ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

উল্টো যেতে বাধা দেয়ায় পুলিশ কর্মকর্তাকে পিষে দিল মন্ত্রণালয়ের বাস

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে পা থেঁতলে দেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি এখন স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার বলছে, দেলোয়ারের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন। তার জীবন বাঁচানোটাই এখন মুখ্য বিষয়। দেশের বাইরে নিয়ে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এ জন্য তারা পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এদিকে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও সেই বেপরোয়া বাসচালক নজরুল ইসলামকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, সোমবার সকাল ৭টা থেকে পলাশী এলাকায় দায়িত্বপালন করছিলেন ট্রাফিক পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। সাড়ে ৮টার দিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহন করা বাস (ঢাকা মেট্রো চ-০৮-০০৫৩) নীলক্ষেতের দিক থেকে উল্টোপথে পলাশী হয়ে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এতে পুলিশ বাধা দিলে চালক নজরুল ইসলামসহ বাসের হেলপার ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান।

ওই সময় কিছুটা দূরে ছিলেন পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। ঘটনাটি চোখে পড়তেই তিনি ছুটে যান। তার সঙ্গেও তর্কে জড়ান বাসের লোকজন। এমনকি পুলিশের পোশাক ধরেও টানাটানি করেন তারা।

এরই একপর্যায়ে চালক বাসটি চালিয়ে দেয়। এতে দেলোয়ারের বাম পা বাসের চাকার নিচে পড়ে থেঁতলে যায়।

ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রুহুল আমিন সাগর দৈনিক আকাশকে বলেন, জনপ্রশাসন কমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহনকারী বাসটি উল্টোপথে যাচ্ছিল। এইচএসসি পরীক্ষা থাকার কারণে সেদিন রাস্তায় যানজট ছিল। এ কারণে পুলিশ সদস্যরা উল্টোপথে না যাওয়ার জন্য বাসের চালককে অনুরোধ করেন। তিনি সে কথা না শুনে ইচ্ছে করেই ট্রাফিক পরিদর্শক দেলোয়ারের ওপর চালিয়ে দেয়। এতে তার পা থেঁতলে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় মঙ্গলবার শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে।

পরিবারিক সূত্র জানায়, দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা দেলোয়ারের বাঁ পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। পরিবার তার পা রক্ষার চেষ্টা করতে থাকে।

মঙ্গলবার তাকে পান্থপথের স্পাইনাল অর্থোপেডিক হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবার। সেখানে দেলোয়ার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানায় তার পরিবার।

দেলোয়ারের একজন নিকটাত্মীয় জানান, দেলোয়ার হোসেন আগে থেকেই হৃদরোগী। পাঁচ বছর আগে তার বাইপাস সার্জারি হয়। বুধবার রাত থেকে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই দেলোয়ারের পরিবারের। তিনি চার মেয়ের জনক। সব থেকে ছোট মেয়ের বয়স চার মাস। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি ২৫ বছর ধরে পুলিশে চাকরি করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

উল্টো যেতে বাধা দেয়ায় পুলিশ কর্মকর্তাকে পিষে দিল মন্ত্রণালয়ের বাস

আপডেট সময় ১১:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দিয়ে পা থেঁতলে দেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার জীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি এখন স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছেন।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার বলছে, দেলোয়ারের অবস্থা শঙ্কটাপন্ন। তার জীবন বাঁচানোটাই এখন মুখ্য বিষয়। দেশের বাইরে নিয়ে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। এ জন্য তারা পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এদিকে ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও সেই বেপরোয়া বাসচালক নজরুল ইসলামকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, সোমবার সকাল ৭টা থেকে পলাশী এলাকায় দায়িত্বপালন করছিলেন ট্রাফিক পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। সাড়ে ৮টার দিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহন করা বাস (ঢাকা মেট্রো চ-০৮-০০৫৩) নীলক্ষেতের দিক থেকে উল্টোপথে পলাশী হয়ে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এতে পুলিশ বাধা দিলে চালক নজরুল ইসলামসহ বাসের হেলপার ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়ান।

ওই সময় কিছুটা দূরে ছিলেন পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। ঘটনাটি চোখে পড়তেই তিনি ছুটে যান। তার সঙ্গেও তর্কে জড়ান বাসের লোকজন। এমনকি পুলিশের পোশাক ধরেও টানাটানি করেন তারা।

এরই একপর্যায়ে চালক বাসটি চালিয়ে দেয়। এতে দেলোয়ারের বাম পা বাসের চাকার নিচে পড়ে থেঁতলে যায়।

ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার রুহুল আমিন সাগর দৈনিক আকাশকে বলেন, জনপ্রশাসন কমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহনকারী বাসটি উল্টোপথে যাচ্ছিল। এইচএসসি পরীক্ষা থাকার কারণে সেদিন রাস্তায় যানজট ছিল। এ কারণে পুলিশ সদস্যরা উল্টোপথে না যাওয়ার জন্য বাসের চালককে অনুরোধ করেন। তিনি সে কথা না শুনে ইচ্ছে করেই ট্রাফিক পরিদর্শক দেলোয়ারের ওপর চালিয়ে দেয়। এতে তার পা থেঁতলে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় মঙ্গলবার শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়েছে।

পরিবারিক সূত্র জানায়, দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা দেলোয়ারের বাঁ পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। পরিবার তার পা রক্ষার চেষ্টা করতে থাকে।

মঙ্গলবার তাকে পান্থপথের স্পাইনাল অর্থোপেডিক হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবার। সেখানে দেলোয়ার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। তাকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার দাবি জানায় তার পরিবার।

দেলোয়ারের একজন নিকটাত্মীয় জানান, দেলোয়ার হোসেন আগে থেকেই হৃদরোগী। পাঁচ বছর আগে তার বাইপাস সার্জারি হয়। বুধবার রাত থেকে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই দেলোয়ারের পরিবারের। তিনি চার মেয়ের জনক। সব থেকে ছোট মেয়ের বয়স চার মাস। তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি ২৫ বছর ধরে পুলিশে চাকরি করেন।