অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সাত বছরের এক ছাত্রীর হাতে তেলসহ গরম খুন্তির ছ্যাকা দিয়ে দুই হাতের আঙ্গুল পুড়িয়ে দিয়েছে এক পাষণ্ড শিক্ষিকা। ঘটনাটি ঘটেছে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদপুরের শিকড়েডাঙ্গায়।
জানা গেছে, নিজের বাড়িতেই মাদ্রাসা খুলে বসেছেন শিকড়েডাঙ্গা গ্রামের ওসমানের স্ত্রী হাবিবা। সেই মাদ্রাসায় একই গ্রামের জামাল খাঁনের মেয়ে তামিমা (৭) হাবিবার কাছে কোরআন পড়া শিখে। আরো কয়েকজন ছোট মেয়েকে বাড়িতে রেখে কোরআন শেখায় হাবিবা। বস্তুত এসব শিশুদের দিয়ে বাড়ির কাজ করানোসহ নিজের বাচ্চাকেও দেখাশুনা করায় হাবিবা। গত বুধবার বিকেলে কোরআন ছিড়ে ফেলেছে এমন অভিযোগে খুন্তিতে তেল লাগিয়ে গরম করে তামিমার দুই হাতে চেপে ধরে ওই কথিত শিক্ষিকা।
বুধবার তামিমাকে খাবার দিতে গেলে তার ভাই সাকিব (১৩) কে তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি হাবিবা। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আনতে গেলে হাবিবা তাকে বাড়ি পাঠাতে অস্বীকার করে। পরে দেখা যায় যে তামিমার দুই হাতের পাঁচটি আঙুল পোড়ানো ও ঝলসানো। পরে দ্রুত তাকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।
তামিমার বাবা জামাল খাঁন বলেন, তামিমা নাকি কখন কোরআন শরিফ ছিড়ে ফেলেছে। পরে বুধবার বিকেলে যখন ওরা উঠানে খেলছিলো তখন ওই মহিলা খুন্তিতে তেল নিয়ে গরম করে তামিমাকে ডাক দেয়। পরে অন্য মেয়েদের দিয়ে ওকে শক্ত করে ধরে দুই হাতের আঙুলে গরম খুন্তি চেপে ধরে।
এ ঘটনা সম্পর্কে বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এটা অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা। এই ঘটনায় যথাযথ আইনি সহায়তার জন্য আমি সবধরনের সহযোগিতা করব।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে মেয়েটিকে থানায় এনেছিলো তার পরিবার। আমি পুলিশ দিয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিতসার ব্যবস্থা করেছি। অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















