ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সম্প্রীতি বজায় রেখে নেতাদের রাজনীতি করার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের টাকা ছাপিয়ে ঋণ নয়, প্রাইভেট সেক্টরকে রক্ষা করাই নীতি: অর্থমন্ত্রী ২-৩ বছরের মধ্যে শিক্ষার নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়ন সম্ভব : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ‘ফেলুদা’খ্যাত অভিনেতা বিপ্লব মারা গেছেন আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা-শারমিন পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে কাজ করছে সরকার : অর্থমন্ত্রী কুমিল্লায় মহাসড়কের পাশে মিলল কাস্টমস কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির

২০ বছর পরেও তার আকর্ষণ

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

২০ বছর পর আবারও ব্রিটেনের দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন প্রিন্সেস ডায়ানা। শুধু পত্রিকাই নয়, কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান আকর্ষণও এখন ডায়ানাকে ঘিরে তৈরি করা প্রামাণ্যচিত্র। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে প্রেমিক দোদি আল ফায়েদের সঙ্গে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ডায়ানা।

রাজপরিবারকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের পত্রিকাগুলোতে যে একের পর এক নাটকীয়তা প্রকাশিত হচ্ছিল রাজসিংহাসনের বর্তমান উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লসের স্ত্রী ডায়ানা ছিলেন তার আলোকবিন্দুতে। সম্ভবত এটিই তাকে বিশ্বের কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত নারী করে তুলেছিল। গত দুই দশকে ব্রিটেনে গণশোকের যেসব ঘটনা ঘটেছে ডায়ানার মৃত্যুর শোক তার সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। এখনও ব্রিটেনের গণমাধ্যমে আলোচিত হিসেবে উঠে আসছেন ডায়ানা।

ম্যাজেস্টি নামে একটি সাময়িকীর সম্পাদক এবং ‘ডায়ানা : দ্যা লাস্ট ওয়ার্ড’গ্রন্থের লেখক ইনগ্রিদ সিউয়ার্ড বলেন, ‘ডায়ানার মতো কেউ আর কখনো হবে না।

বিগত বছরগুলোতে ডায়ানার মৃত্যুদিবসটি বেশ ম্লানভাবেই উদযাপিত হচ্ছিল। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের উপাধি দেওয়া ‘জনগণের রাজকুমারী’কে তার অল্পকিছুই ভক্তই কেবল বিশেষ এই দিনটিতে স্মরণ করতেন। তবে ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারিকে সঙ্গে নিয়ে ২০ তম মৃত্যুবার্ষিকীর আগেই আবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রথম পাতায় হাজির হয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্যামেরার সামনে আসা নারীটি।

প্রিন্সেস ডায়ানার সাবেক রাজকীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা কেন হোয়ার্ফি বলেন, ‘২০০০-এর বছরগুলোতে ডায়ানা সম্পর্কে খুব কমই শোনা যেত।’

তিনি জানান, ডায়ানা জীবিতকালে এইডস আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করতেন। এছাড়া গৃহহীন মানুষদের সুরক্ষা ও ভূমিমাইন অপসারণের পক্ষে কাজ করেছেন। ডায়ানার ছেলেরা তার অসমাপ্ত কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। ছেলেরা তার মৃত্যুতে পাওয়া মানসিক আঘাত এবং শেষ সময়ের আবেগগুলোর প্রভাব নিয়ে এখন কথা বলতে শুরু করেছেন।

‘ডায়ানা, আমাদের মা : তার জীবন ও কর্ম’ শিরোণামে একটি টেলিভিশন প্রামাণ্যচিত্রটি এক কোটি ব্রিটিশ দর্শক দেখেছে। প্রিন্স হ্যারি বলেছেন, ‘তিনি এখনো আমাদের মা। সন্তান হিসেবে আমি অবশ্যই বলব, তিনি পৃথিবীর সেরা মা ছিলেন। তিনি ভালোবাসা দিয়ে আমাদের ঘিরে রেখেছিলেন।’

চলতি মাসের প্রথম দিকে ‘নিজের জগতে ডায়ানা’ শিরোণামে আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচারিত হয়েছিল। এটি দেখেছে ৩৫ লাখ দর্শক। চ্যানেল ফোরের ইতিহাসে এক বছরে কোনো অনুষ্ঠানে এটি ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক দর্শক।

১৯৯৬ সালে চার্লসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ডায়ানার সঙ্গে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে যে ধরণের আচরণ করা হয়েছিল তাতেও ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেকে ব্রিটিশ নাগরিক। জনপ্রিয় ব্রিটিশ দৈনিক দ্য সান চলতি মাসের প্রথম দিকে ডায়ানার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে যেয়ে একটি জরিপ করেছিল। এতে রানী এলিজাবেথের পর চার্লস নাকি তার ছেলে উইলিয়ামকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারি দেখতে চান শীর্ষ একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। দেখা গেছে, মাত্র ২২ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক চার্লসকে চান, আর ৬৮ শতাংশই চান ডায়ানার ছেলে উইলিয়ামকে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

