ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক মব নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে: টিআইবি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে: সাদিক কায়েম চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না তারেক রহমান: দুলু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত তরুণদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ‘চায়ের আড্ডা’

‘১২ বছরে দেশে ক্যাসিনো ক্যাপিটালিজমের জন্ম হয়েছে’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিশ্বে প্রচলিত অর্থনীতির ধারণার সঙ্গে বাংলাদেশের ফটকাবাজি অর্থনীতির মিল নেই। কারণ বিগত ১২ বছরে এ দেশে ‘ক্যাসিনো ক্যাপিটালিজম’ এর জন্ম দেয়া হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মানবপাচার ও হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে কুয়েতে লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।যা বাংলাদেশের জন্য চরম লজ্জার হলেও সরকারের টনক নড়েনি। গালফ নিউজ ও কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মানব পাচার ও অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন জালিয়াতিতে জড়িত অভিযোগে অন্তত একশ’ব্যক্তির তালিকা করেছে কুয়েত সরকার। সেই তালিকায় ওই সংসদ সদস্যের নাম শীর্ষে রয়েছেন। সম্প্রতি ওই তালিকার অনেককেই গ্রেফতার করেছে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। সেই অভিযানেই আটকা পড়েন সংসদ সদস্য পাপলু। বর্তমানে তিনি সেদেশে রিমান্ডে রয়েছেন।

সরকারের বিরুদ্ধে টাকা পাচারের অভিযোগ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের হিড়িক চলে। বর্তমানে এমপি হতে ভোটের প্রয়োজন হয় না। নির্বাচনের আগের রাতেই নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই রাতের ভোটে এমপি বানিয়ে দেন। লক্ষীপুরের সেই এমপি তারই একটি উদাহারণ।

তিনি বলেন, বিগত ১২ বছরে সুইস ব্যাংকসহ মালয়েশিয়া, কানাডায় লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট, মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার মহাদুর্নীতি, দখল ও নিয়োগবানিজ্যের মাধ্যমে দেশজুড়ে যে লুটের মহোৎসব চলছে কুয়েতে এমপি গ্রেফতার তারই একটি নমুনা মাত্র।

রিজভী বলেন,দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই অপরিচিত, শুধু পাপলুই একাই এমপি হননি, তার স্ত্রীকেও এমপি বানিয়েছেন। যাদের ধনস্ফীতির কোনো বৈধ উৎস জানা যায় না, তাদেরকেই রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে-প্রকৃত রাজনীতিক ও রাজনীতিকে ধ্বংস করে। এরা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই জনগণই ক্ষমতার উৎসকে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিদায় করে পাপলুদের পরিচর্যা করা হয়েছে নিরন্তরভাবে। পাপলুদের অপকর্মের দায় সরকার এড়াতে পারে না।

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু থামছেই না। সরকারের ব্যর্থতায় প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। সরকারি প্রেসনোটে প্রতিদিন যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার- একটি ভেন্টিলেটরের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। প্রতি বছরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট দশ হাজার থেকে বিশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। এই বরাদ্দের টাকা দিয়ে যদি স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি করা হত তাহলে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ মুখ থুব্ড়ে পড়ত না।

মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় সমন্বিত ও গোছানো কোনো কাজ হয়নি। সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ঔদ্ধত্য কথাবার্তার মাধ্যমে তারা এই সংকটকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। রোগীদের দুর্দশা চরম আকারে, অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা পাচ্ছে না, জনগণ দিশাহারা হয়ে রাস্তাতেই ঘুরতে ঘুরতে প্রাণ হারাচ্ছে। দিনের পর দিন ঘুরেও করোনার পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না। এই সরকারের স্বাস্থ্যসেবা এমনই যে, করোনা আক্রান্ত মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশজুড়ে চলছে শোকার্ত মানুষের আহাজারী। চলছে করোনার ত্রাণ চুরির মহৌৎসব। অথচ ক্ষমতা-অন্ধ ওবায়দুল কাদের সাহেবরা নির্জন কক্ষ থেকে প্রায় প্রতিদিনই ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিং করে বিরোধী দলের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন অবান্তর কথা বলে।এছাড়া করোনার এই মহাদুর্যোগেও দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে দমন করা হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্রের সব ইন্সট্রুমেন্টকে কাজে লাগিয়ে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক

