অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
নিজের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরো জোরদার করবে। এমনটাই জানিয়ে দিলেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির হাতামি। টেলিভিশনের একটি লাইভ অনুষ্ঠানে দেয়া সরাসরি বক্তব্যে হাতামি এমনটাই মন্তব্য করেন।
জেনারেল হাতামি বলেন, ইরানের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি সন্তোষজনক এবং শত্রুদের হামলা মোকাবেলায় এটি একটি অন্যতম উপাদান। তিনি আরো বলেন, “তেহরান যেহেতু তার প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করেছে, শত্রুরাও এই ক্ষমতা অতিক্রম করতে পারে। তাই আমরা শত্রুদের গতিবিধি অত্যন্ত সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করব এবং আমাদেরকেও তাদের মতো শক্তি অর্জন করতে হবে।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, “ইরানের সামরিক নীতির গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, ব্যাপকভিত্তিক প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজেদের সুরক্ষা দেয়া।”
হাতামি বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা শক্তি এমন মাত্রায় উন্নীত করব যে, কেউ যাতে ইরানে হামলা চালানোর কোনো দুঃসাহস না দেখায়।” রাশিয়া থেকে কেনা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইরানের সব স্পর্শকাতর স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন নিষিদ্ধ
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এ কথা বলেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির মুখপাত্র হোসেইন নাকাভি হোসেইনি।
তিনি আজ (মঙ্গলবার) বলেন, ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুরোধ করা কিংবা চাপ সৃষ্টি করা ২০১৫ সালে সই হওয়া পরমাণু সমোঝাতার চেতনা-বিরোধী। তিনি বলেন, ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শন পরিপূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় তথ্যাদি তুলে ধরে খুব কঠিনভাবে জবাব দিয়েছে ।
হোসেইন নাকাভি বলেন, “২০১৫ সালে যে পরমাণু সমঝোতা সই হয়েছে সে অনুযায়ী শুধু ইরানের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন করা যাবে; সামরিক স্থাপনা নয়। আমরা এ নিয়ে আর তেমন কোনো কথা বলতে চাই না; ইরানের সামরিক স্থাপনা আমরা কাউকে পরিদর্শন করতে দেব না।”
জাতিসংঘে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি সম্প্রতি ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ পরিদর্শন করেছেন এবং ইরানের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দেয়ার জন্য তিনি সংস্থার প্রধান ইউকিয়া আমানোর কাছে প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমানো যেন ইরানকে অনুরোধ করে তাদের সামরিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দেয়ার জন্য।
৩ হাজার কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে ইরান
ইরান আগামী মাসে তিন হাজার কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইনভেস্টমেন্ট, ইকনোমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্স অর্গানাইজেশনের প্রধান মোহাম্মাদ খাজায়ি। এ ঋণ ইরানের অর্থনীতিকে দুবৃল অবস্থার মধ্যে ফেলবে বলে যে সমালোচনা করা হচ্ছে তিনি তা নাকচ করেছেন।
খাজায়ি বলেন, এ অর্থ পাওয়ার মানে এই নয় যে, তা দেশকে ঋণের দিকে ঠেলে দেবে বরং তা দেশের অর্থনীতিকে একটা সক্ষমতা দেবে। এ তহবিল পেলে দেশের বিভিন্ন প্রকল্প ঠিকমতো বাস্তবায়ন করা যাবে যা হবে লাভজনক। রাজধানী তেহরানে মঙ্গলবার ইসলামি ব্যাংকিং বিষয়ক এক সম্মেলনে মোহাম্মাদ খাজায়ি এসব কথা বলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিমব্যাংক থেকে ইরান আগামী মাসে তিন হাজার কোটি ডলার ঋণ নিতে যাচ্ছে। তবে দেশের বেশকিছু গণমাধ্যম এর বিরোধিতা করে বলছে, এ ধরনের ঋণ দেশকে শুধু আর্থিক দিক দিয়ে দায়বদ্ধ করবে। মূলত এসব বক্তব্যের জবাবে খাজায়ি আজকের সম্মেলনে ঋণ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ইরানের ব্যাংক ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মান প্রবর্তন করতে হবে; অন্য ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে না উঠলে সম্পদের লেনদেন সম্ভব হবে না।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























