ঢাকা ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

প্রাক্তন প্রেমিকার শরীরে আগুন দিয়ে প্রেমিকেরও আত্মহত্যা চেষ্টা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংসার করতে রাজি না হওয়ায় যশোরের কেশবপুর উপজেলায় দুই সন্তানের জননী মিতা বেগমের (৩০) শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন কথিত প্রেমিক বাবলু গাজী (৩০)।

বর্তমানে উভয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে কেশবপুর থানার ওসি সৈয়দ আবদুল্লাহ জানান, উভয়ের শরীরের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে।

মিতার পারিবারিক সূত্র জানায়, কেশবপুর উপজেলার ভরতভায়না গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের (৩৫) সঙ্গে একই উপজেলার কর্ন্দপপুর গ্রামের আবদুল আওয়াল সরদারের মেয়ে মিতা বেগমের বিয়ে হয় প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের ঘরে দুটি সন্তান জন্ম নেয়।

নিকট আত্মীয় হওয়ায় মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া গ্রামের আবদুল খালেক গাজীর ছেলে বাবলু গাজী প্রায় সময় মিতার শ্বশুরবাড়ি যাওয়া আসা করত। তখন বাবলু গাজীর সঙ্গে মিতা বেগমের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মিতা বেগমের স্বামী ঘটনা জেনে যায়। শুরু হয় অশান্তি।

মিতা বেগমের ভাশুর রফিকুল ইসলাম গাজী জানান, ছয় মাস আগে মিতা বেগম প্রেমিক বাবলু গাজীর সঙ্গে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। দুই সপ্তাহ পালিয়ে থাকার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মিতা বেগম ফিরে আসে স্বামীর সংসারে।

স্বামী তৌহিদুল ইসলাম জানান, সন্তানদের কথা চিন্তা করে তিনি পুনরায় মিতা বেগমকে গ্রহণ করেন।

তিনি জানান, গোপনে বাবলু গাজী তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা-করত। কিন্তু তার স্ত্রী বাবলু গাজীকে তাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করত। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবলু গাজী তাদের বাড়িতে এসে রান্নাঘরে ঢুকে মিতা বেগমকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মিতা বেগমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।

তখন বাবলু গাজীর হাতে থাকা পেট্রল হত্যার উদ্দেশ্যে মিতার বেগমের শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারপর নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় গভীর রাতে মিতা বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বাবলু গাজীকে কেশবপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

কেশবপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আহসানুল মিজান জানান, বাবলু গাজীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকেও ওই রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

কেশবপুর থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রাক্তন প্রেমিকার শরীরে আগুন দিয়ে প্রেমিকেরও আত্মহত্যা চেষ্টা

আপডেট সময় ১০:০০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংসার করতে রাজি না হওয়ায় যশোরের কেশবপুর উপজেলায় দুই সন্তানের জননী মিতা বেগমের (৩০) শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন কথিত প্রেমিক বাবলু গাজী (৩০)।

বর্তমানে উভয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে কেশবপুর থানার ওসি সৈয়দ আবদুল্লাহ জানান, উভয়ের শরীরের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে।

মিতার পারিবারিক সূত্র জানায়, কেশবপুর উপজেলার ভরতভায়না গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের (৩৫) সঙ্গে একই উপজেলার কর্ন্দপপুর গ্রামের আবদুল আওয়াল সরদারের মেয়ে মিতা বেগমের বিয়ে হয় প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের ঘরে দুটি সন্তান জন্ম নেয়।

নিকট আত্মীয় হওয়ায় মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া গ্রামের আবদুল খালেক গাজীর ছেলে বাবলু গাজী প্রায় সময় মিতার শ্বশুরবাড়ি যাওয়া আসা করত। তখন বাবলু গাজীর সঙ্গে মিতা বেগমের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মিতা বেগমের স্বামী ঘটনা জেনে যায়। শুরু হয় অশান্তি।

মিতা বেগমের ভাশুর রফিকুল ইসলাম গাজী জানান, ছয় মাস আগে মিতা বেগম প্রেমিক বাবলু গাজীর সঙ্গে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। দুই সপ্তাহ পালিয়ে থাকার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মিতা বেগম ফিরে আসে স্বামীর সংসারে।

স্বামী তৌহিদুল ইসলাম জানান, সন্তানদের কথা চিন্তা করে তিনি পুনরায় মিতা বেগমকে গ্রহণ করেন।

তিনি জানান, গোপনে বাবলু গাজী তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা-করত। কিন্তু তার স্ত্রী বাবলু গাজীকে তাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করত। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবলু গাজী তাদের বাড়িতে এসে রান্নাঘরে ঢুকে মিতা বেগমকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মিতা বেগমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।

তখন বাবলু গাজীর হাতে থাকা পেট্রল হত্যার উদ্দেশ্যে মিতার বেগমের শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারপর নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় গভীর রাতে মিতা বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বাবলু গাজীকে কেশবপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

কেশবপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আহসানুল মিজান জানান, বাবলু গাজীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকেও ওই রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

কেশবপুর থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।