ঢাকা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

নারায়ণগঞ্জে এবার লাশ দাফনে এগিয়ে এলেন এক নারী কাউন্সিলর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কখনও ত্রাণ নিয়ে হতদরিদ্রদের দরজায়, আবার কখনও কোন প্রসূতী নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা।

এভাবেই একের পর এক নানা সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত করোনাকাল পার করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা।

এ নারী কাউন্সিলর এবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে এলেন স্বজনদের ফেলে যাওয়া করোনায় বা করোনাকালে মৃত ব্যক্তিদের লাশ গোসল ও দাফন করাতে।

সম্প্রতি তিনি তার লোকদের দিয়ে ৮ সদস্যের একটি টিম গঠন করেছেন করোনায় স্বজনদের ফেলে যাওয়া মৃতদের গোসল, জানাজা ও লাশ দাফনের জন্য।

নাসিকের নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা করোনার শুরুতেই সিদ্ধিরগঞ্জবাসী ও দেশের জনগন যাতে করোনা থেকে পরিত্রাণ পান এ জন্য তার নির্বাচনী এলাকার মসজিদগুলোতে কোরআন খতমের ব্যবস্থা করেন।

করোনা নিয়ে সচেতনা সৃষ্টির পাশাপাশি এ নারী কাউন্সিলর এলাকাবাসীর মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও হ্যান্ড ওয়াশ বিতরণ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাতের আঁধারেও মানুষের বাড়িতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করেন।

এছাড়া সরকারি ও সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দকৃত ত্রাণও নিজ খরচে এলাকাবাসীর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।

এরমধ্যেই সিদ্ধিরগেঞ্জর এক প্রসূতী নারী আর্থিক সংকটে পড়ে কুল-কিনারা না পেয়ে ফোন দেন আয়শা আক্তার দিনাকে।

অসহায় ওই নারীর ফোন পেয়েই তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান ওই নারী কাউন্সিলর। পরে একটি ক্লিনিকে অসহায় ওই নারীর পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।

ওই নারীর যাবতীয় খরচ তিনি নিজেই বহন করেন। এ নিয়ে নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবজাতকের কয়েকটি ছবিসহ পোস্ট করলে নেটজিয়ানরা তাকে প্রশাংসায় ভাসান।

এর কিছুদিন পরই আবারও ফোনে তার নির্বাচনী এলাকার এক ব্যক্তির সদ্য মা হওয়া এক অসহায় নারীকে সহায়তার অনুরোধ জানান। ওই নারী একজন গার্মেন্টকর্মী।

গার্মেন্ট কর্মীটির সন্তান সম্ভবা হওয়ার ৫ মাসের মাথায় তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এতে অসহায় হয়ে পড়েন ওই নারী। লকডাউন থাকার কারণে তার কোন আত্বীয় স্বজন আসতে না পারায় তার আট দিনের কন্যাসন্তান নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন।

এলাকাবাসীর খবর পেয়ে তার বাসায় গিয়ে খাবার ও নবজাতকের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে আবারও প্রশংসিত হন সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর কাছে।

গত ৩১ মে বিকাল ৫টায় নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের মুদি দোকানদার আ. রহমান লিভার সমস্যায় মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু করোনার ভয়ে তার লাশ গোসল ও দাফনে কেউ এগিয়ে না আসায় খবর পেয়ে কাউন্সিলর দিনা তার টিমের করোনা যোদ্ধাদের দিয়ে গোসল করান, কাফন পরিধান করান ও একই ওয়ার্ডের তাতখানা বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমামের সহায়তায় জানাজা পড়ান।

পরবর্তীতে রোববার রাতে নিহত ব্যক্তির পৈতৃক বাড়ি সোনারগাঁওয়ে রাত ১টার দিকে তার লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন।

জনসেবায় সদাব্যস্ত নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা বলেন, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্যই করোনা মহামারীর সময় মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছি। যতদিন শক্তি, সামর্থ আছে, ইনশাআল্লাহ ততদিন এভাবেই মানুষের পাশে থাকবো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে মসজিদের বাক্সে ৯ লাখ টাকা