২০ বছর পরেও তার আকর্ষণ

আপডেট সময় ০১:০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

২০ বছর পর আবারও ব্রিটেনের দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন প্রিন্সেস ডায়ানা। শুধু পত্রিকাই নয়, কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান আকর্ষণও এখন ডায়ানাকে ঘিরে তৈরি করা প্রামাণ্যচিত্র। ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট প্যারিসে প্রেমিক দোদি আল ফায়েদের সঙ্গে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ডায়ানা।

রাজপরিবারকে কেন্দ্র করে ব্রিটেনের পত্রিকাগুলোতে যে একের পর এক নাটকীয়তা প্রকাশিত হচ্ছিল রাজসিংহাসনের বর্তমান উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লসের স্ত্রী ডায়ানা ছিলেন তার আলোকবিন্দুতে। সম্ভবত এটিই তাকে বিশ্বের কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিত নারী করে তুলেছিল। গত দুই দশকে ব্রিটেনে গণশোকের যেসব ঘটনা ঘটেছে ডায়ানার মৃত্যুর শোক তার সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছিল। এখনও ব্রিটেনের গণমাধ্যমে আলোচিত হিসেবে উঠে আসছেন ডায়ানা।

ম্যাজেস্টি নামে একটি সাময়িকীর সম্পাদক এবং ‘ডায়ানা : দ্যা লাস্ট ওয়ার্ড’গ্রন্থের লেখক ইনগ্রিদ সিউয়ার্ড বলেন, ‘ডায়ানার মতো কেউ আর কখনো হবে না।

বিগত বছরগুলোতে ডায়ানার মৃত্যুদিবসটি বেশ ম্লানভাবেই উদযাপিত হচ্ছিল। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের উপাধি দেওয়া ‘জনগণের রাজকুমারী’কে তার অল্পকিছুই ভক্তই কেবল বিশেষ এই দিনটিতে স্মরণ করতেন। তবে ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারিকে সঙ্গে নিয়ে ২০ তম মৃত্যুবার্ষিকীর আগেই আবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রথম পাতায় হাজির হয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্যামেরার সামনে আসা নারীটি।

প্রিন্সেস ডায়ানার সাবেক রাজকীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা কেন হোয়ার্ফি বলেন, ‘২০০০-এর বছরগুলোতে ডায়ানা সম্পর্কে খুব কমই শোনা যেত।’

তিনি জানান, ডায়ানা জীবিতকালে এইডস আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোকে সহযোগিতা করতেন। এছাড়া গৃহহীন মানুষদের সুরক্ষা ও ভূমিমাইন অপসারণের পক্ষে কাজ করেছেন। ডায়ানার ছেলেরা তার অসমাপ্ত কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। ছেলেরা তার মৃত্যুতে পাওয়া মানসিক আঘাত এবং শেষ সময়ের আবেগগুলোর প্রভাব নিয়ে এখন কথা বলতে শুরু করেছেন।

‘ডায়ানা, আমাদের মা : তার জীবন ও কর্ম’ শিরোণামে একটি টেলিভিশন প্রামাণ্যচিত্রটি এক কোটি ব্রিটিশ দর্শক দেখেছে। প্রিন্স হ্যারি বলেছেন, ‘তিনি এখনো আমাদের মা। সন্তান হিসেবে আমি অবশ্যই বলব, তিনি পৃথিবীর সেরা মা ছিলেন। তিনি ভালোবাসা দিয়ে আমাদের ঘিরে রেখেছিলেন।’

চলতি মাসের প্রথম দিকে ‘নিজের জগতে ডায়ানা’ শিরোণামে আরেকটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচারিত হয়েছিল। এটি দেখেছে ৩৫ লাখ দর্শক। চ্যানেল ফোরের ইতিহাসে এক বছরে কোনো অনুষ্ঠানে এটি ছিল সর্বোচ্চ সংখ্যক দর্শক।

১৯৯৬ সালে চার্লসের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ডায়ানার সঙ্গে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে যে ধরণের আচরণ করা হয়েছিল তাতেও ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেকে ব্রিটিশ নাগরিক। জনপ্রিয় ব্রিটিশ দৈনিক দ্য সান চলতি মাসের প্রথম দিকে ডায়ানার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে যেয়ে একটি জরিপ করেছিল। এতে রানী এলিজাবেথের পর চার্লস নাকি তার ছেলে উইলিয়ামকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারি দেখতে চান শীর্ষ একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল। দেখা গেছে, মাত্র ২২ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক চার্লসকে চান, আর ৬৮ শতাংশই চান ডায়ানার ছেলে উইলিয়ামকে।