ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ বিএনপি ‘আত্মঘাতী’ রাজনীতি করছে: মামুনুল হক জুলাই সনদ সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে :পার্থ সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ার শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নিহত তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি!

মাগুরায় ১৩০০ টাকার সুদের জন্য ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মাত্র ১৩শ’ টাকার সুদ বসতবাড়ির চার শতক জমি লিখে দিয়েও পরিশোধ হয়নি। প্রতি সপ্তাহেই কারবারিকে দিতে হয় ৩ হাজার টাকা। তারপরও চলে অত্যাচার।

সুদে কারবারির এমন অত্যাচারে শেষ পর্যন্ত বিষপানে মৃত্যু হলো মাগুরার সবজি ব্যবসায়ী সুব্রত প্রামাণিকের।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা করা হলেও পুলিশ আত্মহত্যার ঘটনা বলে সুদে কারবারিকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়েছে।

মাগুরার সদর উপজেলার রামদেরগাতি গ্রামের শিবুপদ প্রমাণিকের ছেলে সুব্রত প্রামাণিক (৩৭) পেশায় একজন পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী। প্রতি বৃহস্পতিবার মাগুরা সবজি আড়ত থেকে সবজি কিনে অন্যান্য হাটে নিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন।

অন্যান্য দিনের মতোই তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে মাগুরার উদ্দেশে বের হন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বাড়ির পাশে সুব্রত প্রমাণিকের বিষপানের খবর আসে।

নিহত সুব্রত প্রামাণিকের স্ত্রী পূর্ণিমা প্রামাণিক জানায়, সকালে সে সবজি কেনার জন্যে ৩৭ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সে বাজারে না গিয়ে বাগানের মধ্যে বিষ পান করেছে বলে বাড়িতে এসে জানায় সুদে কারবারি গোয়াল বাথান গ্রামের নায়েব আলি। কিন্তু তার কথায় বিশ্বাস না করে গ্রামের অন্যান্য লোকদের নিয়ে গোয়ালবাথান বাজারে ডাক্তারের কাছে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।

পূর্ণিমা প্রামাণিক বলেন, ৭ বছর আগে সুদে কারবারি আইয়ুব আলির কাছ থেকে মাত্র ১৩শ’ টাকা নিয়েছিল আমার স্বামী। কিন্তু সেই টাকার জন্যে আইয়ুব জোর করে আমার বসতঘরের ৪ শতক জমি লিখে নিয়েছে। সেই জমি ফেরত চাইলেও দেয়নি। উলটো আরও টাকার জন্য সব সময় আমার স্বামীর অত্যাচার চালায়। শেষ পর্যন্ত আমার স্বামীকে মেরে ফেলে বাড়িতে খবর নিয়ে আসে। কিন্তু এই কথা পুলিশকে জানিয়েছি। মামলা করার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় বসে থাকলেও পুলিশ কোনো মামলা নেয়নি।

পূর্ণিমা প্রামাণিকের বক্তব্যের পক্ষে স্থানীয় অনেকেই সাক্ষ্য দিয়েছেন। মাগুরা সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক রাজাসহ অনেকেই জানান, নায়েব আলীর সুদ কারবারির ফাঁদে পড়ে সঞ্জয় দাস, সনজিৎ দাস, বাবলু মোল্যা, বাদল মোল্যা, উজ্জল সরদার, শরিফুল ইসলাম, ডাবলু মোল্যাসহ রামদারগাতি ও গোয়ালবাথান এলাকার অন্তত ২৫ জন গত ৫ বছরে বসতবাড়িসহ সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইয়ুব আলি একজন চিহ্নিত সুদে কারবারি। খবর পেয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু সুব্রত প্রামাণিকের মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। আপাতত তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

মাগুরায় ১৩০০ টাকার সুদের জন্য ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা!

আপডেট সময় ১০:২৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মাত্র ১৩শ’ টাকার সুদ বসতবাড়ির চার শতক জমি লিখে দিয়েও পরিশোধ হয়নি। প্রতি সপ্তাহেই কারবারিকে দিতে হয় ৩ হাজার টাকা। তারপরও চলে অত্যাচার।

সুদে কারবারির এমন অত্যাচারে শেষ পর্যন্ত বিষপানে মৃত্যু হলো মাগুরার সবজি ব্যবসায়ী সুব্রত প্রামাণিকের।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা করা হলেও পুলিশ আত্মহত্যার ঘটনা বলে সুদে কারবারিকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়েছে।

মাগুরার সদর উপজেলার রামদেরগাতি গ্রামের শিবুপদ প্রমাণিকের ছেলে সুব্রত প্রামাণিক (৩৭) পেশায় একজন পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী। প্রতি বৃহস্পতিবার মাগুরা সবজি আড়ত থেকে সবজি কিনে অন্যান্য হাটে নিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন।

অন্যান্য দিনের মতোই তিনি বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ি থেকে মাগুরার উদ্দেশে বের হন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বাড়ির পাশে সুব্রত প্রমাণিকের বিষপানের খবর আসে।

নিহত সুব্রত প্রামাণিকের স্ত্রী পূর্ণিমা প্রামাণিক জানায়, সকালে সে সবজি কেনার জন্যে ৩৭ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু সে বাজারে না গিয়ে বাগানের মধ্যে বিষ পান করেছে বলে বাড়িতে এসে জানায় সুদে কারবারি গোয়াল বাথান গ্রামের নায়েব আলি। কিন্তু তার কথায় বিশ্বাস না করে গ্রামের অন্যান্য লোকদের নিয়ে গোয়ালবাথান বাজারে ডাক্তারের কাছে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি।

পূর্ণিমা প্রামাণিক বলেন, ৭ বছর আগে সুদে কারবারি আইয়ুব আলির কাছ থেকে মাত্র ১৩শ’ টাকা নিয়েছিল আমার স্বামী। কিন্তু সেই টাকার জন্যে আইয়ুব জোর করে আমার বসতঘরের ৪ শতক জমি লিখে নিয়েছে। সেই জমি ফেরত চাইলেও দেয়নি। উলটো আরও টাকার জন্য সব সময় আমার স্বামীর অত্যাচার চালায়। শেষ পর্যন্ত আমার স্বামীকে মেরে ফেলে বাড়িতে খবর নিয়ে আসে। কিন্তু এই কথা পুলিশকে জানিয়েছি। মামলা করার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় বসে থাকলেও পুলিশ কোনো মামলা নেয়নি।

পূর্ণিমা প্রামাণিকের বক্তব্যের পক্ষে স্থানীয় অনেকেই সাক্ষ্য দিয়েছেন। মাগুরা সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক রাজাসহ অনেকেই জানান, নায়েব আলীর সুদ কারবারির ফাঁদে পড়ে সঞ্জয় দাস, সনজিৎ দাস, বাবলু মোল্যা, বাদল মোল্যা, উজ্জল সরদার, শরিফুল ইসলাম, ডাবলু মোল্যাসহ রামদারগাতি ও গোয়ালবাথান এলাকার অন্তত ২৫ জন গত ৫ বছরে বসতবাড়িসহ সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র চলে গেছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আইয়ুব আলি একজন চিহ্নিত সুদে কারবারি। খবর পেয়ে তাকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু সুব্রত প্রামাণিকের মৃত্যুর সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। আপাতত তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।