ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যাসিস্ট সরকার দেশে ভঙ্গুর অর্থনীতি রেখে গেছে: প্রতিমন্ত্রী ‘এক-এগারোর’ মাসুদ উদ্দিন ফের ৪ দিনের রিমান্ডে কাল থেকে ৪ সিটিতে হামের টিকা শুরু, যাদের না দেয়ার পরামর্শ জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির ‘নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়’ কক্সবাজারের পর্যটন স্পটে মিলবে ফ্রি ইন্টারনেট: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী তেল আছে শুধু সংসদে: জামায়াত আমির যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আলোচনায় বসার আহ্বান জাতিসংঘের কুষ্টিয়ায় দরবার শরিফে হামলা আগুন, দরবারপ্রধানকে পিটিয়ে হত্যা মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে: স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি

তালাককৃত স্ত্রীর ইন্ধনে নববধূকে হত্যা, স্বামীসহ আটক ৪

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোরের গুরুদাসপুরে বিয়ের তিন দিন পর তালাককৃত স্ত্রীর ইন্ধনে নববধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে স্বামী। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ঝাউপাড়া গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মিম (১৬) ঝাউপাড়া গ্রামের তহিদুলের ছেলে ফরহাদের স্ত্রী।

ফরহাদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইমা নামে এক মেয়ের সঙ্গে ফরহাদের প্রেম করে বিয়ে হয়। বাবা-মা মেনে না নেয়ায় মার্চের ৭ তারিখে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। ছাড়াছাড়ি হলেও তাদের মধ্যে গোপনে সম্পর্ক থেকেই যায়। এর পর ২২ মার্চ ফরহাদের সঙ্গে বিয়ে হয় মিমের। বিয়ের পর তার আগের স্ত্রী ইমা, শ্বশুর তফেরউদ্দিন ও শাশুড়ি শুকজান বেগম তার স্ত্রী মিমকে হত্যা করে ইমাকে ফেরত নেয়ার কথা বলে। তাদের পরামর্শে রোববার ফরহাদ মা-বাবাকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়াইয়ে ঘুমিয়ে রাখেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তালাককৃত স্ত্রী ইমা ও ইমার বাবা-মা গোপনে ফরহাদের বাড়িতে আসে। তারা ফরহাদের হাতে গ্লাবস পরিয়ে দেয়। এর পর ঘুমন্ত মিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাড়ির পেছনের ডোবায় লাশ পুঁতে রাখে। পরে ওই রাতেই মিমের বাবা মনিরুলকে ফোন করে ফরহাদ জানায়, তার মেয়ে একটি চিঠি লিখে জীবন নামে এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। পরে তারা অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মঙ্গলবার বিকালে মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ফরহাদ ও তার বাবা তহিদুলকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিমকে হত্যার কথা স্বীকার করে ফরহাদ। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আগের স্ত্রী ইমা (১৮), তফেরউদ্দিন (৫৫), শুকজান বেগমকে (৪৫) আটক করে পুলিশ।

নিহত মিমের বাবা মনিরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে গুরুদাসপুর রোকেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। গত বৃহস্পতিবার তার মেয়েকে বিয়ে দেন। বিয়ের তিন দিনের মাথায় তাকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, মিমকে হত্যা করে মাটির নিচে লাশ পুঁতে রেখে গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

তালাককৃত স্ত্রীর ইন্ধনে নববধূকে হত্যা, স্বামীসহ আটক ৪

আপডেট সময় ০৫:৫৬:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নাটোরের গুরুদাসপুরে বিয়ের তিন দিন পর তালাককৃত স্ত্রীর ইন্ধনে নববধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে স্বামী। এ ঘটনায় স্বামীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ঝাউপাড়া গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মিম (১৬) ঝাউপাড়া গ্রামের তহিদুলের ছেলে ফরহাদের স্ত্রী।

ফরহাদের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইমা নামে এক মেয়ের সঙ্গে ফরহাদের প্রেম করে বিয়ে হয়। বাবা-মা মেনে না নেয়ায় মার্চের ৭ তারিখে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। ছাড়াছাড়ি হলেও তাদের মধ্যে গোপনে সম্পর্ক থেকেই যায়। এর পর ২২ মার্চ ফরহাদের সঙ্গে বিয়ে হয় মিমের। বিয়ের পর তার আগের স্ত্রী ইমা, শ্বশুর তফেরউদ্দিন ও শাশুড়ি শুকজান বেগম তার স্ত্রী মিমকে হত্যা করে ইমাকে ফেরত নেয়ার কথা বলে। তাদের পরামর্শে রোববার ফরহাদ মা-বাবাকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়াইয়ে ঘুমিয়ে রাখেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তালাককৃত স্ত্রী ইমা ও ইমার বাবা-মা গোপনে ফরহাদের বাড়িতে আসে। তারা ফরহাদের হাতে গ্লাবস পরিয়ে দেয়। এর পর ঘুমন্ত মিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বাড়ির পেছনের ডোবায় লাশ পুঁতে রাখে। পরে ওই রাতেই মিমের বাবা মনিরুলকে ফোন করে ফরহাদ জানায়, তার মেয়ে একটি চিঠি লিখে জীবন নামে এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। পরে তারা অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মঙ্গলবার বিকালে মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ফরহাদ ও তার বাবা তহিদুলকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিমকে হত্যার কথা স্বীকার করে ফরহাদ। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আগের স্ত্রী ইমা (১৮), তফেরউদ্দিন (৫৫), শুকজান বেগমকে (৪৫) আটক করে পুলিশ।

নিহত মিমের বাবা মনিরুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে গুরুদাসপুর রোকেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। গত বৃহস্পতিবার তার মেয়েকে বিয়ে দেন। বিয়ের তিন দিনের মাথায় তাকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, মিমকে হত্যা করে মাটির নিচে লাশ পুঁতে রেখে গোপনের চেষ্টা করা হয়েছিল। সেখান থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।