ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

চীন কি সত্যিই পিছু হটছে নাকি ৬২’র পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

গলওয়ান থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে চীনা সেনা বাহিনী। কিন্তু এই পিছিয়ে যাওয়া ‘সাময়িক’ নয়তো?

১৯৬২ সালের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই সতর্ক ভারত। ওই বছর গরমের শুরুতে সীমান্ত সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল ভারত এবং চীন। তারপর পিছিয়েও গিয়েছিল চীনা বাহিনী। কিন্তু শীতের শুরুতে গলওয়ানের তাপমাত্রা নামতেই উত্তেজনার চরমে পৌঁছায় পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। শুরু হয়েছিল ভারত-চীন যুদ্ধ। সেই রক্তাক্ত ইতিহাস স্মরণে রেখেই সীমান্তে পলক ফেলছে না নয়াদিল্লি।

১৯৬২ সালের ১৫ জুলাই। রবিবার সংবাদপত্রের শিরোনাম ছিল — ‘গলওয়ান থেকে সরে গেল চীনা সেনা’। প্রায় ছ’দশক আগের সংবাদপত্রের সেই শিরোনামই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সতর্কবার্তাও। কারণ, ১৯৬২ সালের ওই সময়ের ঠিক ৯৬ দিন পর, ২০ অক্টোবর শুরু হয়ে গিয়েছিল ভারত-চীন যুদ্ধ। আর তার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল সেই গলওয়ান।
সাবেক সেনাদের মতে, সীমান্তে দু’পা এগিয়ে, এক পা পিছোনোর নীতি নিয়েছে চীন। সুতরাং দিল্লির উচিত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে ফেরার জন্য বেইজিংকে চাপ দেওয়া।

সেনা সূত্রে খবর, উত্তেজনা এড়াতে ভারতীয় এবং চীনা সেনার মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। তাদের মতে, এগুলো ছোট পদক্ষেপ। তবে ১৯৬২ সালের ইতিহাসকে মাথায় রেখেই সতর্ক থাকার কথাও বলছেন তারা।

কী ঘটেছিল ১৯৬২ সালে ওই সময়ে?

গলওয়ান উপত্যকায় সে সময় ঘাঁটি গেড়েছিল গোর্খা রেজিমেন্ট। ৬ জুলাই চীনা প্ল্যাটুন গোর্খা বাহিনীকে দেখতে পায়। তারা হেডকোয়ার্টারে গিয়ে খবর দেয়। ৪ দিন পর ৩০০ জনের বাহিনী গলওয়ান উপত্যকায় জড়ো করে চীন। তারা গোর্খা রেজিমেন্টকে ঘিরে ফেলে। দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয় ।

১৫ জুলাই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, গলওয়ান পোস্ট থেকে ২০০ মিটার দূরে সরে চীনা সেনারা। কিন্তু তা ছিল নেহাতই ‘সাময়িক’। ফের ফিরে আসে তারা। এর পর তিন মাস ধরে নয়াদিল্লি এবং বেইজিংয়ের মধ্যে দীর্ঘ চিঠি চালাচালি চলে। এর মধ্যেই গ্রীষ্ম গড়িয়ে শীত চলে আসতে শুরু করে। গলওয়ানের তাপমাত্রাও দ্রুত নামতে থাকে। সেই সুযোগ নিয়ে ওই বছরের ২০ অক্টোবর গলওয়ান পোস্টে আচমকা হামলা চালায় চীনা বাহিনী। নিহত হন ৩৬ জন ভারতীয় সেনা। শুরু হয়ে যায় ভারত চীন যুদ্ধ। গলওয়ানসহ ভারত-চীন সীমান্তের একাধিক এলাকায় চলে যুদ্ধ।

প্রায় ৬ দশক পর এবারও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু সেই গলওয়ান। আগের ঘটনাক্রমের সঙ্গে মিলও পাওয়া যাচ্ছে কিছুটা। রবিবার রাত থেকে গালওয়ানের সংঘর্ষস্থল বা পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ থেকে পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে চীনা সেনা। পাশাপাশি গোগরা হট স্প্রিং ও প্যাংগং হ্রদের উত্তর দিকের অধিকৃত এলাকাতেও চীনা সাঁজোয়া গাড়িগুলো অনেকটাই পিছিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস মনে রেখেই সতর্ক রয়েছে ভারতীয় বাহিনী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

চীন কি সত্যিই পিছু হটছে নাকি ৬২’র পুনরাবৃত্তি ঘটতে যাচ্ছে

আপডেট সময় ০৪:২৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  

গলওয়ান থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে চীনা সেনা বাহিনী। কিন্তু এই পিছিয়ে যাওয়া ‘সাময়িক’ নয়তো?

