ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী আগ্রাসন চালিয়ে হরমুজ কখনোই উন্মুক্ত করা যাবে না, ইরানের হুঁশিয়ারি ‘ফার্মের মুরগি’ এই ছাত্ররা রাস্তায় নেমেছিল বলেই আপনি এখন শিক্ষামন্ত্রী কুসুম্বা মসজিদের দানবাক্সে মিলল পৌনে ১৩ লাখ টাকা ও স্বর্ণের চামচ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঋণখেলাপি বলে জাতির কাছে ছোট করা হয়েছে: সংসদে এমপি সারোয়ার ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড পাবে দেড় কোটির বেশি পরিবার উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি জুলাই শহীদদের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে: আমানউল্লাহ আমান যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘জলদস্যু’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে: লুলা

মুসলিমদের থেকে সবজি কিনবেন না: বিজেপি সাংসদ

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে মুসলিম বিক্রেতাদের কাছ থেকে শাক-সবজি না কেনার বিতর্কিত পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সুরেশ তিওয়ারি। এরপরই বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষের শিকার হলেও নির্বিকার তিনি।

সমালোচনার জবাবে পাল্টা দাবি করে তিনি বলেছেন, তিনি কোনো ভুল বলেননি। ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। লকডাউন-পরিস্থিতি পরিদর্শনে উত্তরপ্রদেশের দেবরিয়া জেলায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বরহজে গিয়েছিলেন ওই বিজেপি সাংসদ। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় তাদেরকে ওই বিতর্কিত পরামর্শ দেন তিনি। খবর আনন্দবাজারের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সুরেশ বলছেন, ‘একটা কথা মনে রাখুন। আমি সকলকে খোলাখুলিই বলছি, মিয়াঁদের (মুসলিমদের) কাছ থেকে সবজি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই’।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সুরেশ তিওয়ারির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থানে অনড় সুরেশ। উল্টে তার দাবি, ‘আমার কেন্দ্রের ১০-১২ জন লোকের সঙ্গে লকডাউন নিয়ে কথাবার্তা বলছিলাম। সে সময় তারা আমাকে জানান, সবজা বিক্রির আগে মুসলিম বিক্রেতারা তাতে থুথু ছিটিয়ে দিচ্ছেন’। ফলে করোনা-সংক্রমণ এড়াতে এরপর তাদের ওই পরামর্শ দেন বলেও স্বীকার করেন সুরেশ।

সেই সঙ্গে নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন তিনি। সুরেশের কথায়, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, এ নিয়ে আমি কিছুই করতে পারব না। তবে করোনা-সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ওই বিক্রেতাদের থেকে সবজি কেনা বন্ধ করার কথা বলেছিলাম। মানুষজন যখন জানতে চাইছেন, এ বিষয়ে কী করণীয়… তখন এক জন সাংসদের আর কী-ই বা বলা উচিত? আমি কি কিছু ভুল বলেছি? বিষয়টিকে এত বাড়িয়েই বা দেখা হচ্ছে কেন?’

মঙ্গলবার দেবরিয়ায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুরেশ। এ দিন তিনি আরও দাবি করেন, ‘এইএমআইএম (অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদ উল-মুসলিমীন)-প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি হিন্দুদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করলে, তা নিয়ে কেউ আপত্তি করেন না। আর এক জন সাংসদ তার কেন্দ্রের মানুষজনের ভালর জন্য কিছু বললেই তা নিয়ে এত বড় ইস্যু করা হয়।’

সুরেশের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রাক্তন অভিনেত্রী তথা উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী নাগমা। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ওই ভিডিও শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনার নেতাদের এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করুন। এরা তো কিছুই বোঝেন না’।

গত সপ্তাহেই করোনাভাইরাসের মতো মহামারির দাপটের সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কোভিড-১৯ ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলকেই আঘাত করে, সে কথাও বলেছিলেন তিনি। এই মহামারি রুখতে সকলকেই একসঙ্গে হলে লড়াই করার আবেদনও করেন প্রধানমন্ত্রী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ করলেন ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী

মুসলিমদের থেকে সবজি কিনবেন না: বিজেপি সাংসদ

আপডেট সময় ০৭:১৯:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে মুসলিম বিক্রেতাদের কাছ থেকে শাক-সবজি না কেনার বিতর্কিত পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সাংসদ সুরেশ তিওয়ারি। এরপরই বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষের শিকার হলেও নির্বিকার তিনি।

সমালোচনার জবাবে পাল্টা দাবি করে তিনি বলেছেন, তিনি কোনো ভুল বলেননি। ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। লকডাউন-পরিস্থিতি পরিদর্শনে উত্তরপ্রদেশের দেবরিয়া জেলায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বরহজে গিয়েছিলেন ওই বিজেপি সাংসদ। সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সময় তাদেরকে ওই বিতর্কিত পরামর্শ দেন তিনি। খবর আনন্দবাজারের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সুরেশ বলছেন, ‘একটা কথা মনে রাখুন। আমি সকলকে খোলাখুলিই বলছি, মিয়াঁদের (মুসলিমদের) কাছ থেকে সবজি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই’।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সুরেশ তিওয়ারির বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থানে অনড় সুরেশ। উল্টে তার দাবি, ‘আমার কেন্দ্রের ১০-১২ জন লোকের সঙ্গে লকডাউন নিয়ে কথাবার্তা বলছিলাম। সে সময় তারা আমাকে জানান, সবজা বিক্রির আগে মুসলিম বিক্রেতারা তাতে থুথু ছিটিয়ে দিচ্ছেন’। ফলে করোনা-সংক্রমণ এড়াতে এরপর তাদের ওই পরামর্শ দেন বলেও স্বীকার করেন সুরেশ।

সেই সঙ্গে নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন তিনি। সুরেশের কথায়, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, এ নিয়ে আমি কিছুই করতে পারব না। তবে করোনা-সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ওই বিক্রেতাদের থেকে সবজি কেনা বন্ধ করার কথা বলেছিলাম। মানুষজন যখন জানতে চাইছেন, এ বিষয়ে কী করণীয়… তখন এক জন সাংসদের আর কী-ই বা বলা উচিত? আমি কি কিছু ভুল বলেছি? বিষয়টিকে এত বাড়িয়েই বা দেখা হচ্ছে কেন?’

মঙ্গলবার দেবরিয়ায় নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সুরেশ। এ দিন তিনি আরও দাবি করেন, ‘এইএমআইএম (অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদ উল-মুসলিমীন)-প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি হিন্দুদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করলে, তা নিয়ে কেউ আপত্তি করেন না। আর এক জন সাংসদ তার কেন্দ্রের মানুষজনের ভালর জন্য কিছু বললেই তা নিয়ে এত বড় ইস্যু করা হয়।’

সুরেশের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রাক্তন অভিনেত্রী তথা উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী নাগমা। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ওই ভিডিও শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনার নেতাদের এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করুন। এরা তো কিছুই বোঝেন না’।

গত সপ্তাহেই করোনাভাইরাসের মতো মহামারির দাপটের সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আবেদন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কোভিড-১৯ ধর্ম, জাতি, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলকেই আঘাত করে, সে কথাও বলেছিলেন তিনি। এই মহামারি রুখতে সকলকেই একসঙ্গে হলে লড়াই করার আবেদনও করেন প্রধানমন্ত্রী।