ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, বিএনপির আছে: মির্জা ফখরুল

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছুদিন আগেও আমরা চিন্তা করতে পারতাম না, একটা ইলেকশন বা রাজনৈতিক সভা এভাবে রাতে করা যাবে। তখন একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল। সেই রাজত্ব থেকে আমরা আগস্টের ৫ তারিখে বেরিয়ে এসেছি। ছাত্ররা-জনতার আন্দোলনের ফলে একটা মুক্ত বাতাস পেয়েছি। এজন্যই এ নির্বাচনটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিএনপি নেতাকর্মীরাও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অসংখ্য মামলা হয়েছে। ২০ হাজার নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে, ১৭০০ মানুষ গুম হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ বছর কারাগারে নিয়েছে। তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত করেছে। আমি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১১ বার জেলে গেছি।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার ছাত্র-শ্রমিক, কৃষক নিহত হয়েছেন। এত ত্যাগ স্বীকারের পরে একটা আমরা নির্বাচন পেয়েছি। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটা নতুন পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন করতে পারব। আমাদের প্রত্যাশা হলো, এই সরকার দেশের মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করবে যেখানে মানুষ নির্ভয়ে তার কাজ করতে পারবে। সেজন্য এই নির্বাচনটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি দল যার মধ্যে উগ্রতা নেই। প্রতিশোধ নেই, প্রতিহিংসা নেই। ২৪ সালের ৫ আগস্টের রাতেই আমাদের ম্যাডাম (বিএনপি সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া) তিনি হাসপাতাল থেকে একটি বাণী দিয়েছিলেন। তখন একটু ভয়ভীতি ছিল, চারদিকে মনে হচ্ছিল আজ সর্বনাশ হয়ে যাবে। শহরে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু ছিল না। এই বাড়ি লুট হচ্ছে, ওই বাড়ি দখল হচ্ছে। তখন তিনি ওই হাসপাতালে বেড থেকে বলেছিলেন যে আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করে, অনেক রক্তপাতের পরে ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়। ভালোবাসা এবং মাতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। সেই সময় এখন আমাদের এসেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এবার নির্বাচনে আসতে পারছে না। সরকার তাদের দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। সুতরাং বিএনপি হচ্ছে এখন প্রধান দল। আরেকটি দল আসছে। যারা আমাদের সঙ্গে ছিল। এখন আপনারা কোনটাকে বেছে নেবেন, ধানের শীষ না দাঁড়িপাল্লা? ধানের শীষের অতীত আছে। ধানের শীষ প্রতিষ্ঠা করেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশকে তিনি একটা তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে ওপরে নিয়ে এসেছেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা এনেছেন। আমাদের দলই প্রথম সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহিম’ নিয়ে এসেছিল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা দাঁড়িপাল্লার কথা বলে, ধর্মের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তাদের কিন্তু উন্নয়নের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বিএনপি পাঁচবার ক্ষমতায় ছিল, এজন্য আমাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত সরকার আমাদের ছেলে-মেয়েদের কী কষ্টই না দিয়েছে। তারা চাকরিতে গেছে, রিটেনে পাস করেছে, ভাইভাতে পাস করেছে। তারপরে ইনকোয়ারি হয়। তদন্তে যখন বেরিয়ে আসে ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলে বা তার বাড়ি বিএনপি মহাসচিরের এলাকায় তখন আর চাকরি হয়নি। এটাই হয়েছে বিগত সময়গুলোতে। কিন্তু আমরা সেসব করব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। আগামী দিনগুলোতে আমরা যদি ভালো সময় চাই, ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদেরকে কাজ করার সুযোগ দিন। আমরা হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান একসঙ্গে কাজ করতে চাই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তা প্রকল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী নেদারল্যান্ডস

জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই, বিএনপির আছে: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় ১০:৩০:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছুদিন আগেও আমরা চিন্তা করতে পারতাম না, একটা ইলেকশন বা রাজনৈতিক সভা এভাবে রাতে করা যাবে। তখন একটা সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল। সেই রাজত্ব থেকে আমরা আগস্টের ৫ তারিখে বেরিয়ে এসেছি। ছাত্ররা-জনতার আন্দোলনের ফলে একটা মুক্ত বাতাস পেয়েছি। এজন্যই এ নির্বাচনটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিএনপি নেতাকর্মীরাও ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অসংখ্য মামলা হয়েছে। ২০ হাজার নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে, ১৭০০ মানুষ গুম হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ বছর কারাগারে নিয়েছে। তারেক রহমানকে বিদেশে নির্বাসিত করেছে। আমি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১১ বার জেলে গেছি।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার ছাত্র-শ্রমিক, কৃষক নিহত হয়েছেন। এত ত্যাগ স্বীকারের পরে একটা আমরা নির্বাচন পেয়েছি। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটা নতুন পার্লামেন্ট ও সরকার গঠন করতে পারব। আমাদের প্রত্যাশা হলো, এই সরকার দেশের মানুষের স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করবে যেখানে মানুষ নির্ভয়ে তার কাজ করতে পারবে। সেজন্য এই নির্বাচনটা আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি দল যার মধ্যে উগ্রতা নেই। প্রতিশোধ নেই, প্রতিহিংসা নেই। ২৪ সালের ৫ আগস্টের রাতেই আমাদের ম্যাডাম (বিএনপি সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া) তিনি হাসপাতাল থেকে একটি বাণী দিয়েছিলেন। তখন একটু ভয়ভীতি ছিল, চারদিকে মনে হচ্ছিল আজ সর্বনাশ হয়ে যাবে। শহরে আইনশৃঙ্খলা বলতে কিছু ছিল না। এই বাড়ি লুট হচ্ছে, ওই বাড়ি দখল হচ্ছে। তখন তিনি ওই হাসপাতালে বেড থেকে বলেছিলেন যে আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করে, অনেক রক্তপাতের পরে ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়। ভালোবাসা এবং মাতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। সেই সময় এখন আমাদের এসেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এবার নির্বাচনে আসতে পারছে না। সরকার তাদের দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। সুতরাং বিএনপি হচ্ছে এখন প্রধান দল। আরেকটি দল আসছে। যারা আমাদের সঙ্গে ছিল। এখন আপনারা কোনটাকে বেছে নেবেন, ধানের শীষ না দাঁড়িপাল্লা? ধানের শীষের অতীত আছে। ধানের শীষ প্রতিষ্ঠা করেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশকে তিনি একটা তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে ওপরে নিয়ে এসেছেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থা এনেছেন। আমাদের দলই প্রথম সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহিম’ নিয়ে এসেছিল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা দাঁড়িপাল্লার কথা বলে, ধর্মের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তাদের কিন্তু উন্নয়নের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। বিএনপি পাঁচবার ক্ষমতায় ছিল, এজন্য আমাদের সেই অভিজ্ঞতা আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত সরকার আমাদের ছেলে-মেয়েদের কী কষ্টই না দিয়েছে। তারা চাকরিতে গেছে, রিটেনে পাস করেছে, ভাইভাতে পাস করেছে। তারপরে ইনকোয়ারি হয়। তদন্তে যখন বেরিয়ে আসে ঠাকুরগাঁওয়ের ছেলে বা তার বাড়ি বিএনপি মহাসচিরের এলাকায় তখন আর চাকরি হয়নি। এটাই হয়েছে বিগত সময়গুলোতে। কিন্তু আমরা সেসব করব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। আগামী দিনগুলোতে আমরা যদি ভালো সময় চাই, ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদেরকে কাজ করার সুযোগ দিন। আমরা হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান একসঙ্গে কাজ করতে চাই।