আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
চট্টগ্রামে আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে বিএনপি নেতা, অন্তঃসত্তা নারী ও সাংবাদিকের বাবাসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
নয় মাসের অন্তঃসত্তা ফাতেমা আকতার মুক্তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে অক্সিজেন পাওয়া গেলেও আইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া যায়নি। আইসিইউর অভাবে তার মৃত্যু হয়।
একইভাবে নগর বিএনপির সহসভাপতি লায়ন মো. কামাল উদ্দিন, নালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রীতি বিকাশ দত্ত (৬২) এবং সাংবাদিকের বাবা জসিম উদ্দিন চৌধুরী মারা গেছেন।
চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট এলাকার বাসিন্দা মুক্তার (৩০) স্বামী তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মঙ্গলবার সকালে মুক্তার শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলে তাকে মা ও শিশু হাসপাতালে নেয়া হয়।
চিকিৎসকরা বলেন, তার আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে। সেখানে আইসিইউ খালি না থাকায় তাকে চমেক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অক্সিজেন পাওয়া গেলেও আইসিইউ পাওয়া যায়নি। শ্বাসকষ্টে রাতেই তার মৃত্যু হয়।
বুধবার রাতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে লায়ন কামাল উদ্দিনকে নগরীর পার্কভিউ, ম্যাক্স ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেয়া হয়। এসব হাসপাতাল সিট না থাকাসহ নানা অজুহাতে ভর্তি নেয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। মা ও শিশু হাসপাতালে অক্সিজেন পেলেও আইসিইউ পাননি তিনি। আইসিইউর অভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকার বাসিন্দা প্রীতি বিকাশ দত্ত (৬০) বুধবার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। মা-মণি হাসপাতাল, ম্যাক্স ও ন্যাশনাল হাসপাতালে নেয়া হলেও তাকে ভর্তি করাতে পারেননি ছেলে অভিজিৎ। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়ার পর প্রীতি বিকাশ মারা যান। বাবার মৃত্যুর জন্য বেসরকারি হাসপাতালের অবহেলাকে দায়ী করেন অভিজিৎ।
এদিকে বুধবার মধ্যরাতে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের চৌধুরীর বাবা জসিম উদ্দিন চৌধুরী মারা গেছেন।
জোবায়ের জানান, হঠাৎ বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানকার ওয়ার্ডের এক কর্মচারী অক্সিজেন সেচ্যুরেশন দেখে বলেন, অক্সিজেন ৮৯-এ নেমে এসেছে। ন্যাশনাল হাসপাতালের ফ্লু কর্নার খালি নেই জানিয়ে অন্য কোনো হাসপাতালে যেতে বলেন। চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে সেখানে বাবা মারা যান।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















