মাধ্যমে এসেছে ৮০ কোটি ডলার বা ৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা যে কোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া বলেন, সরকারি ২% প্রণোদনার সঙ্গে ব্যাংকও ১% প্রণোদনা দিয়েছে কিছু ক্ষেত্রে। ফলে বৈধ পথে আয় বেড়েছে। এছাড়া করোনার কারণে অনেকে সঞ্চয়ের টাকাও দেশে পাঠাচ্ছেন। এর বাইরে ঈদ এলে রেমিটেন্স বাড়ে। এসব কারণে এত বেশি রেমিটেন্স এসেছে। তবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে দেশে ফেরত আসছেন। এর বিপরীতে নতুন করে জনশক্তি পাঠাতে না পারলে ভবিষ্যতে এত আয় আসবে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে জুলাই মাসে ৪২ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয় আসে। যা যে কোনো মাসের চেয়ে বেশি। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এক মাসে এত আয় আগে আসেনি। চার শাখার মাধ্যমে একদিনে ৩ কোটি ডলারের বেশি আয় এসেছে। এসব শাখার রেমিটেন্স কর্মকর্তা একটি করে ল্যাপটপ উপহার দেয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারের ২ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত ১ শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি। এর ফলে আয় আসা বেড়েছে। তবে মনে হয় না, এরপর কোনো মাসে এত প্রবাসী আয় আসবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে আয় আসছে, তা সাময়িক। এতে উচ্ছ্বাসের কিছু নেই। করোনার কারণে অনেক প্রবাসীকে দেশে ফেরত আসতে হচ্ছে। তারা সঞ্চয় ভেঙে টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন। বিদেশে যে সম্পদ অর্জন করেছেন, সবকিছু বিক্রি করে দেশে ফেরত আসছেন। দেশে ফেরত এসব মানুষকে কাজে লাগানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে গত জুন মাসে প্রবাসীরা ১৮৩ কোটি ডলার আয় পাঠান। এর আগে কোনো একক মাসে এত আয় আসেনি। সব মিলিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীদের ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার আয় দেশে আসে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। আর গত জুলাইয়ে সেই রেকর্ড ভেঙে প্রবাসী আয় এসেছে ২৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। যেসব দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয় আসে, সেসব দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রেমিটেন্স হাউস ও ব্যাংকগুলো বন্ধ করা হয়েছিল। এখন অনেক দেশ খুলে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশি শ্রমিকরা পড়েছেন বিপদের মুখে। অনেকে কাজ হারিয়ে ফিরে আসছেন। প্রবাসী আয় আহরণের শীর্ষ ১৫টি উৎস দেশ হল- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও জর্ডান।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, সংকটে থাকলেও ঈদের কারণে অনেকেই টাকা পাঠিয়েছেন। আবার বন্যা ও করোনার কারণে অনেক সাহায্যও আসছে। যারা দেশে চলে আসছেন, তারাও টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। কারণ বহন করে বেশি টাকা আনা যায় না। এ জন্য আয় বেড়েছে। সামনের দিনে প্রবাসী আয় পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে।

বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়াতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। সে অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ২ টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন। বাজেটে এজন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত করে অনেক ব্যাংক আরও ১ শতাংশ বেশি প্রণোদনা দিচ্ছে।