ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

কুরবানির পশুর গুণাগুণ ও বয়স

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ইসলামি শরিয়ত নির্ধারিত পশু দিয়েই কুরবানি আদায় করতে হবে। এ সবের মধ্যে রয়েছে উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। কুরআনুল কারিমের ভাষায় এ সব পশুকে বাহিমাতুল আনআ’ম বলা হয়। যা এগুলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য উৎসর্গীকৃত পশু। হাদিসের ভাষায় এগুলোকে বলা উযহিয়্যাহ। যা কুরবানির দিনগুলোতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে জবাই করা হয়। চাই তা উট-উষ্ট্রী হোক; গরু-গাভী হোক কিংবা ছাগল-দুম্বা হোক।

কুরবানির পশু সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। গুণগত দিক থেকে সর্বোত্তম হল কুরবানির পশু হবে সুন্দর, নিখুঁত, অধিক গোশত সম্পন্ন এবং হৃষ্টপুষ্ট। এক কথায় প্রথম দেখায় যাতে পছন্দ হয়ে যায়।

কুরবানির পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হওয়ার জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা রয়েছে। হাদিসে এসেছে, হজরত বারা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন আর আমার হাত তার হাতের চেয়েও ছোট, তারপর বললেন, চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কুরবানি করে তা জায়েজ হবে না। আর তাহলো-

১. অন্ধ: যে গরু চোখে দেখতে পায় তা স্পষ্ট।
২. রোগাগ্রস্ত: রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।
৩. পঙ্গু: যে পশু হাটাচলা করতে পারে না। এবং
৪. আহত: যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে তা স্পষ্ট।

হাদিস গ্রন্থ নাসাঈতে আহত পশুর স্থলে ‘পাগল’ উল্লেখ করা হয়েছে। (তিরমিজি, নাসাঈ) হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, এ সব পশু দ্বারা কুরবানি করলে তার কুরবানি পরিপূর্ণ হবে না।

তাই পশু কেনার সময় উল্লেখিত বিষয়গুলো খেয়াল করতে হবে। যাতে কোনো ভাবেই হাদিসে নিষেধ এমন পশু কুরবানির জন্য ক্রয় করতে না হয়।

কুরবানির পশুর বয়স:
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানির পশুর বয়সের দিকেও বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আর তাহলো-

১. উট:
কুরবানির সময় উটের বয়স ৫ বছর হতে হবে। সহজে উট বা উষ্ট্রী পাওয়া গেলে তা যেন ৫ বছরের নিচে না হয়।

২. গরু-মহিষ:
কুরবানির সময় গরু বা মহিষের বয়স ২ বছর হতে হবে।

৩. ছাগল, ভেড়া, দুম্বা:
কুরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার ১ বছর বয়সের হতে হবে।

তবে কোনো পশু যদি দেখতে ৫, ২ ও ১ বছর বয়স না হয়; কিন্তু দেখতে ৫, ২ ও ১ বা তার চেয়েও বেশি বলে মনে হয়। অর্থাৎ দেখতে নাদুস-নুদুস হয় তবে ওই পশু দিয়ে কুরবানি করা যাবে।

একান্তই যদি উল্লেখিত বয়সের কোনো পশু পাওয়া না যায়; তবে সে ক্ষেত্রে এরচেয়েও কম বয়সী পশু দ্বারা কুরবানি করা যাবে।

হাদিসে এসেছে-
হজরত জাবের (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই মুসিন্না (নির্দিষ্ট বয়সের পশু) কোরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর (পাওয়া কষ্টকর) হলে ছয় মাসের মেষশাবক কুরবানি করতে পারবে। (মুসলিম)

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুরবানির পশুর গুণাগুণ ও বয়স

আপডেট সময় ০৯:১২:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

ইসলামি শরিয়ত নির্ধারিত পশু দিয়েই কুরবানি আদায় করতে হবে। এ সবের মধ্যে রয়েছে উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। কুরআনুল কারিমের ভাষায় এ সব পশুকে বাহিমাতুল আনআ’ম বলা হয়। যা এগুলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য উৎসর্গীকৃত পশু। হাদিসের ভাষায় এগুলোকে বলা উযহিয়্যাহ। যা কুরবানির দিনগুলোতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে জবাই করা হয়। চাই তা উট-উষ্ট্রী হোক; গরু-গাভী হোক কিংবা ছাগল-দুম্বা হোক।

কুরবানির পশু সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। গুণগত দিক থেকে সর্বোত্তম হল কুরবানির পশু হবে সুন্দর, নিখুঁত, অধিক গোশত সম্পন্ন এবং হৃষ্টপুষ্ট। এক কথায় প্রথম দেখায় যাতে পছন্দ হয়ে যায়।

কুরবানির পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হওয়ার জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা রয়েছে। হাদিসে এসেছে, হজরত বারা (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন আর আমার হাত তার হাতের চেয়েও ছোট, তারপর বললেন, চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কুরবানি করে তা জায়েজ হবে না। আর তাহলো-

১. অন্ধ: যে গরু চোখে দেখতে পায় তা স্পষ্ট।
২. রোগাগ্রস্ত: রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।
৩. পঙ্গু: যে পশু হাটাচলা করতে পারে না। এবং
৪. আহত: যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে তা স্পষ্ট।

হাদিস গ্রন্থ নাসাঈতে আহত পশুর স্থলে ‘পাগল’ উল্লেখ করা হয়েছে। (তিরমিজি, নাসাঈ) হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, এ সব পশু দ্বারা কুরবানি করলে তার কুরবানি পরিপূর্ণ হবে না।

তাই পশু কেনার সময় উল্লেখিত বিষয়গুলো খেয়াল করতে হবে। যাতে কোনো ভাবেই হাদিসে নিষেধ এমন পশু কুরবানির জন্য ক্রয় করতে না হয়।

কুরবানির পশুর বয়স:
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কুরবানির পশুর বয়সের দিকেও বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আর তাহলো-

১. উট:
কুরবানির সময় উটের বয়স ৫ বছর হতে হবে। সহজে উট বা উষ্ট্রী পাওয়া গেলে তা যেন ৫ বছরের নিচে না হয়।

২. গরু-মহিষ:
কুরবানির সময় গরু বা মহিষের বয়স ২ বছর হতে হবে।

৩. ছাগল, ভেড়া, দুম্বা:
কুরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার ১ বছর বয়সের হতে হবে।

তবে কোনো পশু যদি দেখতে ৫, ২ ও ১ বছর বয়স না হয়; কিন্তু দেখতে ৫, ২ ও ১ বা তার চেয়েও বেশি বলে মনে হয়। অর্থাৎ দেখতে নাদুস-নুদুস হয় তবে ওই পশু দিয়ে কুরবানি করা যাবে।

একান্তই যদি উল্লেখিত বয়সের কোনো পশু পাওয়া না যায়; তবে সে ক্ষেত্রে এরচেয়েও কম বয়সী পশু দ্বারা কুরবানি করা যাবে।

হাদিসে এসেছে-
হজরত জাবের (রা:) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, তোমরা অবশ্যই মুসিন্না (নির্দিষ্ট বয়সের পশু) কোরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর (পাওয়া কষ্টকর) হলে ছয় মাসের মেষশাবক কুরবানি করতে পারবে। (মুসলিম)