ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন

হাত, পা চলে যাচ্ছে, এভাবে সভ্য দেশ চলতে পারে না: বিচারপতি খায়রুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ট্রাফিক আইন যুগোপযোগী করে সাজা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির।

সম্প্রতি বেশ কিছু সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের হাত, পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কীভাবে বাড়ছে! মানুষের পা চলে যাচ্ছে, হাত চলে যাচ্ছে, মাথা চলে যাচ্ছে। এভাবে তো কোনো সভ্য দেশ চলতে পারে না। এজন্যই দরকার আইনের পরিবর্তন।’

‘ইদানীং তো আরও একটা নতুন দেখছি, এক গাড়ি আরেক গাড়ির উপর উঠিয়ে দিচ্ছে। যেটা আজকাল আসা যাওয়ার সময় দেখি।’

আগের দিন রাজধানীতে এক আলোচনায় শ্রমিক নেতা ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান কেবল সাজা বাড়িয়ে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না বলে তার মত দেন।

পর দিন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাজা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যদি কেউ গাড়ি চালায় তার সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা। অনেক সময় দেখছি তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৪০০ টাকা জরিমানা হয়। লাইসেন্স ছাড়া চালিয়ে যদি এইটুকু পেনাল্টি হয় তাহলে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার গরজ তেমন কেউ বোধ করবে না।’

অবশ্য কেবল সাজা বাড়ালেই কাজ হবে না, এমনটিও বলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি। বলেন, ‘এটার (আইনের) এনফোর্সমেন্টও (প্রয়োগ) প্রয়োজন। আমাদের মনোবৃত্তি-মনোভাব এটাও চেঞ্জ করা প্রয়োজন ‘

‘গাড়ির যে মালিক তার ছেলেও কাল মারা যেতে পারে। যে বিচারক ৪০০ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিচ্ছেন তার ছেলেও কাল মারা যেতে পারে।’

‘যদি মনে করে চেঞ্জ হওয়ার প্রয়োজন নেই, তাহলে হবে না। মানুষ মরতে থাকবেই, মরুক!’

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আর কী নিয়ে কথা হয়েছে, জানতে চাইলে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, বাণিজ্যিক বিরোধের মীমাংসায় আইন কীভাবে যুগোপযোগী করা যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা।

‘কমার্শিয়াল কোর্ট, কমার্শিয়াল ডিসপিউট ও আর্বিট্রেশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক আর্বিট্রেশন সিঙ্গাপুরে চলে যায়। আমাদের দেশের আর্বিট্রেশন কোর্টগুলো আরো ইফিশিয়েন্ট করা জরুরি।’

‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির আইন চেঞ্জ করার জন্য অলরেডি ফিল্ড ওয়ার্ক শুরু করে দিয়েছি। আর্বিট্রেশন অ্যাক্ট কীভাবে আরো কার্যকরী করা সম্ভব যাতে অল্প সময়ের মধ্যে কম খরচে আর্বিট্রেশন হতে পারে।’

এই আইন পরিবর্তনের গুরুত্ব উল্লেখ করে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে যত ইনভেস্টমেন্ট বাড়বে তত কমার্শিয়াল ডিসপিউট (বিরোধ) বাড়বে। ডিসপিউট বাড়লে হয় কোর্টে যাবে নয় আর্বিট্রেশনে যাবে।’

‘আমাদের দেশের কোর্টগুলো সিআরপিসির আন্ডারে। এখানে কমার্শিয়াল ডিসপিউট রিজলভ করতে গেলে অনেক সময় লাগে। তার কারণে ইনভেস্টমেন্ট শাইআউট হচ্ছে না।’

‘কমার্শিয়াল কোর্ট কীভাবে যুগপোযোগী করা যায়, নতুন কোর্ট করার প্রয়োজন আছে কি না, এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করেছি। কারণ চিফ জাস্টিসের মতামত গুরুত্ববহন করে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: ঢাকায় তলব রাষ্ট্রদূত, টোকিওতে সচিব নজরুল

