ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ বরগুনায় ডাকবাংলো থেকে দুই শিশু ও মায়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের প্রতি অবহেলা: শাস্তি পাবেন সেই যুগ্ম সচিব বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক এমপিদের সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির জ্ঞান থাকা আবশ্যক : স্পিকার ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, দাবি ট্রাম্পের

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সব তালিকায় কাউন্সিলর নেহারের পরিবার ও স্বজনদের নাম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুবিধা নেয়ার সব তালিকাতে নিজের পরিবার ও স্বজনদের নাম বসিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম নেহার। এমনকি এই ওয়ার্ডে কর্মহীন, অসহায়, ভিক্ষুক ও ভবঘুরে শ্রেণীর মানুষদের জন্য সরকারের চালু বিশেষ ওএমএস তালিকাতেও নিজের পরিবার ও স্বজনদের নাম বাদ রাখেননি তিনি।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১২নম্বর ওয়ার্ডে ওএমএস তালিকার ২৯ নম্বরে রয়েছে রফিকুল ইসলাম নেহারের ভাই তাহের মিয়ার নাম। ১১৯ নম্বরে রয়েছে তাহেরের স্ত্রী মুক্তা বেগমের নাম। ৩০ নম্বরে কাউন্সিলরের আরেক ভাই জাহের মিয়ার নাম। কাউন্সিলরের চাচাতো ভাই আশরাফুল আলমের নাম রয়েছে ৩১ নম্বরে। ৩৩ নম্বরে রয়েছে কাউন্সিলরের আরেক চাচাতো ভাই ফজলু মিয়ার নাম। ফজলু মিয়ার স্ত্রী আছিয়া বেগমের নাম আছে তালিকার ২৭ নম্বরে। কাউন্সিলরের চাচাতো ভাই আব্দুল আহাদ ও আপেল মাহমুদের নাম রয়েছে ৫৩ ও ৫৪ নম্বরে। এদের কেউ ব্যবসায়ী আবার অধিকাংশের ছেলে প্রবাসে থাকেন।

এছাড়া ওই তালিকায় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা ছাড়াও আরও অনেক লোকজনের নাম বসিয়েছেন কাউন্সিলর নেহার।

৩৩৭ নম্বরে থাকা হেলিম মিয়ার দুই ছেলে ইউরোপ ও আমেরিকা প্রবাসী। ৩৩৮ নম্বরে থাকা হেনেরা বেগমের তিন ছেলে সৌদি প্রবাসী এবং আরেক ছেলে বিদ্যুৎ বিভাগে চাকুরি করে। এরা সবাই ওই ওয়ার্ডের ভাদুঘরের দাশপাড়া, সাহাপাড়া, নোয়াপাড়া, খাদেমপাড়া ও এলহাম পাড়ার বাসিন্দা।

কাউন্সিলরের এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ জমা হয়েছে এলাকার দরিদ্র মানুষজনের মধ্যে।

কাউন্সিলর নেহার শুধু এই তালিকা নয়, বয়স্ক ভাতার তালিকাতেও দেখিয়েছেন কারিশমা। আপন ভাই মতি মিয়া ও তার স্ত্রীর আনোয়ারা বেগমের নাম রয়েছে ভাতা সুবিধা ভোগি তালিকার ২০৮৫ ও ২১৬৭ নম্বরে। আরেক ভাই মস্তু মিয়া ও তাহের মিয়াও পাচ্ছেন বয়স্ক ভাতার সুবিধা। এছাড়া, চাচাতো ভাই ফজলু মিয়া ও আবদু মিয়ার নামও আছে বয়স্ক ভাতা সুবিধার তালিকায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর সমাজসেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলরাই মূলত তালিকা করেন। তবে এক্ষেত্রে কমিটি রয়েছে। তাদের দেয়া তালিকাই আমরা গ্রহণ করি।

বিষয়টি জানাজানির পর বিশেষ ওএমএস তালিকার সংশোধনী দিয়েছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম নেহার। বলেন, ‘এখন পৌরসভা ওই নামগুলো বাদ দিবে না রেখে দিবে তা পৌরসভার বিষয়। এখন যাকেই দিক তার কোন আপত্তি থাকবে না।’

বয়স্ক ভাতার তালিকায় আশপাশের বয়স্ক দু’একজন লোকের নাম দেয়া অপরাধ নয়- জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজের অসহায়-বৃদ্ধ দু’একজন আত্নীয়ের নাম ঢুকছে; এটা অপরাধ নয়। আর বয়ষ্ক মানুষ ছাড়া কারো নাম তো দেইনি।’

বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে তো তালিকা দেখার সুযোগ নেই আমার। কমিটির মাধ্যমে কাউন্সিলর স্বাক্ষর করে পাঠায়। তারপর সচিব স্বাক্ষর করে, তারপর আমি স্বাক্ষর করি।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সব তালিকায় কাউন্সিলর নেহারের পরিবার ও স্বজনদের নাম

আপডেট সময় ১০:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুবিধা নেয়ার সব তালিকাতে নিজের পরিবার ও স্বজনদের নাম বসিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম নেহার। এমনকি এই ওয়ার্ডে কর্মহীন, অসহায়, ভিক্ষুক ও ভবঘুরে শ্রেণীর মানুষদের জন্য সরকারের চালু বিশেষ ওএমএস তালিকাতেও নিজের পরিবার ও স্বজনদের নাম বাদ রাখেননি তিনি।

জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১২নম্বর ওয়ার্ডে ওএমএস তালিকার ২৯ নম্বরে রয়েছে রফিকুল ইসলাম নেহারের ভাই তাহের মিয়ার নাম। ১১৯ নম্বরে রয়েছে তাহেরের স্ত্রী মুক্তা বেগমের নাম। ৩০ নম্বরে কাউন্সিলরের আরেক ভাই জাহের মিয়ার নাম। কাউন্সিলরের চাচাতো ভাই আশরাফুল আলমের নাম রয়েছে ৩১ নম্বরে। ৩৩ নম্বরে রয়েছে কাউন্সিলরের আরেক চাচাতো ভাই ফজলু মিয়ার নাম। ফজলু মিয়ার স্ত্রী আছিয়া বেগমের নাম আছে তালিকার ২৭ নম্বরে। কাউন্সিলরের চাচাতো ভাই আব্দুল আহাদ ও আপেল মাহমুদের নাম রয়েছে ৫৩ ও ৫৪ নম্বরে। এদের কেউ ব্যবসায়ী আবার অধিকাংশের ছেলে প্রবাসে থাকেন।

এছাড়া ওই তালিকায় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা ছাড়াও আরও অনেক লোকজনের নাম বসিয়েছেন কাউন্সিলর নেহার।

৩৩৭ নম্বরে থাকা হেলিম মিয়ার দুই ছেলে ইউরোপ ও আমেরিকা প্রবাসী। ৩৩৮ নম্বরে থাকা হেনেরা বেগমের তিন ছেলে সৌদি প্রবাসী এবং আরেক ছেলে বিদ্যুৎ বিভাগে চাকুরি করে। এরা সবাই ওই ওয়ার্ডের ভাদুঘরের দাশপাড়া, সাহাপাড়া, নোয়াপাড়া, খাদেমপাড়া ও এলহাম পাড়ার বাসিন্দা।

কাউন্সিলরের এমন কর্মকান্ডে ক্ষোভ জমা হয়েছে এলাকার দরিদ্র মানুষজনের মধ্যে।

কাউন্সিলর নেহার শুধু এই তালিকা নয়, বয়স্ক ভাতার তালিকাতেও দেখিয়েছেন কারিশমা। আপন ভাই মতি মিয়া ও তার স্ত্রীর আনোয়ারা বেগমের নাম রয়েছে ভাতা সুবিধা ভোগি তালিকার ২০৮৫ ও ২১৬৭ নম্বরে। আরেক ভাই মস্তু মিয়া ও তাহের মিয়াও পাচ্ছেন বয়স্ক ভাতার সুবিধা। এছাড়া, চাচাতো ভাই ফজলু মিয়া ও আবদু মিয়ার নামও আছে বয়স্ক ভাতা সুবিধার তালিকায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর সমাজসেবা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলরাই মূলত তালিকা করেন। তবে এক্ষেত্রে কমিটি রয়েছে। তাদের দেয়া তালিকাই আমরা গ্রহণ করি।

বিষয়টি জানাজানির পর বিশেষ ওএমএস তালিকার সংশোধনী দিয়েছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম নেহার। বলেন, ‘এখন পৌরসভা ওই নামগুলো বাদ দিবে না রেখে দিবে তা পৌরসভার বিষয়। এখন যাকেই দিক তার কোন আপত্তি থাকবে না।’

বয়স্ক ভাতার তালিকায় আশপাশের বয়স্ক দু’একজন লোকের নাম দেয়া অপরাধ নয়- জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিজের অসহায়-বৃদ্ধ দু’একজন আত্নীয়ের নাম ঢুকছে; এটা অপরাধ নয়। আর বয়ষ্ক মানুষ ছাড়া কারো নাম তো দেইনি।’

বিষয়গুলো তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি গিয়ে তো তালিকা দেখার সুযোগ নেই আমার। কমিটির মাধ্যমে কাউন্সিলর স্বাক্ষর করে পাঠায়। তারপর সচিব স্বাক্ষর করে, তারপর আমি স্বাক্ষর করি।’