ঢাকা ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

সাত বছরের শিশুর ওপর ‘শিক্ষিকা’র বর্বরতা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাত বছরের এক ছাত্রীর হাতে তেলসহ গরম খুন্তির ছ্যাকা দিয়ে দুই হাতের আঙ্গুল পুড়িয়ে দিয়েছে এক পাষণ্ড শিক্ষিকা। ঘটনাটি ঘটেছে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদপুরের শিকড়েডাঙ্গায়।

জানা গেছে, নিজের বাড়িতেই মাদ্রাসা খুলে বসেছেন শিকড়েডাঙ্গা গ্রামের ওসমানের স্ত্রী হাবিবা। সেই মাদ্রাসায় একই গ্রামের জামাল খাঁনের মেয়ে তামিমা (৭) হাবিবার কাছে কোরআন পড়া শিখে। আরো কয়েকজন ছোট মেয়েকে বাড়িতে রেখে কোরআন শেখায় হাবিবা। বস্তুত এসব শিশুদের দিয়ে বাড়ির কাজ করানোসহ নিজের বাচ্চাকেও দেখাশুনা করায় হাবিবা। গত বুধবার বিকেলে কোরআন ছিড়ে ফেলেছে এমন অভিযোগে খুন্তিতে তেল লাগিয়ে গরম করে তামিমার দুই হাতে চেপে ধরে ওই কথিত শিক্ষিকা।

বুধবার তামিমাকে খাবার দিতে গেলে তার ভাই সাকিব (১৩) কে তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি হাবিবা। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আনতে গেলে হাবিবা তাকে বাড়ি পাঠাতে অস্বীকার করে। পরে দেখা যায় যে তামিমার দুই হাতের পাঁচটি আঙুল পোড়ানো ও ঝলসানো। পরে দ্রুত তাকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

তামিমার বাবা জামাল খাঁন বলেন, তামিমা নাকি কখন কোরআন শরিফ ছিড়ে ফেলেছে। পরে বুধবার বিকেলে যখন ওরা উঠানে খেলছিলো তখন ওই মহিলা খুন্তিতে তেল নিয়ে গরম করে তামিমাকে ডাক দেয়। পরে অন্য মেয়েদের দিয়ে ওকে শক্ত করে ধরে দুই হাতের আঙুলে গরম খুন্তি চেপে ধরে।

এ ঘটনা সম্পর্কে বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এটা অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা। এই ঘটনায় যথাযথ আইনি সহায়তার জন্য আমি সবধরনের সহযোগিতা করব।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে মেয়েটিকে থানায় এনেছিলো তার পরিবার। আমি পুলিশ দিয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিতসার ব্যবস্থা করেছি। অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

সাত বছরের শিশুর ওপর ‘শিক্ষিকা’র বর্বরতা

আপডেট সময় ০১:৪০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাত বছরের এক ছাত্রীর হাতে তেলসহ গরম খুন্তির ছ্যাকা দিয়ে দুই হাতের আঙ্গুল পুড়িয়ে দিয়েছে এক পাষণ্ড শিক্ষিকা। ঘটনাটি ঘটেছে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদপুরের শিকড়েডাঙ্গায়।

জানা গেছে, নিজের বাড়িতেই মাদ্রাসা খুলে বসেছেন শিকড়েডাঙ্গা গ্রামের ওসমানের স্ত্রী হাবিবা। সেই মাদ্রাসায় একই গ্রামের জামাল খাঁনের মেয়ে তামিমা (৭) হাবিবার কাছে কোরআন পড়া শিখে। আরো কয়েকজন ছোট মেয়েকে বাড়িতে রেখে কোরআন শেখায় হাবিবা। বস্তুত এসব শিশুদের দিয়ে বাড়ির কাজ করানোসহ নিজের বাচ্চাকেও দেখাশুনা করায় হাবিবা। গত বুধবার বিকেলে কোরআন ছিড়ে ফেলেছে এমন অভিযোগে খুন্তিতে তেল লাগিয়ে গরম করে তামিমার দুই হাতে চেপে ধরে ওই কথিত শিক্ষিকা।

বুধবার তামিমাকে খাবার দিতে গেলে তার ভাই সাকিব (১৩) কে তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি হাবিবা। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আনতে গেলে হাবিবা তাকে বাড়ি পাঠাতে অস্বীকার করে। পরে দেখা যায় যে তামিমার দুই হাতের পাঁচটি আঙুল পোড়ানো ও ঝলসানো। পরে দ্রুত তাকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

তামিমার বাবা জামাল খাঁন বলেন, তামিমা নাকি কখন কোরআন শরিফ ছিড়ে ফেলেছে। পরে বুধবার বিকেলে যখন ওরা উঠানে খেলছিলো তখন ওই মহিলা খুন্তিতে তেল নিয়ে গরম করে তামিমাকে ডাক দেয়। পরে অন্য মেয়েদের দিয়ে ওকে শক্ত করে ধরে দুই হাতের আঙুলে গরম খুন্তি চেপে ধরে।

এ ঘটনা সম্পর্কে বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এটা অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা। এই ঘটনায় যথাযথ আইনি সহায়তার জন্য আমি সবধরনের সহযোগিতা করব।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে মেয়েটিকে থানায় এনেছিলো তার পরিবার। আমি পুলিশ দিয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিতসার ব্যবস্থা করেছি। অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।