১৯৬২ সালের যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই সতর্ক ভারত। ওই বছর গরমের শুরুতে সীমান্ত সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিল ভারত এবং চীন। তারপর পিছিয়েও গিয়েছিল চীনা বাহিনী। কিন্তু শীতের শুরুতে গলওয়ানের তাপমাত্রা নামতেই উত্তেজনার চরমে পৌঁছায় পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। শুরু হয়েছিল ভারত-চীন যুদ্ধ। সেই রক্তাক্ত ইতিহাস স্মরণে রেখেই সীমান্তে পলক ফেলছে না নয়াদিল্লি।

১৯৬২ সালের ১৫ জুলাই। রবিবার সংবাদপত্রের শিরোনাম ছিল — ‘গলওয়ান থেকে সরে গেল চীনা সেনা’। প্রায় ছ’দশক আগের সংবাদপত্রের সেই শিরোনামই এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সতর্কবার্তাও। কারণ, ১৯৬২ সালের ওই সময়ের ঠিক ৯৬ দিন পর, ২০ অক্টোবর শুরু হয়ে গিয়েছিল ভারত-চীন যুদ্ধ। আর তার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল সেই গলওয়ান।
সাবেক সেনাদের মতে, সীমান্তে দু’পা এগিয়ে, এক পা পিছোনোর নীতি নিয়েছে চীন। সুতরাং দিল্লির উচিত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে ফেরার জন্য বেইজিংকে চাপ দেওয়া।

সেনা সূত্রে খবর, উত্তেজনা এড়াতে ভারতীয় এবং চীনা সেনার মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। তাদের মতে, এগুলো ছোট পদক্ষেপ। তবে ১৯৬২ সালের ইতিহাসকে মাথায় রেখেই সতর্ক থাকার কথাও বলছেন তারা।

কী ঘটেছিল ১৯৬২ সালে ওই সময়ে?

গলওয়ান উপত্যকায় সে সময় ঘাঁটি গেড়েছিল গোর্খা রেজিমেন্ট। ৬ জুলাই চীনা প্ল্যাটুন গোর্খা বাহিনীকে দেখতে পায়। তারা হেডকোয়ার্টারে গিয়ে খবর দেয়। ৪ দিন পর ৩০০ জনের বাহিনী গলওয়ান উপত্যকায় জড়ো করে চীন। তারা গোর্খা রেজিমেন্টকে ঘিরে ফেলে। দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয় ।

১৫ জুলাই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, গলওয়ান পোস্ট থেকে ২০০ মিটার দূরে সরে চীনা সেনারা। কিন্তু তা ছিল নেহাতই ‘সাময়িক’। ফের ফিরে আসে তারা। এর পর তিন মাস ধরে নয়াদিল্লি এবং বেইজিংয়ের মধ্যে দীর্ঘ চিঠি চালাচালি চলে। এর মধ্যেই গ্রীষ্ম গড়িয়ে শীত চলে আসতে শুরু করে। গলওয়ানের তাপমাত্রাও দ্রুত নামতে থাকে। সেই সুযোগ নিয়ে ওই বছরের ২০ অক্টোবর গলওয়ান পোস্টে আচমকা হামলা চালায় চীনা বাহিনী। নিহত হন ৩৬ জন ভারতীয় সেনা। শুরু হয়ে যায় ভারত চীন যুদ্ধ। গলওয়ানসহ ভারত-চীন সীমান্তের একাধিক এলাকায় চলে যুদ্ধ।

প্রায় ৬ দশক পর এবারও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু সেই গলওয়ান। আগের ঘটনাক্রমের সঙ্গে মিলও পাওয়া যাচ্ছে কিছুটা। রবিবার রাত থেকে গালওয়ানের সংঘর্ষস্থল বা পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ থেকে পিছিয়ে যেতে শুরু করেছে চীনা সেনা। পাশাপাশি গোগরা হট স্প্রিং ও প্যাংগং হ্রদের উত্তর দিকের অধিকৃত এলাকাতেও চীনা সাঁজোয়া গাড়িগুলো অনেকটাই পিছিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস মনে রেখেই সতর্ক রয়েছে ভারতীয় বাহিনী।