ঢাকা ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

যারা ভালোবাসতেন তারাই দিলেন না ঠাঁই, লাশ নিয়ে স্বামী দিশাহারা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে মারা গেছেন মনোয়ারা বেগম (৩০)। একসময় যে মানুষগুলো তাকে এত আদর-স্নেহ ও ভালবাসতেন, আজ তারাই তার মরদেহ নিজ গ্রামে প্রবেশ করতে দেননি। এর পর মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে তার স্বামী শরিফুল ইসলাম দিশাহারা হয়ে পড়েন।

পরে জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুরের হস্তক্ষেপে প্রশাসনের সহায়তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগকৃত মওলানার মাধ্যমে জানাজা হয়। এর পর সন্ধ্যায় জলঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মনোয়ারা বেগমের মরদেহ দাফন করা হয়।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার জলঢাকা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বগুলাগাড়ী গ্রামে। মনোয়ারা ওই গ্রামের মোজদুলের মেয়ে। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মনোয়ারা তার স্বামী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। স্বামীর বাড়ি জলঢাকার কাঁঠালি ইউনিয়নে।

গত ৫ মে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ ঢাকা থেকে রাতের বাসে গ্রামের বাড়ি রওনা দেন মনোয়ারা। পথে মনোয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা রংপুরে নেমে যান এবং মনোয়ারাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সেখানে ৬ মে তাদের নমুনা নেয়া হয়। ৮ মে রংপুর পিসিআর ল্যাবের রিপোর্টে মনোয়ারা বেগমের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মনোয়ারার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে তার স্বামী ও সন্তান জলঢাকায় গেলে গ্রামবাসীর বাধার মুখে পড়েন। তারা গ্রামে মনোয়ারার মরদেহ প্রবেশ করতে দেননি। পরে স্বামী শরিফুল ইসলাম স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে নিজের ইউনিয়ন কাঁঠালিতে নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হন।

এর পর মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে স্বামী দিশাহারা হয়ে পড়েন।

জলঢাকা পৌর মেয়রকে এ ব্যাপারে বারবার মোবাইল করে অসহায় পরিবারটি। কিন্তু মেয়র মোবাইল রিসিভ করেননি। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুরকে বিষয়টি জানানো হয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর জানান, বিষয়টি জেনে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহায়তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগকৃত মওলানার মাধ্যমে জানাজা হয়। এরপর মাগরিবের আগে জলঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানের শেষ মাথায় আউলিয়াখানা নদীর ধারে মনোয়ারা বেগমের মরদেহ দাফন করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যারা ভালোবাসতেন তারাই দিলেন না ঠাঁই, লাশ নিয়ে স্বামী দিশাহারা

আপডেট সময় ০৪:২৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে মারা গেছেন মনোয়ারা বেগম (৩০)। একসময় যে মানুষগুলো তাকে এত আদর-স্নেহ ও ভালবাসতেন, আজ তারাই তার মরদেহ নিজ গ্রামে প্রবেশ করতে দেননি। এর পর মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে তার স্বামী শরিফুল ইসলাম দিশাহারা হয়ে পড়েন।

পরে জলঢাকা উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুরের হস্তক্ষেপে প্রশাসনের সহায়তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগকৃত মওলানার মাধ্যমে জানাজা হয়। এর পর সন্ধ্যায় জলঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে মনোয়ারা বেগমের মরদেহ দাফন করা হয়।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার জলঢাকা পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বগুলাগাড়ী গ্রামে। মনোয়ারা ওই গ্রামের মোজদুলের মেয়ে। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মনোয়ারা তার স্বামী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। স্বামীর বাড়ি জলঢাকার কাঁঠালি ইউনিয়নে।

গত ৫ মে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানসহ ঢাকা থেকে রাতের বাসে গ্রামের বাড়ি রওনা দেন মনোয়ারা। পথে মনোয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়লে তারা রংপুরে নেমে যান এবং মনোয়ারাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

সেখানে ৬ মে তাদের নমুনা নেয়া হয়। ৮ মে রংপুর পিসিআর ল্যাবের রিপোর্টে মনোয়ারা বেগমের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে মনোয়ারার মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে তার স্বামী ও সন্তান জলঢাকায় গেলে গ্রামবাসীর বাধার মুখে পড়েন। তারা গ্রামে মনোয়ারার মরদেহ প্রবেশ করতে দেননি। পরে স্বামী শরিফুল ইসলাম স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে নিজের ইউনিয়ন কাঁঠালিতে নেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হন।

এর পর মনোয়ারার মরদেহ নিয়ে স্বামী দিশাহারা হয়ে পড়েন।

জলঢাকা পৌর মেয়রকে এ ব্যাপারে বারবার মোবাইল করে অসহায় পরিবারটি। কিন্তু মেয়র মোবাইল রিসিভ করেননি। পরে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুরকে বিষয়টি জানানো হয়।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বাহাদুর জানান, বিষয়টি জেনে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহায়তায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়োগকৃত মওলানার মাধ্যমে জানাজা হয়। এরপর মাগরিবের আগে জলঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানের শেষ মাথায় আউলিয়াখানা নদীর ধারে মনোয়ারা বেগমের মরদেহ দাফন করা হয়।