নারায়ণগঞ্জে এবার লাশ দাফনে এগিয়ে এলেন এক নারী কাউন্সিলর

আপডেট সময় ০১:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কখনও ত্রাণ নিয়ে হতদরিদ্রদের দরজায়, আবার কখনও কোন প্রসূতী নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা।

এভাবেই একের পর এক নানা সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত করোনাকাল পার করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা।

এ নারী কাউন্সিলর এবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে এলেন স্বজনদের ফেলে যাওয়া করোনায় বা করোনাকালে মৃত ব্যক্তিদের লাশ গোসল ও দাফন করাতে।

সম্প্রতি তিনি তার লোকদের দিয়ে ৮ সদস্যের একটি টিম গঠন করেছেন করোনায় স্বজনদের ফেলে যাওয়া মৃতদের গোসল, জানাজা ও লাশ দাফনের জন্য।

নাসিকের নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা করোনার শুরুতেই সিদ্ধিরগঞ্জবাসী ও দেশের জনগন যাতে করোনা থেকে পরিত্রাণ পান এ জন্য তার নির্বাচনী এলাকার মসজিদগুলোতে কোরআন খতমের ব্যবস্থা করেন।

করোনা নিয়ে সচেতনা সৃষ্টির পাশাপাশি এ নারী কাউন্সিলর এলাকাবাসীর মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও হ্যান্ড ওয়াশ বিতরণ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাতের আঁধারেও মানুষের বাড়িতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করেন।

এছাড়া সরকারি ও সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দকৃত ত্রাণও নিজ খরচে এলাকাবাসীর বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।

এরমধ্যেই সিদ্ধিরগেঞ্জর এক প্রসূতী নারী আর্থিক সংকটে পড়ে কুল-কিনারা না পেয়ে ফোন দেন আয়শা আক্তার দিনাকে।

অসহায় ওই নারীর ফোন পেয়েই তাকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যান ওই নারী কাউন্সিলর। পরে একটি ক্লিনিকে অসহায় ওই নারীর পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।

ওই নারীর যাবতীয় খরচ তিনি নিজেই বহন করেন। এ নিয়ে নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নবজাতকের কয়েকটি ছবিসহ পোস্ট করলে নেটজিয়ানরা তাকে প্রশাংসায় ভাসান।

এর কিছুদিন পরই আবারও ফোনে তার নির্বাচনী এলাকার এক ব্যক্তির সদ্য মা হওয়া এক অসহায় নারীকে সহায়তার অনুরোধ জানান। ওই নারী একজন গার্মেন্টকর্মী।

গার্মেন্ট কর্মীটির সন্তান সম্ভবা হওয়ার ৫ মাসের মাথায় তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যায়। এতে অসহায় হয়ে পড়েন ওই নারী। লকডাউন থাকার কারণে তার কোন আত্বীয় স্বজন আসতে না পারায় তার আট দিনের কন্যাসন্তান নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন।

এলাকাবাসীর খবর পেয়ে তার বাসায় গিয়ে খাবার ও নবজাতকের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে আবারও প্রশংসিত হন সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর কাছে।

গত ৩১ মে বিকাল ৫টায় নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের মুদি দোকানদার আ. রহমান লিভার সমস্যায় মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু করোনার ভয়ে তার লাশ গোসল ও দাফনে কেউ এগিয়ে না আসায় খবর পেয়ে কাউন্সিলর দিনা তার টিমের করোনা যোদ্ধাদের দিয়ে গোসল করান, কাফন পরিধান করান ও একই ওয়ার্ডের তাতখানা বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমামের সহায়তায় জানাজা পড়ান।

পরবর্তীতে রোববার রাতে নিহত ব্যক্তির পৈতৃক বাড়ি সোনারগাঁওয়ে রাত ১টার দিকে তার লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন।

জনসেবায় সদাব্যস্ত নারী কাউন্সিলর আয়শা আক্তার দিনা বলেন, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্যই করোনা মহামারীর সময় মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছি। যতদিন শক্তি, সামর্থ আছে, ইনশাআল্লাহ ততদিন এভাবেই মানুষের পাশে থাকবো।