ঢাকা ১১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানব রচিত আইন এ বাংলায় চলতে দেওয়া হবে না: চরমোনাইর পীর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির আগামী বছরের মধ্যে গোটা রাখাইন দখলের ঘোষণা আরাকান আর্মির অবরোধ ভাঙতে চাইলে ইরানের ‘অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে দেশ নতুন সাংবিধানিক সংকটে পড়বে:শিশির মনির সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার ভূত চেপেছে: মামুনুল হক খোলা চিঠিতে ‘বিদায়ের বার্তা’ দিলেন মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্য পুলিশ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারাগার থেকেই বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে চান ব্যারিস্টার সুমন সংসদীয় সার্বভৌমত্বের নামে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম হচ্ছে: সারোয়ার তুষার

মুসলিমদের থেকে সবজি কিনবেন না: বিজেপি সাংসদ

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে মুসলিম বিক্রেতাদের কাছ থেকে শাক-সবজি না কেনার বিতর্কিত পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সুরেশ তিওয়ারি। এরপরই বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষের শিকার হলেও নির্বিকার তিনি।

সমালোচনার জবাবে পাল্টা দাবি করে তিনি বলেছেন, তিনি কোনো ভুল বলেননি। ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। লকডাউন-পরিস্থিতি পরিদর্শনে উত্তরপ্রদেশের দেবরিয়া জেলায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বরহজে গিয়েছিলেন ওই বিজেপি সাংসদ। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় তাদেরকে ওই বিতর্কিত পরামর্শ দেন তিনি। খবর আনন্দবাজারের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সুরেশ বলছেন, ‘একটা কথা মনে রাখুন। আমি সকলকে খোলাখুলিই বলছি, মিয়াঁদের (মুসলিমদের) কাছ থেকে সবজি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই’।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সুরেশ তিওয়ারির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থানে অনড় সুরেশ। উল্টে তার দাবি, ‘আমার কেন্দ্রের ১০-১২ জন লোকের সঙ্গে লকডাউন নিয়ে কথাবার্তা বলছিলাম। সে সময় তারা আমাকে জানান, সবজা বিক্রির আগে মুসলিম বিক্রেতারা তাতে থুথু ছিটিয়ে দিচ্ছেন’। ফলে করোনা-সংক্রমণ এড়াতে এরপর তাদের ওই পরামর্শ দেন বলেও স্বীকার করেন সুরেশ।

সেই সঙ্গে নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন তিনি। সুরেশের কথায়, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, এ নিয়ে আমি কিছুই করতে পারব না। তবে করোনা-সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ওই বিক্রেতাদের থেকে সবজি কেনা বন্ধ করার কথা বলেছিলাম। মানুষজন যখন জানতে চাইছেন, এ বিষয়ে কী করণীয়… তখন এক জন সাংসদের আর কী-ই বা বলা উচিত? আমি কি কিছু ভুল বলেছি? বিষয়টিকে এত বাড়িয়েই বা দেখা হচ্ছে কেন?’

মঙ্গলবার দেবরিয়ায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুরেশ। এ দিন তিনি আরও দাবি করেন, ‘এইএমআইএম (অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদ উল-মুসলিমীন)-প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি হিন্দুদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করলে, তা নিয়ে কেউ আপত্তি করেন না। আর এক জন সাংসদ তার কেন্দ্রের মানুষজনের ভালর জন্য কিছু বললেই তা নিয়ে এত বড় ইস্যু করা হয়।’

সুরেশের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রাক্তন অভিনেত্রী তথা উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী নাগমা। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ওই ভিডিও শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনার নেতাদের এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করুন। এরা তো কিছুই বোঝেন না’।

গত সপ্তাহেই করোনাভাইরাসের মতো মহামারির দাপটের সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কোভিড-১৯ ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলকেই আঘাত করে, সে কথাও বলেছিলেন তিনি। এই মহামারি রুখতে সকলকেই একসঙ্গে হলে লড়াই করার আবেদনও করেন প্রধানমন্ত্রী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

বেলুনের ভেতরেই চলছে নির্মাণকাজ, ধুলা-শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে চীনের নতুন প্রযুক্তি

মুসলিমদের থেকে সবজি কিনবেন না: বিজেপি সাংসদ

আপডেট সময় ০৭:১৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে মুসলিম বিক্রেতাদের কাছ থেকে শাক-সবজি না কেনার বিতর্কিত পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সুরেশ তিওয়ারি। এরপরই বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষের শিকার হলেও নির্বিকার তিনি।

সমালোচনার জবাবে পাল্টা দাবি করে তিনি বলেছেন, তিনি কোনো ভুল বলেননি। ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। লকডাউন-পরিস্থিতি পরিদর্শনে উত্তরপ্রদেশের দেবরিয়া জেলায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বরহজে গিয়েছিলেন ওই বিজেপি সাংসদ। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় তাদেরকে ওই বিতর্কিত পরামর্শ দেন তিনি। খবর আনন্দবাজারের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সুরেশ বলছেন, ‘একটা কথা মনে রাখুন। আমি সকলকে খোলাখুলিই বলছি, মিয়াঁদের (মুসলিমদের) কাছ থেকে সবজি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই’।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সুরেশ তিওয়ারির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থানে অনড় সুরেশ। উল্টে তার দাবি, ‘আমার কেন্দ্রের ১০-১২ জন লোকের সঙ্গে লকডাউন নিয়ে কথাবার্তা বলছিলাম। সে সময় তারা আমাকে জানান, সবজা বিক্রির আগে মুসলিম বিক্রেতারা তাতে থুথু ছিটিয়ে দিচ্ছেন’। ফলে করোনা-সংক্রমণ এড়াতে এরপর তাদের ওই পরামর্শ দেন বলেও স্বীকার করেন সুরেশ।

সেই সঙ্গে নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন তিনি। সুরেশের কথায়, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, এ নিয়ে আমি কিছুই করতে পারব না। তবে করোনা-সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ওই বিক্রেতাদের থেকে সবজি কেনা বন্ধ করার কথা বলেছিলাম। মানুষজন যখন জানতে চাইছেন, এ বিষয়ে কী করণীয়… তখন এক জন সাংসদের আর কী-ই বা বলা উচিত? আমি কি কিছু ভুল বলেছি? বিষয়টিকে এত বাড়িয়েই বা দেখা হচ্ছে কেন?’

মঙ্গলবার দেবরিয়ায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুরেশ। এ দিন তিনি আরও দাবি করেন, ‘এইএমআইএম (অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদ উল-মুসলিমীন)-প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি হিন্দুদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করলে, তা নিয়ে কেউ আপত্তি করেন না। আর এক জন সাংসদ তার কেন্দ্রের মানুষজনের ভালর জন্য কিছু বললেই তা নিয়ে এত বড় ইস্যু করা হয়।’

সুরেশের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রাক্তন অভিনেত্রী তথা উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী নাগমা। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ওই ভিডিও শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনার নেতাদের এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করুন। এরা তো কিছুই বোঝেন না’।

গত সপ্তাহেই করোনাভাইরাসের মতো মহামারির দাপটের সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কোভিড-১৯ ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলকেই আঘাত করে, সে কথাও বলেছিলেন তিনি। এই মহামারি রুখতে সকলকেই একসঙ্গে হলে লড়াই করার আবেদনও করেন প্রধানমন্ত্রী।