আকাশ নিউজ ডেস্ক:
বিশ্বজয়ের স্বপ্নে বিভোর নাজমুন নাহার। বাংলাদেশি এ তরুণী ইতিমধ্যে ১১০ দেশ ঘুরে ফেলেছেন। প্রতিটি দেশ ভ্রমণের সময় তিনি বয়ে বেড়িয়েছেন লাখো মানুষের রক্তে খচিত বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।
নাজমুন নাহারের স্বপ্ন-যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিশ্বের বাকি দেশগুলোও দেখে ফেলা। সম্ভবত তিনিই বাংলাদেশের প্রথম কোনো নারী, যিনি বিশ্বের এতগুলো দেশ সফর করেছেন।
নাজমুন নাহার মনে করেন, যে মানুষ উচ্ছ্বাসপ্রবণ এবং যার ভেতরে স্বপ্ন থাকে, তাকে কেউ ওই স্বপ্নপূরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে না। তারভাষ্য-আমি সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করি। ‘না’ বলে কোনো শব্দ আমার কাছে নেই। আমি বিশ্বাস করি যে চেষ্টা করলে সব কিছুই করা সম্ভব।
সুইডেন প্রবাসী এ নারী নিজের উদ্যোগেই ১১০ দেশ সফর করেছেন। ভারত ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তার সফর শুরু। বিদেশে ভ্রমণ করার সময় বিভিন্ন জায়গায় তাকে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
১৭ বছর ধরে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু এ জন্য তো সময় এবং অর্থ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। এসব তিনি কীভাবে ব্যবস্থা করলেন?
এই প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশি এ তরুণী বলেন, প্রথম কয়েকটি দেশ তিনি ভ্রমণ করেছেন বাংলাদেশ গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে।
এর পর তিনি বৃত্তি নিয়ে চলে যান সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে পড়তে পড়তে স্বপ্ন দেখতে থাকেন আরও দেশ ভ্রমণের জন্য। সেই সময় তিনি বিশ্ব ভ্রমণের লক্ষ্যে অর্থ সঞ্চয়ের জন্য প্রচুর কাজও করতেন।
নাজমুনের ভাষ্য-‘আমি জানতাম কষ্ট করে উপার্জন না করলে আমি ভ্রমণ করতে পারব না। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে কোন কোন দিন আছে, আমি ১৭-১৮ ঘণ্টা ধরেও কাজ করেছি। কারণ আমার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্যই হচ্ছে-পুরো পৃথিবী ভ্রমণ করা। ইউরোপে থাকার কারণেও আমার এই ভ্রমণে কিছুটা সুবিধা হয়েছে।’
একজন নারী এবং বিশেষ করে বাংলাদেশি নারী হিসেবে এই ভ্রমণের সময় তার কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নাহার বলেন, প্রথমত এটি মানসিক সংগ্রাম। এ সংগ্রামে জয়ী হতে পারলে যে কোনো জিনিসই সহজ হয়ে যায়।
পৃথিবীর যেখানেই যাচ্ছেন নাজমুন নাহার, সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। লাল-সবুজ এই পতাকা দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বিভিন্ন দেশের স্থানীয় লোকজনের। জাম্বিয়া সরকারের একজন গভর্নর এ জন্য তাকে ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ বলেও খেতাব দিয়েছেন।
বাংলাদেশের পতাকা কেন নিয়ে যাচ্ছেন-এমন প্রশ্নে নাহার বলেন, পতাকা আমার কাছে দেশপ্রেমের একটি চিহ্ন, আবেগ ও ভালোবাসা। এই পতাকার মাঝে লুকিয়ে আছে ১৬ কোটি মানুষের ভালোবাসা। আছে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারানো বহু শহীদের রক্ত। তাদের কারণে আমরা এ পতাকা পেয়েছি।
‘আমরা তো নিজ নিজ ক্ষেত্রে দেশের জন্য কিছু করতে পারি। আমি ভ্রমণ করছি, পৃথিবী দেখছি। কিন্তু আমার দেশ আমার সঙ্গে যাচ্ছে এ পতাকার মাধ্যমে। এর মাধ্যমে আমি পৃথিবীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছি শান্তির বার্তা-আমরা একই পরিবারের মানুষ, একই পৃথিবীর মানুষ, ধর্ম-বর্ণ, জাতি আমি যে-ই হই না কেন শেষ পর্যন্ত আমরা তো সবাই বসবাস করছি একই আকাশের নিচে’, যোগ করেন মিস ফ্ল্যাগ গার্ল।
বই পড়া থেকে ভ্রমণে আগ্রহী হয়েছেন নাজমুন নাহার। তার ভাষ্য-শৈশবে বই পড়তে পড়তেই ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। ভ্রমণ কাহিনীসহ নানা বই পড়ার সময় আমার মনে হতো চলে গেছি। ওই গল্পের ভেতরে হারিয়ে যেতাম আমি।
নাজমুন নাহার জানান, বিদেশ ভ্রমণে তার বাবা ও দাদা তাকে উৎসাহিত করেছেন। তার দাদা ১৯ শতকের শুরুর দিকে বিভিন্ন আরব দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বাবাও বহু দেশ সফর করেছেন। এই দুজনকে দেখে তিনি বিভিন্ন দেশ সফরে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
তার এই স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ ছিল ভারত। সেখানে বিশ্বের ৮০ দেশের ছেলেমেয়ের এক সমাবেশে তিনি যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ থেকে। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। সূত্র : বিবিসি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























