ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প উপজেলা পরিষদে কক্ষ বরাদ্দ পাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা, সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মা হারা কন্যার বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি, আবেগাপ্লুত হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কর্তন করে হাসপাতালে স্ত্রী সংসদে গাড়ি চাইলেন হাসনাত, জামায়াত আমির বললেন, ছোটদের ‘না’ বলতে নেই অনলাইন ভ্যাট রিটার্নে অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা : এনবিআর চেয়ারম্যান ৪ ঘণ্টা পর জামিন পেলেন বাচ্চাসহ কারাগারে পাঠানো সেই মহিলা লীগ নেত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

সাত বছরের শিশুর ওপর ‘শিক্ষিকা’র বর্বরতা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাত বছরের এক ছাত্রীর হাতে তেলসহ গরম খুন্তির ছ্যাকা দিয়ে দুই হাতের আঙ্গুল পুড়িয়ে দিয়েছে এক পাষণ্ড শিক্ষিকা। ঘটনাটি ঘটেছে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদপুরের শিকড়েডাঙ্গায়।

জানা গেছে, নিজের বাড়িতেই মাদ্রাসা খুলে বসেছেন শিকড়েডাঙ্গা গ্রামের ওসমানের স্ত্রী হাবিবা। সেই মাদ্রাসায় একই গ্রামের জামাল খাঁনের মেয়ে তামিমা (৭) হাবিবার কাছে কোরআন পড়া শিখে। আরো কয়েকজন ছোট মেয়েকে বাড়িতে রেখে কোরআন শেখায় হাবিবা। বস্তুত এসব শিশুদের দিয়ে বাড়ির কাজ করানোসহ নিজের বাচ্চাকেও দেখাশুনা করায় হাবিবা। গত বুধবার বিকেলে কোরআন ছিড়ে ফেলেছে এমন অভিযোগে খুন্তিতে তেল লাগিয়ে গরম করে তামিমার দুই হাতে চেপে ধরে ওই কথিত শিক্ষিকা।

বুধবার তামিমাকে খাবার দিতে গেলে তার ভাই সাকিব (১৩) কে তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি হাবিবা। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আনতে গেলে হাবিবা তাকে বাড়ি পাঠাতে অস্বীকার করে। পরে দেখা যায় যে তামিমার দুই হাতের পাঁচটি আঙুল পোড়ানো ও ঝলসানো। পরে দ্রুত তাকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

তামিমার বাবা জামাল খাঁন বলেন, তামিমা নাকি কখন কোরআন শরিফ ছিড়ে ফেলেছে। পরে বুধবার বিকেলে যখন ওরা উঠানে খেলছিলো তখন ওই মহিলা খুন্তিতে তেল নিয়ে গরম করে তামিমাকে ডাক দেয়। পরে অন্য মেয়েদের দিয়ে ওকে শক্ত করে ধরে দুই হাতের আঙুলে গরম খুন্তি চেপে ধরে।

এ ঘটনা সম্পর্কে বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এটা অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা। এই ঘটনায় যথাযথ আইনি সহায়তার জন্য আমি সবধরনের সহযোগিতা করব।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে মেয়েটিকে থানায় এনেছিলো তার পরিবার। আমি পুলিশ দিয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিতসার ব্যবস্থা করেছি। অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ইরান খুব ভালো থাকবে: ট্রাম্প

সাত বছরের শিশুর ওপর ‘শিক্ষিকা’র বর্বরতা

আপডেট সময় ০১:৪০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাত বছরের এক ছাত্রীর হাতে তেলসহ গরম খুন্তির ছ্যাকা দিয়ে দুই হাতের আঙ্গুল পুড়িয়ে দিয়েছে এক পাষণ্ড শিক্ষিকা। ঘটনাটি ঘটেছে যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদপুরের শিকড়েডাঙ্গায়।

জানা গেছে, নিজের বাড়িতেই মাদ্রাসা খুলে বসেছেন শিকড়েডাঙ্গা গ্রামের ওসমানের স্ত্রী হাবিবা। সেই মাদ্রাসায় একই গ্রামের জামাল খাঁনের মেয়ে তামিমা (৭) হাবিবার কাছে কোরআন পড়া শিখে। আরো কয়েকজন ছোট মেয়েকে বাড়িতে রেখে কোরআন শেখায় হাবিবা। বস্তুত এসব শিশুদের দিয়ে বাড়ির কাজ করানোসহ নিজের বাচ্চাকেও দেখাশুনা করায় হাবিবা। গত বুধবার বিকেলে কোরআন ছিড়ে ফেলেছে এমন অভিযোগে খুন্তিতে তেল লাগিয়ে গরম করে তামিমার দুই হাতে চেপে ধরে ওই কথিত শিক্ষিকা।

বুধবার তামিমাকে খাবার দিতে গেলে তার ভাই সাকিব (১৩) কে তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি হাবিবা। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আনতে গেলে হাবিবা তাকে বাড়ি পাঠাতে অস্বীকার করে। পরে দেখা যায় যে তামিমার দুই হাতের পাঁচটি আঙুল পোড়ানো ও ঝলসানো। পরে দ্রুত তাকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

তামিমার বাবা জামাল খাঁন বলেন, তামিমা নাকি কখন কোরআন শরিফ ছিড়ে ফেলেছে। পরে বুধবার বিকেলে যখন ওরা উঠানে খেলছিলো তখন ওই মহিলা খুন্তিতে তেল নিয়ে গরম করে তামিমাকে ডাক দেয়। পরে অন্য মেয়েদের দিয়ে ওকে শক্ত করে ধরে দুই হাতের আঙুলে গরম খুন্তি চেপে ধরে।

এ ঘটনা সম্পর্কে বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরদার বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এটা অত্যন্ত দু:খজনক ঘটনা। এই ঘটনায় যথাযথ আইনি সহায়তার জন্য আমি সবধরনের সহযোগিতা করব।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে মেয়েটিকে থানায় এনেছিলো তার পরিবার। আমি পুলিশ দিয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিতসার ব্যবস্থা করেছি। অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।