ঢাকা ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

এ বছর হজ করতে পারবে না কাতারিরা

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরব জানিয়ে দিয়েছে, চলতি বছর কাতারিরা হজ করতে পারবেন না। চলতি সপ্তাহে মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় অনুসঙ্গ পবিত্র হজ শুরু হচ্ছে। সম্পর্ক নিয়ে টানা-পোড়েনের পরও কাতার সরকার আশা করেছিল, তাদের নাগরিকরা হজ করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি হতাশায় পরিণত হয়েছে। দোহার পক্ষ থেকে রিয়াদে হজের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা সাড়া দেয়নি। এর স্পষ্ট অর্থ হলো- কাতারিরা এ বছর হজ করতে পারবেন না।

সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে দেশটির পবিত্র শহর মক্কা ও মদীনাতে হজ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিমরা সেখানে আসেন। সামর্থবান মুসলিমদের জন্য জীবনে একবার হজ ফরজ। কাতারিদের হজ ব্যবস্থাপনা করে থাকে দেশটির ধর্ম ও ত্রাণ (আওকাফ) মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মক্কা ও মদীনায় যাওয়া এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের জুনে সন্ত্রাসবাদে মদদ, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি ও অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গালফ অঞ্চলের দেশ- সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় ইয়েমেন ও মালদ্বীপ।

কুয়েতের মধ্যস্থতায় এই সমস্যার সমাধানে সৌদি জোটের পক্ষ থেকে আলজাজিরা বন্ধ, দোহা থেকে তুরস্কের সেনা ঘাঁটি প্রত্যাহারসহ কাতারকে শর্ত দেওয়া হয়। যদিও তা প্রত্যাখ্যান করে কাতার সরকার।

তবে কাতার হজের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সৌদি আরবও হজে কাতারিদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। গত সপ্তাহে সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ ঘোষণাও দেন, বিমান পাঠিয়ে নিজস্ব খরচে কাতারের হজযাত্রীদের আনার। এর মধ্যেই তাতে ভাটা পড়ল।

কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মঙ্গলবার জানায়, কাতারের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ সৌদি হজ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধরনের ইতিবাচক সহযোগিতা পায়নি। এর ফলে কাতারিদের হজব্রত পালন নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

কাতারের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক সা’দ সুলতান আল-আব্দুল্লাহ কাতারিরা তাদের ধর্মীয় কর্তব্য পালন করতে না পারায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি থেকে মানবাধিকারকে দূরে রাখা উচিত। কিন্তু কাতারের মুসলিমরা সেই রাজনীতির শিকার হলেন। সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে রাজনীতি আর ধর্ম গুলিয়ে ফেলে কিছু মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করল।’

সৌদি কর্তৃপক্ষের এই আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রাসেলসভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা জোটের প্রধান আবদেল মজিদ মারারি। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘মক্কা কোনো একক সরকারের সম্পত্তি নয়। মক্কা দুনিয়ার সব মুসলিমের। সৌদির আচরণ ইসলামের রীতি ও মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন।’

সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে ইরানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের মানবাধিকার সংগঠন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাজ্যে মানব পাচারকারী চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড

এ বছর হজ করতে পারবে না কাতারিরা

আপডেট সময় ০৮:১৬:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরব জানিয়ে দিয়েছে, চলতি বছর কাতারিরা হজ করতে পারবেন না। চলতি সপ্তাহে মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় অনুসঙ্গ পবিত্র হজ শুরু হচ্ছে। সম্পর্ক নিয়ে টানা-পোড়েনের পরও কাতার সরকার আশা করেছিল, তাদের নাগরিকরা হজ করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি হতাশায় পরিণত হয়েছে। দোহার পক্ষ থেকে রিয়াদে হজের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা সাড়া দেয়নি। এর স্পষ্ট অর্থ হলো- কাতারিরা এ বছর হজ করতে পারবেন না।

সৌদি সরকারের তত্ত্বাবধানে দেশটির পবিত্র শহর মক্কা ও মদীনাতে হজ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলিমরা সেখানে আসেন। সামর্থবান মুসলিমদের জন্য জীবনে একবার হজ ফরজ। কাতারিদের হজ ব্যবস্থাপনা করে থাকে দেশটির ধর্ম ও ত্রাণ (আওকাফ) মন্ত্রণালয়। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মক্কা ও মদীনায় যাওয়া এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের জুনে সন্ত্রাসবাদে মদদ, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি ও অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গালফ অঞ্চলের দেশ- সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় ইয়েমেন ও মালদ্বীপ।

কুয়েতের মধ্যস্থতায় এই সমস্যার সমাধানে সৌদি জোটের পক্ষ থেকে আলজাজিরা বন্ধ, দোহা থেকে তুরস্কের সেনা ঘাঁটি প্রত্যাহারসহ কাতারকে শর্ত দেওয়া হয়। যদিও তা প্রত্যাখ্যান করে কাতার সরকার।

তবে কাতার হজের বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সৌদি আরবও হজে কাতারিদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। গত সপ্তাহে সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ ঘোষণাও দেন, বিমান পাঠিয়ে নিজস্ব খরচে কাতারের হজযাত্রীদের আনার। এর মধ্যেই তাতে ভাটা পড়ল।

কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মঙ্গলবার জানায়, কাতারের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ সৌদি হজ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ধরনের ইতিবাচক সহযোগিতা পায়নি। এর ফলে কাতারিদের হজব্রত পালন নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

কাতারের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক সা’দ সুলতান আল-আব্দুল্লাহ কাতারিরা তাদের ধর্মীয় কর্তব্য পালন করতে না পারায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি থেকে মানবাধিকারকে দূরে রাখা উচিত। কিন্তু কাতারের মুসলিমরা সেই রাজনীতির শিকার হলেন। সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে রাজনীতি আর ধর্ম গুলিয়ে ফেলে কিছু মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করল।’

সৌদি কর্তৃপক্ষের এই আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রাসেলসভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা জোটের প্রধান আবদেল মজিদ মারারি। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘মক্কা কোনো একক সরকারের সম্পত্তি নয়। মক্কা দুনিয়ার সব মুসলিমের। সৌদির আচরণ ইসলামের রীতি ও মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একই সঙ্গে মানবাধিকার ও জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন।’

সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে ইরানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের মানবাধিকার সংগঠন।