ঢাকা ১২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিএনপির আতঙ্কের মহানায়ক গাজীপুরের এসপি হারুন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদকে ‘আতঙ্কের মহানায়ক’ বলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাকে প্রত্যাহার না করায় নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

রবিবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।

গাজীপুরের পুলিশ এখন ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই আতঙ্কের মহানায়ক হচ্ছে এসপি হারুন। তার দাপটে গাজীপুরে সাধারণ নিরীহ মানুষরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বিরোধী দলের তরুণ কর্মীরা কেউ গাজীপুরে অবস্থান করতে পারে না।’

‘গাজীপুরের এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম এসপি হারুন। তার লাগামছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহারে গাজীপুরবাসীর স্বপ্নে-দুঃস্বপ্নে দিনরাত্রি এক হয়ে গেছে।’

‘আমরা শুরু থেকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্বিকার।’

সিটি নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে এসপি হারুনকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো যুক্তি না পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

রিজভী তার সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের ৪৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেন। একে পুলিশের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ হিসেবে ‍উল্লেখ করেন তিনি।

গত ২৫ এপ্রিল গাজীপুরে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরুর দুই দিন পর মহানগর জামায়াতের আমির এস এম সানাউল্লাহসহ ৪৫ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।

সানাউল্লাহ এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার আগে বিএনপি নেতা হাসানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি ভোট থেকে সরে দাঁড়ান।

সানাউল্লাহকে গ্রেপ্তারের পর এসপি হারুন সংবাদ সম্মেলনে জানান, জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনার উদ্দেশ্য জড়ো হয়েছিলেন। সেখান থেকে বেশ কিছু পেট্রল বোমা উদ্ধারের কথাও জানানো হয়।

তবে এসপি হারুনের এই দাবি মানতে নারাজ রিজভী। বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়ন-নির্যাতন চলছে দুই সিটিতে। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হচ্ছে, এমনকি নেতাকর্মীদের বিনা কারণে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।’

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরাও বলেছেন দলীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়।’

‘গাজীপুর-খুলনায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব দলের প্রার্থীদের সমান সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশন সফল হয়নি বলেও দাবি রিজভীর।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, দুই নগরে ক্ষমতাসীনদের বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। সন্ত্রাসীরা এলাকায় এলাকায় দাবড়ে বেড়াচ্ছে।

আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী কালো টাকার ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। আর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ কমিশনে জমা দিলেও তারা ‘অন্ধের ভূমিকা’য় বলেও দাবি করেন তিনি।

‘ইসির সচিব আওয়ামী লীগের পদহীন ক্যাডারের মত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।’

শনিবার গাজীপুরের মৌচাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান নির্বাচনী যৌথসভায় অংশ নিয়েছেন দাবি করে একে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলেও দাবি করেন রিজভী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিএনপির আতঙ্কের মহানায়ক গাজীপুরের এসপি হারুন

আপডেট সময় ০৫:৫০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনুর রশীদকে ‘আতঙ্কের মহানায়ক’ বলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাকে প্রত্যাহার না করায় নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

রবিবার নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন।

গাজীপুরের পুলিশ এখন ভয়ঙ্কর আতঙ্কের নাম অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই আতঙ্কের মহানায়ক হচ্ছে এসপি হারুন। তার দাপটে গাজীপুরে সাধারণ নিরীহ মানুষরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বিরোধী দলের তরুণ কর্মীরা কেউ গাজীপুরে অবস্থান করতে পারে না।’

‘গাজীপুরের এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম এসপি হারুন। তার লাগামছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহারে গাজীপুরবাসীর স্বপ্নে-দুঃস্বপ্নে দিনরাত্রি এক হয়ে গেছে।’

‘আমরা শুরু থেকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে নির্বিকার।’

সিটি নির্বাচনের প্রচার শুরুর আগেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে এসপি হারুনকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল বিএনপি। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো যুক্তি না পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

রিজভী তার সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের ৪৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের সমালোচনা করেন। একে পুলিশের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ হিসেবে ‍উল্লেখ করেন তিনি।

গত ২৫ এপ্রিল গাজীপুরে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরুর দুই দিন পর মহানগর জামায়াতের আমির এস এম সানাউল্লাহসহ ৪৫ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।

সানাউল্লাহ এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার আগে বিএনপি নেতা হাসানকে সমর্থন জানিয়ে তিনি ভোট থেকে সরে দাঁড়ান।

সানাউল্লাহকে গ্রেপ্তারের পর এসপি হারুন সংবাদ সম্মেলনে জানান, জামায়াতের নেতা-কর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনার উদ্দেশ্য জড়ো হয়েছিলেন। সেখান থেকে বেশ কিছু পেট্রল বোমা উদ্ধারের কথাও জানানো হয়।

তবে এসপি হারুনের এই দাবি মানতে নারাজ রিজভী। বলেন, ‘আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়ন-নির্যাতন চলছে দুই সিটিতে। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হচ্ছে, এমনকি নেতাকর্মীদের বিনা কারণে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।’

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকরাও বলেছেন দলীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়।’

‘গাজীপুর-খুলনায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব দলের প্রার্থীদের সমান সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচন কমিশন সফল হয়নি বলেও দাবি রিজভীর।

বিএনপি নেতার অভিযোগ, দুই নগরে ক্ষমতাসীনদের বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি। সন্ত্রাসীরা এলাকায় এলাকায় দাবড়ে বেড়াচ্ছে।

আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী কালো টাকার ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। আর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ কমিশনে জমা দিলেও তারা ‘অন্ধের ভূমিকা’য় বলেও দাবি করেন তিনি।

‘ইসির সচিব আওয়ামী লীগের পদহীন ক্যাডারের মত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।’

শনিবার গাজীপুরের মৌচাকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান নির্বাচনী যৌথসভায় অংশ নিয়েছেন দাবি করে একে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলেও দাবি করেন রিজভী।