ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দানবের নয় মানবের সমাজ চাই

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সুইডেনে শরতের আবির্ভাবে গাছপালা তার রঙ পাল্টাতে শুরু করেছে। সবুজ আর সবুজ নেই, তা এখন নানা রঙে রঙিন হয়ে নিজেদেরকে উজাড় করে দিয়েছে যা শুধু উপভোগ করার মত।

স্রষ্টার সৃষ্টির অপূর্ব সৌন্দর্য যার বর্ণনা করার মত ভাষা আমার জানা নেই, তবে অনুভব করার মত মন মানসিকতা রয়েছে, তাই মানবতা ও মনুষ্যত্বের উপর কিছু কথা বলতে চাই।

মানবতা কী এবং কীভাবে তা সনাক্ত করা সম্ভব? আমরা পৃথিবীর যা কিছু মহাকল্যাণকর তার সব কিছুতেই আমাদের ভূমিকা রেখেছি। আমরা হয়েছি বিখ্যাত, আমরা হয়েছি কুখ্যাত।

এই বিখ্যাত ও কুখ্যাত এর সমন্বয়ে গড়েছি এই পৃথিবীকে। আমরা ভালো-মন্দ কাজে পারদর্শী এবং বেশ সহজেই উপসংহার দিতেও পাকা।

আজ রিলেশনের উপর কিছু অপ্রিয় সত্য কথার বর্ণনা করব কাঁচা দিয়ে। সুইডেনে সন্তানের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মা দুজনই ১০ দিনের জন্য সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে, কোন রকম অর্থনৈতিক সমস্যা ছাড়া।

তারপর বাবা-মার যে কেউ ১৮ মাস সন্তানের লালন পালনের জন্য পুরো বেতনে বাচ্চার সাথে থাকে বা থাকতে পারে, তবে এর ব্যতিক্রম ঘটতে পারে তা নির্ভর করছে বাবা-মার উপর।

পরে বাচ্চাকে কিন্ডারগার্টেন দেওয়া থেকে শুরু করে ১৮ বছর অব্দি সময়টুকু বাবা-মার সমন্বয়ে সমাজের সব ধরণের সুযোগ-সুবিধার মধ্য দিয়ে সন্তানকে গড়ে তোলা হয় একটি সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে।

ব্যতিক্রম আছে যেমন সেপারেশন বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে বা অন্য কোন জটিলতার কারণে সোস্যাল ফেয়ার্স ইন্টারফেয়ার করে থাকে সন্তানের বা পরিবারের সব ধরনের কেয়ার টেকার হিসাবে।

সুইডেন গণতন্ত্রের বেস্ট প্রাকটিসে বিশ্বের শীর্ষস্থানে সে বিষয়ে সন্দেহ না থাকারই কথা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায়। সুইডেনে সবাই টাক্স (কর) পে করে এবং এখানে টাক্স ফাঁকি দিলে এবং ধরা খেলে শাস্তির বিষয়টি ১০০% নির্ধারিত।

একজন মানুষ খুন করা প্রসঙ্গত বলতে হবে সহজ তুলনামূলকভাবে টাক্স ফাঁকি দেওয়ার থেকে। এদের চিন্তায় এরা মনে করে ঘুস, দুর্নীতি, টাক্স ফাঁকি দেওয়া এসব লোভ লালসার কারণে ঘটে।

এখানে শাস্তি অবশ্যই হওয়া উচিত কিন্তু মানুষ হয়ে মানুষকে খুন করা এটা কখনো সম্ভব নয় যতক্ষন পর্যন্ত সে মানুষ।

এদের চিন্তায় এরা মনে করে মানুষ যখন দানব বা অসুস্থতায় ভোগে তখন সে খুন করার মত জঘন্যতম কাজ করতে পারে। তাই এদেরকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

কর্মজীবন শেষে মানুষ বৃদ্ধ বয়সে পেনশন পেয়ে থাকে বিধায় সমাজ, পরিবার, ছেলে-মেয়ে কারো কোন দায় নেই যেমনটি ছিলো জীবনের শুরুতে বাবা-মা হিসাবে সন্তানের ওপর।

বিধায় এখানে একজন বৃদ্ধ তাঁর সময় কাটতে পারে দেশ বিদেশ ঘুরে, বৃদ্ধাশ্রমে বা সমন্বয়ে বসবাস করে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সচ্ছলতা মানুষের জীবনের শুরু থেকে শেষ সময়টুকু কীভাবে কাটবে এর জন্য দায়ভার নিয়ে থাকে।

