ঢাকা ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক মব নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে: টিআইবি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে: সাদিক কায়েম চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না তারেক রহমান: দুলু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত তরুণদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ‘চায়ের আড্ডা’

এই নারীদের কেন জেলে আটকে রেখেছে সৌদি সরকার?

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবের রক্ষণশীল সমাজে যখন প্রথমবারের মতো নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার দেওয়া হল তখন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছিল।

সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে দু’বছর আগে। কিন্তু এই অধিকারের জন্য সে সময় যারা আন্দোলন করছিলেন, তাদের অনেকেই এখনও কারাগারে আটক রয়েছেন।

তাদের পরিবার অভিযোগ করছেন, বন্দিদের অনেকেই নির্যাতন ও নানা ধরনের যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
তাদের মধ্যে একজন লুজাইন আল-হাথলুল। তিনি বলেন, ‘মেয়েদের গাড়ি চালানোর আন্দোলনের সমর্থনে আমি আমার নিজের গাড়ি চালাচ্ছি, কিন্তু আমিরাতের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে।’

লুজাইনকে ২০১৮ সালের মে মাসে গ্রেফতার করা হয়। ওই একই বছর নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

অতি রক্ষণশীল সৌদি আরবে এই সংস্কারের জন্য ব্যাপক প্রশংসিত হলেও আটকের দুই বছর পরও মুক্তি পাননি এই আন্দোলনকারীরা।

নারীদের গাড়ি চালানোর স্বাধীনতাই যদি দেবেন তাহলে কেন শীর্ষ আন্দোলনকারীদের একজনকে এখনও কারাগারে আটকে রাখবেন?

এ বিষয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘এই বিষয়টির সঙ্গে এর (আটক) কোনও সম্পর্ক নেই। শুরুতেই আমি যেমনটা বলেছি সৌদি আরবের আইনের প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে। এর সঙ্গে আমরা একমত হই বা না হই। কিংবা এর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে একমত হই বা না হই।’

লুইজানের পরিবারের অভিযোগ, আটক থাকা অবস্থায় তার ওপর নির্যাতন হয়েছে। শুধু নির্যাতন করার জন্যই তার ওপর নির্যাতন হয়েছে।

লুইজান আল-হাথলুলের ভাই ওয়ালিদ আল-হাথলুল বলেন, ‘একদিন শেকল বাঁধা অবস্থায় লুইজানকে টেনে হিঁচড়ে মাটির কয়েক তলা নিচে এক কামরায় নিয়ে যাওয়া হয়। সে বুঝতে পারছিল না তাকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে একটা ঘরের মধ্যে একজনকে ডাকা হয়। গলার স্বর শুনে লুইজান একজন বৃদ্ধকে চিনতে পারে, যে এর আগে নির্যাতন করার সময় তাকে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়েছিল।’

সৌদি যুবরাজ অভিযোগটি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছি।’

এদিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদ মাধ্যমে এই নারীদের বিশ্বাসঘাতক নামে ডাকা হয়।

ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন অব হিউম্যান রাইটসের আলী আদুবিসি বলেন, ‘শুধু তাদের কর্মকাণ্ডের জন্যই এদের আটক করা হয়নি। আমার বিশ্বাস এদের এখনও আটক রাখার মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের নারীদের আন্দোলনকারীদের একটি স্থায়ী হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে যে এসব নারীর মতই তোমাদের ভাগ্যেও একই ব্যাপার ঘটবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক

এই নারীদের কেন জেলে আটকে রেখেছে সৌদি সরকার?

আপডেট সময় ০২:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি আরবের রক্ষণশীল সমাজে যখন প্রথমবারের মতো নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার দেওয়া হল তখন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছিল।

সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে দু’বছর আগে। কিন্তু এই অধিকারের জন্য সে সময় যারা আন্দোলন করছিলেন, তাদের অনেকেই এখনও কারাগারে আটক রয়েছেন।

তাদের পরিবার অভিযোগ করছেন, বন্দিদের অনেকেই নির্যাতন ও নানা ধরনের যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
তাদের মধ্যে একজন লুজাইন আল-হাথলুল। তিনি বলেন, ‘মেয়েদের গাড়ি চালানোর আন্দোলনের সমর্থনে আমি আমার নিজের গাড়ি চালাচ্ছি, কিন্তু আমিরাতের ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে।’

লুজাইনকে ২০১৮ সালের মে মাসে গ্রেফতার করা হয়। ওই একই বছর নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

অতি রক্ষণশীল সৌদি আরবে এই সংস্কারের জন্য ব্যাপক প্রশংসিত হলেও আটকের দুই বছর পরও মুক্তি পাননি এই আন্দোলনকারীরা।

নারীদের গাড়ি চালানোর স্বাধীনতাই যদি দেবেন তাহলে কেন শীর্ষ আন্দোলনকারীদের একজনকে এখনও কারাগারে আটকে রাখবেন?

এ বিষয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, ‘এই বিষয়টির সঙ্গে এর (আটক) কোনও সম্পর্ক নেই। শুরুতেই আমি যেমনটা বলেছি সৌদি আরবের আইনের প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে। এর সঙ্গে আমরা একমত হই বা না হই। কিংবা এর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে একমত হই বা না হই।’

লুইজানের পরিবারের অভিযোগ, আটক থাকা অবস্থায় তার ওপর নির্যাতন হয়েছে। শুধু নির্যাতন করার জন্যই তার ওপর নির্যাতন হয়েছে।

লুইজান আল-হাথলুলের ভাই ওয়ালিদ আল-হাথলুল বলেন, ‘একদিন শেকল বাঁধা অবস্থায় লুইজানকে টেনে হিঁচড়ে মাটির কয়েক তলা নিচে এক কামরায় নিয়ে যাওয়া হয়। সে বুঝতে পারছিল না তাকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে একটা ঘরের মধ্যে একজনকে ডাকা হয়। গলার স্বর শুনে লুইজান একজন বৃদ্ধকে চিনতে পারে, যে এর আগে নির্যাতন করার সময় তাকে ধর্ষণ করার হুমকি দিয়েছিল।’

সৌদি যুবরাজ অভিযোগটি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছি।’

এদিকে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদ মাধ্যমে এই নারীদের বিশ্বাসঘাতক নামে ডাকা হয়।

ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন অব হিউম্যান রাইটসের আলী আদুবিসি বলেন, ‘শুধু তাদের কর্মকাণ্ডের জন্যই এদের আটক করা হয়নি। আমার বিশ্বাস এদের এখনও আটক রাখার মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের নারীদের আন্দোলনকারীদের একটি স্থায়ী হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে যে এসব নারীর মতই তোমাদের ভাগ্যেও একই ব্যাপার ঘটবে।’