আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
কাজে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সবাইকে ঘরে থাকার আহবান জানানো হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। ফলে যেতে পারছেন না নিম্ন আয়ের মানুষ। যা তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। দিনকে দিন তীব্র হয়ে উঠছে খাবার সঙ্কট। ঠিকমতো পাচ্ছেন না ত্রাণও।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাউনিয়াবাধ এ- ব্লক পোড়া বস্তি, ই-ব্লক কলাবাগান বস্তি, ডি-ব্লক বেড়িবাঁধ বস্তি, সি ব্লক পুকুরপাড় বস্তি, সবুজ বাংলা খিচুড়ি পট্টি বস্তি ঘুরে দেখা যায়, তাদের কেউ খোঁজ খবর নিচ্ছে না। অনেকেই না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বস্তির বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিকবার এসে তাদের নাম-ঠিকানা লিখে নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সাহায্য বা ত্রাণ তারা পাননি। নামমাত্র কেউ কেউ ত্রাণ পেলেও বাকিরা পাচ্ছেন না। এই এলাকায় নিম্নআয়ের প্রায় ১৩৭৫ পরিবার বসবাস করে।
বাউনিয়াবাধ এ- ব্লক পোড়া বস্তির বাসিন্দা রিকশাচালক নূর ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের এলাকায় কোনো করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির কারণে কোথাও কাজেও যেতে পারছি না। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা পাইনি। কষ্টে পার করছি দিন। এখানে ২৬৫ পরিবারের বসবাস। নামমাত্র কিছু ত্রাণ দেওয়া হয়েছে তাও শুধুমাত্র মুখ দেখে দেখে। না পারতে লুকিয়ে মাঝে মাঝে পরিবারের জন্য রিকশা চালাই। জমানো যা টাকা ছিল তাও শেষ হয়ে আসছে। এখানে অনেক পরিবার না খেয়ে দিন পার করছে।
সড়কে রিকশা নিয়ে বের হলেই রাখা হয় উল্টে।
ই-ব্লক কলাবাগান বস্তির বাসিন্দা রাশিদা বেগম। কারচুপির কাজ করে। তিনি বলেন, গত মাসের ২৬ (২৬ মার্চ) তারিখের পর থেকে কোথাও কাজ করতে যেতে পারি না। সব কিছু বন্ধ। বাসায় বসে আছি। কোনো রকমে আলু ভর্তা আর ভাত খেয়ে দিন পার করছি। আমাদের কেউ সাহায্য-সহযোগিতা করছে না। আমাদের বস্তিতে মাত্র ৪০ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এখানে ৬০০ পরিবারের বসবাস। আমরা সবাই সাহায্যের অপেক্ষায় আছি। এখানে এসে লোকজনের নাম লিখে নিয়ে যায়, কিন্তু ত্রাণের কোনো খবর নেই।
সবুজ বাংলা এলাকার খিচুড়ি পট্টি বস্তির বাসিন্দা রিকশাচালক মো. ফারুক বলেন, অনেক কষ্টের মধ্যে দিন পার করছি। মাঝে মাঝে লুকিয়ে রিকশা চালাই। পুলিশে ধরলে রাস্তার মধ্যে রিকশা উল্টা করে রেখে দেয়। আমরাই বস্তির বাসিন্দারা সরকারিভাবে কোনো প্রকার সাহায্য বা ত্রাণ এখনো পর্যন্ত পাইনি। আমাদের বস্তির বাড়িওয়ালারা একশ পরিবারকে সাহায্য দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল তিন কেজি চাল, এক কেজি লবণ, এক কেজি আলু। এখানে ২২০ পরিবারের বসবাস। কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে নামমাত্র ২০ প্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। এগুলো পেয়েছিল কাউন্সিলর এর নেতা-কর্মীরা।
এছাড়াও ডি-ব্লক বেড়িবাঁধ বস্তিতে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। তাদেরও একই অভিযোগ।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুর রউফ নান্নু বলেন, আমার কাছে ত্রাণ আসছে ৮০০ প্যাকেট। আমি ব্যাক্তিগতভাবে দিয়েছি দুই হাজার প্যাকেট। এরা (বস্তি বাসিরা) কোনো দিন ত্রাণ পাবে না। এরা সকালে ত্রাণ পাইলে, বিকেলে বলে পাই নাই।
পরিচিত জনদের ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ত্রাণ দেওয়ার সময় আমার সঙ্গে একদিন থাকেন। আমার সঙ্গে একদিন থেকে দেখেন, আমি কী পরিমান ত্রাণ দেই। আমাকে যে পরিমাণ ত্রাণ দেওয়া হয়েছে তাতো দিয়েছি। ভিক্ষা করে এনেও দিয়েছি। যতটুকু ত্রাণ প্রয়োজন ততটুকু তো দিতে পারছি না। সবাই যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসলে কোনো সমস্যা হতো না। আমার ওয়ার্ডে ৮৫ হাজার ভোটার। ৪ লাখ মানুষের বসবাস। নিম্নআয়ের মানুষ হবে অন্তত ৪০ হাজার। কীভাবে এত মানুষকে সাহায্য করবো?
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