এখন বাংলাদেশে যেহেতু গণতন্ত্রের বেস্ট প্রাকটিসের অভাব। পৃথিবীর মধ্যে হাতে গোনা দরিদ্র দেশের মধ্যে একটি।পারিবারিক বা সামাজিক কোনভাবেই সুইডেনের সাথে তুলনা করার মত অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেই।

সঙ্গে দেদারছে চলছে দুর্নীতি, অনীতি, ঘুষ, খুন, রাহাজানি, হয়রানী সারা দেশ জুড়ে। একই মানুষ অর্থের অভাবে তার পরিচয় হারিয়ে হয়েছে চাকর, মুচি, মেথর কিন্তু তাঁরা করছে সমাজের সবচেয়ে নিচু কাজটি কিছু বড়লোকের জন্য।

যাদেরকে সুইডেনে আমরা অমানুষের চোখে দেখি যদি সেই জনগোষ্ঠী দুর্নীতি, ঘুষ বা টাক্স ফাঁকি দিয়ে অর্থের প্রাচুর্য গড়ে থাকে। মানুষ যখন অর্থের অভাবে স্বার্থ খোঁজে সে অন্যায়।

আর যে বিলাসের স্বার্থে অন্যায় করে এ অন্যায় কি এক? তুলনা করার আগে আমাদের ভাবতে হবে। তাই মনে হয় বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করার আগে আমাদের নিজেদের দেশের ভেদাভেদ নিয়ে ভাবা উচিত আগে।

বিশিষ্ট অভিনেতা, পাঁচ বা এক সন্তানের পিতা এটা বড় কথা নয়, বড় কথা চাকর থেকে শুরু করে সমাজের যারা সবচেয় কঠিন কাজগুলো করছে কী ব্যবহার জাতি হিসাবে আমরা করছি তাদের সঙ্গে?

এর কাছে কী নিচের লাইনগুলো যা আমি কুড়িয়ে পেয়েছি ফেসবুকে, বেশি অমানবিক?

“পাঁচ সন্তানের পিতা বিশিষ্ট অভিনেতা আনোয়ার হোসেন। এক ছেলে থাকে সুইডেন। বাকী তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকেন আমেরিকায়। জীবনের সব আয় খরচ করেছেন সন্তানদের প্রতিষ্টিত করার পেছনে।

পেটের তাগিদে জীবনের শেষ বয়স পর্যন্ত করতে হয়েছে চাকর-বাকরের অভিনয়। মৃত্যুর সময় একটা ছেলে-মেয়েও দেশে আসেননি। বিশিষ্ট কবি আল মাহামুদ। দুই সন্তানের পিতা।

সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বিক্রি করে দিয়েছেন বনানীর বাড়িটি। বিদেশ পাঠান দুই ছেলেকে। সে আদরের সন্তানেরা আর ফিরে আসেনি।

সব হারিয়ে কবি আজ নিজের গ্রামের বাড়ীতে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। দেখার কেউ নেই। এক সময় চলে যাবেন না ফেরার দেশে”!

তাই আসুন, না ফেরার দেশে চলে যাবার আগে হিসাবের গড়মিলটা ঠিক করে যাই। মানুষের কথা ভাবতে শুরু করি, জীবনের শেষটি না দেখে যেতে পারলেও বৃদ্ধাশ্রমে ভালোবাসা দেখে যেতে পারব।

মনুষ্যত্বের ভারসাম্য হারালেই মানবতার অবক্ষয় হয়। আসুন বাড়ির কাজের লোকের সঙ্গে, বাড়ির গাড়ি চালকের সঙ্গে এক টেবিলে বসে চা-কপি, ভাত খেতে শুরু করি।

তাহলে কিছু না হলেও প্রাকটিসটা থাকবে যদি এমনটি হয় জীবনের শেষ সময়, উপরের বিশিষ্ট অভিনেতা বা লেখকের মত। মনের ভেতরের খারাপ অনুভূতি কিছুটা কমবে বই বাড়বে না।

কারণ প্রাকটিস মেকস এ ম্যান পারফেক্ট। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, কাজের লোকের প্রতি রেসপেক্ট দেখানো, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, এসব দৈনিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে এবং এসব শিক্ষা জীবনের শুরুতে বাড়িতেই হয়।

তার প্রমাণ আমি নিজে। আমরাও তো বাইরে থাকি তাই বলে কি দেশকে বা বাব-মাকে ভুলেছি? না। জন্মেছি যখন মানুষ হয়ে, মরণ যেন না হয় দানবের মত। হৃদয় আমার সুন্দরও মমতায়, ভালোবাসার মাঝে ঝরিয়া পড়িতে চাই।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দানবের নয় মানবের সমাজ চাই

