ঢাকা ০৬:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

প্রাক্তন প্রেমিকার শরীরে আগুন দিয়ে প্রেমিকেরও আত্মহত্যা চেষ্টা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংসার করতে রাজি না হওয়ায় যশোরের কেশবপুর উপজেলায় দুই সন্তানের জননী মিতা বেগমের (৩০) শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন কথিত প্রেমিক বাবলু গাজী (৩০)।

বর্তমানে উভয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে কেশবপুর থানার ওসি সৈয়দ আবদুল্লাহ জানান, উভয়ের শরীরের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে।

মিতার পারিবারিক সূত্র জানায়, কেশবপুর উপজেলার ভরতভায়না গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের (৩৫) সঙ্গে একই উপজেলার কর্ন্দপপুর গ্রামের আবদুল আওয়াল সরদারের মেয়ে মিতা বেগমের বিয়ে হয় প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের ঘরে দুটি সন্তান জন্ম নেয়।

নিকট আত্মীয় হওয়ায় মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া গ্রামের আবদুল খালেক গাজীর ছেলে বাবলু গাজী প্রায় সময় মিতার শ্বশুরবাড়ি যাওয়া আসা করত। তখন বাবলু গাজীর সঙ্গে মিতা বেগমের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মিতা বেগমের স্বামী ঘটনা জেনে যায়। শুরু হয় অশান্তি।

মিতা বেগমের ভাশুর রফিকুল ইসলাম গাজী জানান, ছয় মাস আগে মিতা বেগম প্রেমিক বাবলু গাজীর সঙ্গে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। দুই সপ্তাহ পালিয়ে থাকার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মিতা বেগম ফিরে আসে স্বামীর সংসারে।

স্বামী তৌহিদুল ইসলাম জানান, সন্তানদের কথা চিন্তা করে তিনি পুনরায় মিতা বেগমকে গ্রহণ করেন।

তিনি জানান, গোপনে বাবলু গাজী তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা-করত। কিন্তু তার স্ত্রী বাবলু গাজীকে তাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করত। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবলু গাজী তাদের বাড়িতে এসে রান্নাঘরে ঢুকে মিতা বেগমকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মিতা বেগমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।

তখন বাবলু গাজীর হাতে থাকা পেট্রল হত্যার উদ্দেশ্যে মিতার বেগমের শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারপর নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় গভীর রাতে মিতা বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বাবলু গাজীকে কেশবপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

কেশবপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আহসানুল মিজান জানান, বাবলু গাজীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকেও ওই রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

কেশবপুর থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

প্রাক্তন প্রেমিকার শরীরে আগুন দিয়ে প্রেমিকেরও আত্মহত্যা চেষ্টা

আপডেট সময় ১০:০০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সংসার করতে রাজি না হওয়ায় যশোরের কেশবপুর উপজেলায় দুই সন্তানের জননী মিতা বেগমের (৩০) শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন কথিত প্রেমিক বাবলু গাজী (৩০)।

বর্তমানে উভয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে কেশবপুর থানার ওসি সৈয়দ আবদুল্লাহ জানান, উভয়ের শরীরের ৬০ থেকে ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে।

মিতার পারিবারিক সূত্র জানায়, কেশবপুর উপজেলার ভরতভায়না গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের (৩৫) সঙ্গে একই উপজেলার কর্ন্দপপুর গ্রামের আবদুল আওয়াল সরদারের মেয়ে মিতা বেগমের বিয়ে হয় প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের ঘরে দুটি সন্তান জন্ম নেয়।

নিকট আত্মীয় হওয়ায় মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া গ্রামের আবদুল খালেক গাজীর ছেলে বাবলু গাজী প্রায় সময় মিতার শ্বশুরবাড়ি যাওয়া আসা করত। তখন বাবলু গাজীর সঙ্গে মিতা বেগমের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মিতা বেগমের স্বামী ঘটনা জেনে যায়। শুরু হয় অশান্তি।

মিতা বেগমের ভাশুর রফিকুল ইসলাম গাজী জানান, ছয় মাস আগে মিতা বেগম প্রেমিক বাবলু গাজীর সঙ্গে স্বামীর বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। দুই সপ্তাহ পালিয়ে থাকার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে মিতা বেগম ফিরে আসে স্বামীর সংসারে।

স্বামী তৌহিদুল ইসলাম জানান, সন্তানদের কথা চিন্তা করে তিনি পুনরায় মিতা বেগমকে গ্রহণ করেন।

তিনি জানান, গোপনে বাবলু গাজী তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা-করত। কিন্তু তার স্ত্রী বাবলু গাজীকে তাদের বাড়িতে আসতে নিষেধ করত। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবলু গাজী তাদের বাড়িতে এসে রান্নাঘরে ঢুকে মিতা বেগমকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মিতা বেগমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে।

তখন বাবলু গাজীর হাতে থাকা পেট্রল হত্যার উদ্দেশ্যে মিতার বেগমের শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারপর নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় গভীর রাতে মিতা বেগমকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। বাবলু গাজীকে কেশবপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

কেশবপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আহসানুল মিজান জানান, বাবলু গাজীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকেও ওই রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

কেশবপুর থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।