অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কোরবানির ঈদের সপ্তাহখানেক আগে গরু-ছাগল কাটার ছুরি, চাপাতি ও বটি বানাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর কামার পট্টিগুলো।
কামাররা বলছেন, কোরবানির আগের সপ্তাহজুড়ে বিক্রির জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন তারা। এখনো বিক্রি তেমন জমে না উঠলেও দম ফেলার ফুরসত নেই।
গত মাস দুয়েক ধরেই কোরবানির প্রস্তুতি চললেও তিন-চারদিন ধরে চূড়ান্ত ব্যস্ততা শুরু হওয়ার কথা জানান মিরপুর, মোহাম্মদপুর এলাকার কামাররা।
শুক্রবার মিরপুর ১১ নম্বরের ‘ইরানী ক্যাম্পের’ লোহাপট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি দোকানেই উড়ছে লোহা পোড়ানোর ফুলকি। ঘাম ঝরিয়ে কামাররা লোহা পিটিয়ে বানাচ্ছেন নানা ধারাল যন্ত্রপাতি।
থরে থরে সাজানো সেসব দা, বটি, চাপাতি কিনতে যেমন ক্রেতারা আসছেন, তেমনি অনেকেই ভিড় করেছেন পুরনোগুলো ঝালিয়ে নিতে।
লোহাপট্টির একটি দোকানের মালিক মোহাম্মদ নাদিম বলেন, “প্রতিবছরই এমন সময় বিক্রি জমে ওঠে। তবে এবার এখনও ততটা জমেনি। হয়ত মাসের শেষ বা বন্যার কারণে এমনটা হচ্ছে।
“কিন্তু মানুষকে তো এসব কিনতেই হবে। দুই-তিন দিন আগে এসে দেখবেন ঢুকতেই পারবেন না, সেজন্য বেশি করে চাপাতি, ছুরি, দা, বটি বানানো হচ্ছে।”
লোহাপট্টির আরেক দোকানের কারিগর সিরাজুল ইসলাম বলেন, “নতুন কেনার চেয়ে মানুষ ঝালিয়ে নিচ্ছে বেশি। চাপাতি আর ছুরি বেশি ধার দেওয়া হচ্ছে এখন।
“আর নতুনগুলো বিক্রি তো হবেই। ঈদের আগের রাতে একদিনেই সব বিক্রি হয়ে যাবে।”
নিজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে এই কারিগর বলেন, “সারা বছর তো আমাদের তেমন বিক্রি হয় না। টুকটাক ছেনি আর গ্রিলের কাজ করি। ঈদের তিনদিন বিক্রির আশায় আমরা পুরা বছর চেয়ে থাকি। এইসময় যা বিক্রি হয়, সারা বছর তার চেয়ে অনেক কম বিক্রি হয়।
“কোরবানির চাপ সামলাতে মাসখানেক ধরেই তো বানাচ্ছি, তবে তিন-চার দিন ধরে বেশি বানাচ্ছি। চাপও পড়ছে বেশি।”
এই দোকানের কর্মচারি ফয়সাল হোসেন জানান, চাহিদা বাড়ায় ঈদে দামও কিছুটা বেশি রাখা হয়।
“যন্ত্র অনুযায়ী ১০০-৩০০ টাকায় ধার দেওয়ার কাজ করি। আর চাপাতি কেজি ৫০০-৭০০ টাকা দরে বিক্রি করি। ছুরি সাইজ অনুযায়ী ৩০-৫০ টাকায় বিক্রি করি।”
মিরপুর ১১ নম্বরের বি ব্লকের মিল্লাত ক্যাম্পের বটতলার কামারপট্টিতেও একই রকম ব্যস্ততা দেখা গেছে।
সেখানকার খান স্টীল মেটালের মালিক আব্দুস ছত্তার বলেন, ঈদের তিন দিন আগে থেকে বিক্রি বাড়ার আশা করছেন তারা।
“এখন তো গরুই কিনে নাই লোকজন, সেজন্য এখন বিক্রি কম।”
নিজেদের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, “রমজান থেকে বানানো শুরু করছি, না হলে তো বানিয়ে কুলাতে পারতাম না। ৩-৪ আইটেমের ১২০০ এর মত ছুরি তৈরি করছি, চাপাতি বানিয়েছি ৮০০ এর মতো।”
কামারবাড়ির আরেক বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী জানান, চাপাতি, দা, বটির তুলনায় ছুরি বিক্রি বেশি হয়।
“চামড়া কাটার জন্য ছোট ছুরির চাহিদা বেশি। সেজন্য ছুরি বানিয়েছি বেশি।”
তিনি বলেন, “নতুন চাপাতির অর্ডার আগে থেকেই থাকে, সে অনুযায়ী বানাই; আবার ধার দেওয়ার কাজও আসে ভালো। আর ছুরির তো কোনো অর্ডার নাই, ইনস্ট্যান্ট বিক্রি।”
ঈদ উপলক্ষে দাম বাড়ানোর কথা জানিয়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, “এমনি সময়ে তো চাপাতির কেজি থাকে ৫০০ টাকা। ঈদে সেটা ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করি। শেষ দিন আসল বিক্রি হয়, ওইদিন আবার পারলে আরেকটু বেশিও দাম নেই।
“শেষ দিনের বিক্রিটাই সারা বছরের মজুদ। কেবল ঈদের আগের রাতেই এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করি। সেজন্যই গত মাসখানেক ধরে কষ্ট করছি।”
ঈদের চাহিদার কথা জানিয়ে কামারবাড়ির কারিগর আকবর হোসেন বলেন, “ঈদের আগের রাতে ১টা পর্যন্ত বিক্রি চলবে। ঈদের সকালে এমনকি নামাজের পরেও বিক্রি হয় ছুরি-চাপাতি।”
মিরপুর ১ নম্বরের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট এলাকা, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায়ও কামারদের শেষ সময়ের ব্যস্ততা দেখা যায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