আপডেট সময় ০৭:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সুইডেনে শরতের আবির্ভাবে গাছপালা তার রঙ পাল্টাতে শুরু করেছে। সবুজ আর সবুজ নেই, তা এখন নানা রঙে রঙিন হয়ে নিজেদেরকে উজাড় করে দিয়েছে যা শুধু উপভোগ করার মত।

স্রষ্টার সৃষ্টির অপূর্ব সৌন্দর্য যার বর্ণনা করার মত ভাষা আমার জানা নেই, তবে অনুভব করার মত মন মানসিকতা রয়েছে, তাই মানবতা ও মনুষ্যত্বের উপর কিছু কথা বলতে চাই।

মানবতা কী এবং কীভাবে তা সনাক্ত করা সম্ভব? আমরা পৃথিবীর যা কিছু মহাকল্যাণকর তার সব কিছুতেই আমাদের ভূমিকা রেখেছি। আমরা হয়েছি বিখ্যাত, আমরা হয়েছি কুখ্যাত।

এই বিখ্যাত ও কুখ্যাত এর সমন্বয়ে গড়েছি এই পৃথিবীকে। আমরা ভালো-মন্দ কাজে পারদর্শী এবং বেশ সহজেই উপসংহার দিতেও পাকা।

আজ রিলেশনের উপর কিছু অপ্রিয় সত্য কথার বর্ণনা করব কাঁচা দিয়ে। সুইডেনে সন্তানের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মা দুজনই ১০ দিনের জন্য সন্তানের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে, কোন রকম অর্থনৈতিক সমস্যা ছাড়া।

তারপর বাবা-মার যে কেউ ১৮ মাস সন্তানের লালন পালনের জন্য পুরো বেতনে বাচ্চার সাথে থাকে বা থাকতে পারে, তবে এর ব্যতিক্রম ঘটতে পারে তা নির্ভর করছে বাবা-মার উপর।

পরে বাচ্চাকে কিন্ডারগার্টেন দেওয়া থেকে শুরু করে ১৮ বছর অব্দি সময়টুকু বাবা-মার সমন্বয়ে সমাজের সব ধরণের সুযোগ-সুবিধার মধ্য দিয়ে সন্তানকে গড়ে তোলা হয় একটি সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে।

ব্যতিক্রম আছে যেমন সেপারেশন বা ডিভোর্সের ক্ষেত্রে বা অন্য কোন জটিলতার কারণে সোস্যাল ফেয়ার্স ইন্টারফেয়ার করে থাকে সন্তানের বা পরিবারের সব ধরনের কেয়ার টেকার হিসাবে।

সুইডেন গণতন্ত্রের বেস্ট প্রাকটিসে বিশ্বের শীর্ষস্থানে সে বিষয়ে সন্দেহ না থাকারই কথা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায়। সুইডেনে সবাই টাক্স (কর) পে করে এবং এখানে টাক্স ফাঁকি দিলে এবং ধরা খেলে শাস্তির বিষয়টি ১০০% নির্ধারিত।

একজন মানুষ খুন করা প্রসঙ্গত বলতে হবে সহজ তুলনামূলকভাবে টাক্স ফাঁকি দেওয়ার থেকে। এদের চিন্তায় এরা মনে করে ঘুস, দুর্নীতি, টাক্স ফাঁকি দেওয়া এসব লোভ লালসার কারণে ঘটে।

এখানে শাস্তি অবশ্যই হওয়া উচিত কিন্তু মানুষ হয়ে মানুষকে খুন করা এটা কখনো সম্ভব নয় যতক্ষন পর্যন্ত সে মানুষ।

এদের চিন্তায় এরা মনে করে মানুষ যখন দানব বা অসুস্থতায় ভোগে তখন সে খুন করার মত জঘন্যতম কাজ করতে পারে। তাই এদেরকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

কর্মজীবন শেষে মানুষ বৃদ্ধ বয়সে পেনশন পেয়ে থাকে বিধায় সমাজ, পরিবার, ছেলে-মেয়ে কারো কোন দায় নেই যেমনটি ছিলো জীবনের শুরুতে বাবা-মা হিসাবে সন্তানের ওপর।

বিধায় এখানে একজন বৃদ্ধ তাঁর সময় কাটতে পারে দেশ বিদেশ ঘুরে, বৃদ্ধাশ্রমে বা সমন্বয়ে বসবাস করে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সচ্ছলতা মানুষের জীবনের শুরু থেকে শেষ সময়টুকু কীভাবে কাটবে এর জন্য দায়ভার নিয়ে থাকে।