হাত, পা চলে যাচ্ছে, এভাবে সভ্য দেশ চলতে পারে না: বিচারপতি খায়রুল

আপডেট সময় ০৪:১৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে ট্রাফিক আইন যুগোপযোগী করে সাজা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির।

সম্প্রতি বেশ কিছু সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের হাত, পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা কীভাবে বাড়ছে! মানুষের পা চলে যাচ্ছে, হাত চলে যাচ্ছে, মাথা চলে যাচ্ছে। এভাবে তো কোনো সভ্য দেশ চলতে পারে না। এজন্যই দরকার আইনের পরিবর্তন।’

‘ইদানীং তো আরও একটা নতুন দেখছি, এক গাড়ি আরেক গাড়ির উপর উঠিয়ে দিচ্ছে। যেটা আজকাল আসা যাওয়ার সময় দেখি।’

আগের দিন রাজধানীতে এক আলোচনায় শ্রমিক নেতা ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান কেবল সাজা বাড়িয়ে দুর্ঘটনা কমানো যাবে না বলে তার মত দেন।

পর দিন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাজা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া যদি কেউ গাড়ি চালায় তার সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা। অনেক সময় দেখছি তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা ৪০০ টাকা জরিমানা হয়। লাইসেন্স ছাড়া চালিয়ে যদি এইটুকু পেনাল্টি হয় তাহলে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার গরজ তেমন কেউ বোধ করবে না।’

অবশ্য কেবল সাজা বাড়ালেই কাজ হবে না, এমনটিও বলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি। বলেন, ‘এটার (আইনের) এনফোর্সমেন্টও (প্রয়োগ) প্রয়োজন। আমাদের মনোবৃত্তি-মনোভাব এটাও চেঞ্জ করা প্রয়োজন ‘

‘গাড়ির যে মালিক তার ছেলেও কাল মারা যেতে পারে। যে বিচারক ৪০০ টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দিচ্ছেন তার ছেলেও কাল মারা যেতে পারে।’

‘যদি মনে করে চেঞ্জ হওয়ার প্রয়োজন নেই, তাহলে হবে না। মানুষ মরতে থাকবেই, মরুক!’

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আর কী নিয়ে কথা হয়েছে, জানতে চাইলে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, বাণিজ্যিক বিরোধের মীমাংসায় আইন কীভাবে যুগোপযোগী করা যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা করেছেন তারা।

‘কমার্শিয়াল কোর্ট, কমার্শিয়াল ডিসপিউট ও আর্বিট্রেশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক আর্বিট্রেশন সিঙ্গাপুরে চলে যায়। আমাদের দেশের আর্বিট্রেশন কোর্টগুলো আরো ইফিশিয়েন্ট করা জরুরি।’

‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির আইন চেঞ্জ করার জন্য অলরেডি ফিল্ড ওয়ার্ক শুরু করে দিয়েছি। আর্বিট্রেশন অ্যাক্ট কীভাবে আরো কার্যকরী করা সম্ভব যাতে অল্প সময়ের মধ্যে কম খরচে আর্বিট্রেশন হতে পারে।’

এই আইন পরিবর্তনের গুরুত্ব উল্লেখ করে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে যত ইনভেস্টমেন্ট বাড়বে তত কমার্শিয়াল ডিসপিউট (বিরোধ) বাড়বে। ডিসপিউট বাড়লে হয় কোর্টে যাবে নয় আর্বিট্রেশনে যাবে।’

‘আমাদের দেশের কোর্টগুলো সিআরপিসির আন্ডারে। এখানে কমার্শিয়াল ডিসপিউট রিজলভ করতে গেলে অনেক সময় লাগে। তার কারণে ইনভেস্টমেন্ট শাইআউট হচ্ছে না।’

‘কমার্শিয়াল কোর্ট কীভাবে যুগপোযোগী করা যায়, নতুন কোর্ট করার প্রয়োজন আছে কি না, এ ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করেছি। কারণ চিফ জাস্টিসের মতামত গুরুত্ববহন করে।’