ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

ঘুষ না পেয়ে মারপিট করা ওসি প্রত্যাহার

নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার ওসি আকরাম হোসেন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঘুষের টাকা দিতে না পারায় দুই ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগে নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার সেই ওসি আকরাম হোসেনকে জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে আইনের সহায়তা চাইতে আসা মানুষের কাছে ঘুষ দাবি করা এবং ঘুষ না পেলে মারধরসহ মাদকব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া সহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন দৈনিক আকাশের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাকে নিয়ামতপুর থানা থেকে জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওসি আকরাম হোসেন এই থানায় যোগদান করার পর থেকে থানায় আইনি সহায়তা চাইতে আসা সাধারণ মানুদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি দাবি অনুযায়ী, উৎকোচের টাকা দিতে না পারায় উপজেলার নাকইল গ্রামের আইজুল হক ও উপজেলার রাজাপুর দরগাপাড়া গ্রামের সোহেল রানা নামের দুই ব্যক্তিকে মারধর করেন ওসি।

এসব ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ওসির অসহযোগিতার কারণে গ্রাম আদালত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা নিয়ে তাদের কাছ মোটা অংকের টাকা নিয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেন।

এতে উপজেলায় মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এ অবস্থায় সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখে নিয়ামতপুরবাসীকে হয়রানি ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষার জন্য ওসি আকরাম হোসেনের অপসারণের দাবি জানান জনপ্রতিনিধিরা।

ওসি আকরাম হোসেন গত ১৬ মার্চ নিয়ামতপুর থানায় যোগ দেন। কিন্তু মাস দুয়েকের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ, ঘুষ না দিলে আইনের সহায়তা চাইতে আসা মানুষজনকে মারধর, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

ওসি আকরামের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে গত ২০ মে নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ তার অপসারণের দাবি জানিয়ে রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত আবেদন জানান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

ঘুষ না পেয়ে মারপিট করা ওসি প্রত্যাহার

আপডেট সময় ০৬:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঘুষের টাকা দিতে না পারায় দুই ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগে নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার সেই ওসি আকরাম হোসেনকে জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে আইনের সহায়তা চাইতে আসা মানুষের কাছে ঘুষ দাবি করা এবং ঘুষ না পেলে মারধরসহ মাদকব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া সহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন দৈনিক আকাশের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাকে নিয়ামতপুর থানা থেকে জেলা পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওসি আকরাম হোসেন এই থানায় যোগদান করার পর থেকে থানায় আইনি সহায়তা চাইতে আসা সাধারণ মানুদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি দাবি অনুযায়ী, উৎকোচের টাকা দিতে না পারায় উপজেলার নাকইল গ্রামের আইজুল হক ও উপজেলার রাজাপুর দরগাপাড়া গ্রামের সোহেল রানা নামের দুই ব্যক্তিকে মারধর করেন ওসি।

এসব ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ওসির অসহযোগিতার কারণে গ্রাম আদালত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা নিয়ে তাদের কাছ মোটা অংকের টাকা নিয়ে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেন।

এতে উপজেলায় মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এ অবস্থায় সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখে নিয়ামতপুরবাসীকে হয়রানি ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষার জন্য ওসি আকরাম হোসেনের অপসারণের দাবি জানান জনপ্রতিনিধিরা।

ওসি আকরাম হোসেন গত ১৬ মার্চ নিয়ামতপুর থানায় যোগ দেন। কিন্তু মাস দুয়েকের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ, ঘুষ না দিলে আইনের সহায়তা চাইতে আসা মানুষজনকে মারধর, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

ওসি আকরামের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে গত ২০ মে নিয়ামতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ তার অপসারণের দাবি জানিয়ে রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত আবেদন জানান।