এখন বাংলাদেশে যেহেতু গণতন্ত্রের বেস্ট প্রাকটিসের অভাব। পৃথিবীর মধ্যে হাতে গোনা দরিদ্র দেশের মধ্যে একটি।পারিবারিক বা সামাজিক কোনভাবেই সুইডেনের সাথে তুলনা করার মত অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেই।

সঙ্গে দেদারছে চলছে দুর্নীতি, অনীতি, ঘুষ, খুন, রাহাজানি, হয়রানী সারা দেশ জুড়ে। একই মানুষ অর্থের অভাবে তার পরিচয় হারিয়ে হয়েছে চাকর, মুচি, মেথর কিন্তু তাঁরা করছে সমাজের সবচেয়ে নিচু কাজটি কিছু বড়লোকের জন্য।

যাদেরকে সুইডেনে আমরা অমানুষের চোখে দেখি যদি সেই জনগোষ্ঠী দুর্নীতি, ঘুষ বা টাক্স ফাঁকি দিয়ে অর্থের প্রাচুর্য গড়ে থাকে। মানুষ যখন অর্থের অভাবে স্বার্থ খোঁজে সে অন্যায়।

আর যে বিলাসের স্বার্থে অন্যায় করে এ অন্যায় কি এক? তুলনা করার আগে আমাদের ভাবতে হবে। তাই মনে হয় বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করার আগে আমাদের নিজেদের দেশের ভেদাভেদ নিয়ে ভাবা উচিত আগে।

বিশিষ্ট অভিনেতা, পাঁচ বা এক সন্তানের পিতা এটা বড় কথা নয়, বড় কথা চাকর থেকে শুরু করে সমাজের যারা সবচেয় কঠিন কাজগুলো করছে কী ব্যবহার জাতি হিসাবে আমরা করছি তাদের সঙ্গে?

এর কাছে কী নিচের লাইনগুলো যা আমি কুড়িয়ে পেয়েছি ফেসবুকে, বেশি অমানবিক?

“পাঁচ সন্তানের পিতা বিশিষ্ট অভিনেতা আনোয়ার হোসেন। এক ছেলে থাকে সুইডেন। বাকী তিন ছেলে ও এক মেয়ে থাকেন আমেরিকায়। জীবনের সব আয় খরচ করেছেন সন্তানদের প্রতিষ্টিত করার পেছনে।

পেটের তাগিদে জীবনের শেষ বয়স পর্যন্ত করতে হয়েছে চাকর-বাকরের অভিনয়। মৃত্যুর সময় একটা ছেলে-মেয়েও দেশে আসেননি। বিশিষ্ট কবি আল মাহামুদ। দুই সন্তানের পিতা।

সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বিক্রি করে দিয়েছেন বনানীর বাড়িটি। বিদেশ পাঠান দুই ছেলেকে। সে আদরের সন্তানেরা আর ফিরে আসেনি।

সব হারিয়ে কবি আজ নিজের গ্রামের বাড়ীতে বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। দেখার কেউ নেই। এক সময় চলে যাবেন না ফেরার দেশে”!

তাই আসুন, না ফেরার দেশে চলে যাবার আগে হিসাবের গড়মিলটা ঠিক করে যাই। মানুষের কথা ভাবতে শুরু করি, জীবনের শেষটি না দেখে যেতে পারলেও বৃদ্ধাশ্রমে ভালোবাসা দেখে যেতে পারব।

মনুষ্যত্বের ভারসাম্য হারালেই মানবতার অবক্ষয় হয়। আসুন বাড়ির কাজের লোকের সঙ্গে, বাড়ির গাড়ি চালকের সঙ্গে এক টেবিলে বসে চা-কপি, ভাত খেতে শুরু করি।

তাহলে কিছু না হলেও প্রাকটিসটা থাকবে যদি এমনটি হয় জীবনের শেষ সময়, উপরের বিশিষ্ট অভিনেতা বা লেখকের মত। মনের ভেতরের খারাপ অনুভূতি কিছুটা কমবে বই বাড়বে না।

কারণ প্রাকটিস মেকস এ ম্যান পারফেক্ট। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, কাজের লোকের প্রতি রেসপেক্ট দেখানো, তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, এসব দৈনিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে এবং এসব শিক্ষা জীবনের শুরুতে বাড়িতেই হয়।

তার প্রমাণ আমি নিজে। আমরাও তো বাইরে থাকি তাই বলে কি দেশকে বা বাব-মাকে ভুলেছি? না। জন্মেছি যখন মানুষ হয়ে, মরণ যেন না হয় দানবের মত। হৃদয় আমার সুন্দরও মমতায়, ভালোবাসার মাঝে ঝরিয়া পড়িতে চাই।

রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com