ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে না নেয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে না নেয়ায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় স্ত্রী শম্পা রানী রায়কে (২৫) হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে আহত করে ঘরে আটকে রাখে স্বামী পুষ্প রায় (৩০)। পরে শম্পা রানীর মা-বাবা তাকে ঘর থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের জগেশ রায়ের ছেলে পুষ্প রায়ের সঙ্গে আট বছর আগে একই এলাকার সুন্দরী হাটগাছ গ্রামের গোকুল রায়ের মেয়ে শম্পা রানী রায়ের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রুমি রায় নামে একটি ছয় বছরের একটি মেয়ে এবং অপূর্ব রায় নামে দেড় বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

গত তিন মাসে আগে স্বামী পুষ্প রায় গোপনে আবার বিয়ে করে। বিয়ের বিষয়ে স্ত্রী শম্পা রানী রায় প্রতিবাদ জানালে তাদের সংসারে অশান্তি নেমে আসে। শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শম্পা রানী রায় জানান, তিন মাসে আগে উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই যদুর মোড় এলাকায় গোপনে একটি বিয়ে করেন পুষ্প রায়। এরপর থেকে সংসারে নেমে আসে অশান্তি। সোমবার সন্ধ্যায় সামান্য কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে হাত-পা বেঁধে আমাকে লাঠিপেটা করে। পরে একটি ঘরে আটকে রাখে। সংবাদ পেয়ে আমার বাবা-মা মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

শম্পা রানী রায়ের মা সাধনা রানী রায় জানান, জামাই পুষ্প রায়ের বাড়ির পাশের লোকজন মঙ্গলবার সকালে মোবাইল ফোনে আমাদের ঘটনাটি জানায়। আমরা মেয়েকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।

তিনি জানান, মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে থাকায় কোথাও অভিযোগ করার সময় পাইনি। তবে বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি থানার সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত পুষ্প রায়ের পক্ষ হতে কোনো প্রকার যোগাযোগ করা হয়নি বলে তিনি জানান।

বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে আহত শম্পা রানী রায়ের শরীর বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে উনি আশঙ্কামুক্ত।

এ ব্যাপারে স্বামী পুষ্প রায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে নারী কণ্ঠ নিজেকে পুষ্প রায়ের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জানান, এই মুহূর্তে উনার স্বামী পুষ্প রায় বাইরে আছেন বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর ফোন করা হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেনি।

বীরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহছেউল গণির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমাদের জানা নেই। লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে মেনে না নেয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম

আপডেট সময় ০৯:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে না নেয়ায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় স্ত্রী শম্পা রানী রায়কে (২৫) হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে আহত করে ঘরে আটকে রাখে স্বামী পুষ্প রায় (৩০)। পরে শম্পা রানীর মা-বাবা তাকে ঘর থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মহাদেবপুর গ্রামের জগেশ রায়ের ছেলে পুষ্প রায়ের সঙ্গে আট বছর আগে একই এলাকার সুন্দরী হাটগাছ গ্রামের গোকুল রায়ের মেয়ে শম্পা রানী রায়ের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রুমি রায় নামে একটি ছয় বছরের একটি মেয়ে এবং অপূর্ব রায় নামে দেড় বছরের একটি ছেলে রয়েছে।

গত তিন মাসে আগে স্বামী পুষ্প রায় গোপনে আবার বিয়ে করে। বিয়ের বিষয়ে স্ত্রী শম্পা রানী রায় প্রতিবাদ জানালে তাদের সংসারে অশান্তি নেমে আসে। শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শম্পা রানী রায় জানান, তিন মাসে আগে উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই যদুর মোড় এলাকায় গোপনে একটি বিয়ে করেন পুষ্প রায়। এরপর থেকে সংসারে নেমে আসে অশান্তি। সোমবার সন্ধ্যায় সামান্য কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে হাত-পা বেঁধে আমাকে লাঠিপেটা করে। পরে একটি ঘরে আটকে রাখে। সংবাদ পেয়ে আমার বাবা-মা মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

শম্পা রানী রায়ের মা সাধনা রানী রায় জানান, জামাই পুষ্প রায়ের বাড়ির পাশের লোকজন মঙ্গলবার সকালে মোবাইল ফোনে আমাদের ঘটনাটি জানায়। আমরা মেয়েকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।

তিনি জানান, মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে থাকায় কোথাও অভিযোগ করার সময় পাইনি। তবে বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি থানার সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত পুষ্প রায়ের পক্ষ হতে কোনো প্রকার যোগাযোগ করা হয়নি বলে তিনি জানান।

বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. মাহামুদুল হাসান পলাশ জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে আহত শম্পা রানী রায়ের শরীর বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে উনি আশঙ্কামুক্ত।

এ ব্যাপারে স্বামী পুষ্প রায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে নারী কণ্ঠ নিজেকে পুষ্প রায়ের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জানান, এই মুহূর্তে উনার স্বামী পুষ্প রায় বাইরে আছেন বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। এরপর ফোন করা হলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেনি।

বীরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহছেউল গণির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আমাদের জানা নেই। লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।