ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ অল্পতেই ধৈর্য হারালে দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন: ডা. শফিকুর রহমান ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন ধর্মান্তরিত হয়ে প্রবাসীকে বিয়ে, ছয় মাস পর তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু দেশের অর্থনীতি গভীর চাপে রয়েছে : নাহিদ ইসলাম শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মেধাবী প্রকৌশলীদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমাতে অনুকূল কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে: আইনমন্ত্রী আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজনৈতিকভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে : জোনায়েদ সাকী নৌ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ১০

লিবিয়ার মরুভূমিতে এখনো জিম্মি শতাধিক বাংলাদেশি!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

লিবিয়ার মরুভূমিতে এখনো বহু বাংলাদেশি রয়েছেন, যারা ইতালি যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার অপেক্ষায়! বিশাল মরুভূমিতে কমপক্ষে ৩টি গ্রুপে শতাধিক বাংলাদেশি থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে ত্রিপলিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে আরও ১৯ বাংলাদেশি আটক থাকার খবর জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

বুধবার (৩ জুন) তিনি বলেন, সেখানে নির্মমভাবে মানব পাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনার দেশটির অন্যতম হোতা নিহত হয়েছে বলে লিবিয়ার গণমাধ্যমে জেনেছি। তবে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, লিবিয়ায় আরও ১৯ জন বাংলাদেশি অন্য একটি মাজরাতে আটক রয়েছেন। মুক্তিপণের জন্য তাদের ওপরও নির্মম অত্যাচার চলছে। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাবস্থা চলা এ দেশটি এখন মানব পাচারের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। হয়তো আরও অনেক বাংলাদেশি সেখানে আটক রয়েছেন। তবে আমরা এ ১৯ জনের কথা জানতে পেরেছি।

ড. মোমেন বলেন, সেখানকার একজন বাংলাদেশি আমাদের দূতাবাসকে জানিয়েছে, ত্রিপলী থেকে ১৪৫ কিলোমিটার দূরে একটি মাজরাতে এ ১৯ বাংলাদেশিকে মানবপাচারকারীরা মুক্তিপণের জন্য আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিশ্চয় পাচারকারীরা আটক বাংলাদেশিদের পরিবারের সঙ্গে টাকার জন্য দেন দরবার করছে। এসব পরিবারের উচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা। তা না হলে কারা তাদের কাছে টাকা চাইছে কারা এসব মানবপাচারে জড়িত সেসব কিছুই আমরা জানতে পারব না।

এসব বাংলাদেশির পরিবারকে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের সঙ্গে পাচারকারীদের যেসব দালাল যোগাযোগ করছে তাদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিন।

মন্ত্রী বলেন, এর আগে যে ৩৮ জন আটক ছিল তাদের পরিবারের কাছেও সেখানকার মানবপাচারকারীদের দালালরা ফোন করে মুক্তিপণ আদায় করত। তারা যদি সেসব বিষয় জানাতো তাহলে অকালে এত প্রাণ যেত না।

জানা যায়, এখন মানবপাচারের সিজন চলছে। করোনা-পূর্ব সময়ে যারা দেশে এসেছিলেন তারা এখন সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই সংখ্যা কতো তা জানা কঠিন। আবার আটক বাংলাদেশিদের উদ্ধার করার পরিস্থিতিও নেই।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ

লিবিয়ার মরুভূমিতে এখনো জিম্মি শতাধিক বাংলাদেশি!

আপডেট সময় ০৬:৪২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

লিবিয়ার মরুভূমিতে এখনো বহু বাংলাদেশি রয়েছেন, যারা ইতালি যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার অপেক্ষায়! বিশাল মরুভূমিতে কমপক্ষে ৩টি গ্রুপে শতাধিক বাংলাদেশি থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে ত্রিপলিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদের হাতে আরও ১৯ বাংলাদেশি আটক থাকার খবর জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

বুধবার (৩ জুন) তিনি বলেন, সেখানে নির্মমভাবে মানব পাচারকারীদের হাতে ২৬ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনার দেশটির অন্যতম হোতা নিহত হয়েছে বলে লিবিয়ার গণমাধ্যমে জেনেছি। তবে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, লিবিয়ায় আরও ১৯ জন বাংলাদেশি অন্য একটি মাজরাতে আটক রয়েছেন। মুক্তিপণের জন্য তাদের ওপরও নির্মম অত্যাচার চলছে। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাবস্থা চলা এ দেশটি এখন মানব পাচারের প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। হয়তো আরও অনেক বাংলাদেশি সেখানে আটক রয়েছেন। তবে আমরা এ ১৯ জনের কথা জানতে পেরেছি।

ড. মোমেন বলেন, সেখানকার একজন বাংলাদেশি আমাদের দূতাবাসকে জানিয়েছে, ত্রিপলী থেকে ১৪৫ কিলোমিটার দূরে একটি মাজরাতে এ ১৯ বাংলাদেশিকে মানবপাচারকারীরা মুক্তিপণের জন্য আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিশ্চয় পাচারকারীরা আটক বাংলাদেশিদের পরিবারের সঙ্গে টাকার জন্য দেন দরবার করছে। এসব পরিবারের উচিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা। তা না হলে কারা তাদের কাছে টাকা চাইছে কারা এসব মানবপাচারে জড়িত সেসব কিছুই আমরা জানতে পারব না।

এসব বাংলাদেশির পরিবারকে তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের সঙ্গে পাচারকারীদের যেসব দালাল যোগাযোগ করছে তাদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিন।

মন্ত্রী বলেন, এর আগে যে ৩৮ জন আটক ছিল তাদের পরিবারের কাছেও সেখানকার মানবপাচারকারীদের দালালরা ফোন করে মুক্তিপণ আদায় করত। তারা যদি সেসব বিষয় জানাতো তাহলে অকালে এত প্রাণ যেত না।

জানা যায়, এখন মানবপাচারের সিজন চলছে। করোনা-পূর্ব সময়ে যারা দেশে এসেছিলেন তারা এখন সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই সংখ্যা কতো তা জানা কঠিন। আবার আটক বাংলাদেশিদের উদ্ধার করার পরিস্থিতিও নেই।