‘১২ বছরে দেশে ক্যাসিনো ক্যাপিটালিজমের জন্ম হয়েছে’

আপডেট সময় ০৪:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিশ্বে প্রচলিত অর্থনীতির ধারণার সঙ্গে বাংলাদেশের ফটকাবাজি অর্থনীতির মিল নেই। কারণ বিগত ১২ বছরে এ দেশে ‘ক্যাসিনো ক্যাপিটালিজম’ এর জন্ম দেয়া হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মানবপাচার ও হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে কুয়েতে লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।যা বাংলাদেশের জন্য চরম লজ্জার হলেও সরকারের টনক নড়েনি। গালফ নিউজ ও কুয়েতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর মানব পাচার ও অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন জালিয়াতিতে জড়িত অভিযোগে অন্তত একশ’ব্যক্তির তালিকা করেছে কুয়েত সরকার। সেই তালিকায় ওই সংসদ সদস্যের নাম শীর্ষে রয়েছেন। সম্প্রতি ওই তালিকার অনেককেই গ্রেফতার করেছে দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ। সেই অভিযানেই আটকা পড়েন সংসদ সদস্য পাপলু। বর্তমানে তিনি সেদেশে রিমান্ডে রয়েছেন।

সরকারের বিরুদ্ধে টাকা পাচারের অভিযোগ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের হিড়িক চলে। বর্তমানে এমপি হতে ভোটের প্রয়োজন হয় না। নির্বাচনের আগের রাতেই নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই রাতের ভোটে এমপি বানিয়ে দেন। লক্ষীপুরের সেই এমপি তারই একটি উদাহারণ।

তিনি বলেন, বিগত ১২ বছরে সুইস ব্যাংকসহ মালয়েশিয়া, কানাডায় লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ব্যাংক লুট, শেয়ার বাজার লুট, মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার মহাদুর্নীতি, দখল ও নিয়োগবানিজ্যের মাধ্যমে দেশজুড়ে যে লুটের মহোৎসব চলছে কুয়েতে এমপি গ্রেফতার তারই একটি নমুনা মাত্র।

রিজভী বলেন,দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকটাই অপরিচিত, শুধু পাপলুই একাই এমপি হননি, তার স্ত্রীকেও এমপি বানিয়েছেন। যাদের ধনস্ফীতির কোনো বৈধ উৎস জানা যায় না, তাদেরকেই রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে-প্রকৃত রাজনীতিক ও রাজনীতিকে ধ্বংস করে। এরা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই জনগণই ক্ষমতার উৎসকে বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গন থেকে বিদায় করে পাপলুদের পরিচর্যা করা হয়েছে নিরন্তরভাবে। পাপলুদের অপকর্মের দায় সরকার এড়াতে পারে না।

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু থামছেই না। সরকারের ব্যর্থতায় প্রতিদিনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। সরকারি প্রেসনোটে প্রতিদিন যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার- একটি ভেন্টিলেটরের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। প্রতি বছরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট দশ হাজার থেকে বিশ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। এই বরাদ্দের টাকা দিয়ে যদি স্বাস্থ্যখাতের উন্নতি করা হত তাহলে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশ মুখ থুব্ড়ে পড়ত না।

মন্ত্রীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় সমন্বিত ও গোছানো কোনো কাজ হয়নি। সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ঔদ্ধত্য কথাবার্তার মাধ্যমে তারা এই সংকটকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। রোগীদের দুর্দশা চরম আকারে, অসুস্থ মানুষ হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা পাচ্ছে না, জনগণ দিশাহারা হয়ে রাস্তাতেই ঘুরতে ঘুরতে প্রাণ হারাচ্ছে। দিনের পর দিন ঘুরেও করোনার পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না। এই সরকারের স্বাস্থ্যসেবা এমনই যে, করোনা আক্রান্ত মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশজুড়ে চলছে শোকার্ত মানুষের আহাজারী। চলছে করোনার ত্রাণ চুরির মহৌৎসব। অথচ ক্ষমতা-অন্ধ ওবায়দুল কাদের সাহেবরা নির্জন কক্ষ থেকে প্রায় প্রতিদিনই ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিং করে বিরোধী দলের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন অবান্তর কথা বলে।এছাড়া করোনার এই মহাদুর্যোগেও দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে দমন করা হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্রের সব ইন্সট্রুমেন্টকে কাজে লাগিয়ে।