ঢাকা ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নির্বাচনের আগুনে পুড়ল অর্ধশতাধিক দোকান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে একটি বাজারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন।

এসময় হামলাকারীরা পেট্রল ঢেলে ৫০টি দোকান পুড়িয়ে দেয়। তাণ্ডব শেষে যাওয়ার সময় নগদ টাকা, স্বর্ণ, মালামাল নিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের। সর্বশান্ত ব্যবসায়ীরা এখন অসহায় দিন কাটাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের দাসপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ চরকিং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার কাছে পরাজিত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌসের স্বামী মোহাম্মদ আলীর অনুগত বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন মহিন। এরজন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দায়ী করা হচ্ছে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

মহিন লোকজন নিয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দাসপাড়া বাজারে হামলা চালান। তার সঙ্গে ছিলেন, একই ইউনিয়নের আবু তাহের, আলাউদ্দিন, সালাহ উদ্দিন, দিদার উদ্দিন ডাকাত, এমরান হোসেন ডাকাত,মালেক কালু, অন্য এলাকার বাহার ডাকাত, আবদুল ওহাব ডাকাত, পিস্তল শাহনাজ, মুরাদ ডাকাত, শাহজাহান ডাকাত, এমাল ডাকাতসহ ৩০-৩৫ জন।

ব্যবসায়ীরা ডাকাত ভেবে বাধা দিলে গেলে তাদের বেধড়ক পেটানো হয়। পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়া হয় ৫০টি দোকানে। লুট করা হয় মালপত্র। নগদ টাকাসহ ব্যবসায়ীদের অন্তত ৮ কোটি টাকার জিনিপত্র লুট ও নষ্ট করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জ্যোতিষ চন্দ্র দাস, জাফর উদ্দিন, বিকাশ দাস, বিদ্যুৎ দাস দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমরা দাসপাড়া গ্রামে ও বাজারে আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থক। গত ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদকে ভোট দিয়েছি। এটাই আমাদের অপরাধ। এমপির স্বামী মোহাম্মদ আলী সমর্থিত বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হেরে যাওয়ায় ওই প্রার্থী ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাজারে হামলা, পেট্রল ঢেলে দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে। আজ আমরা সব হারিয়ে রাস্তায় বসেছি। আমরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দৈনিক আকাশকে বলেন, পুর্ব শত্রুতার জের ধরে এমপির ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার স্বামী মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে দাসপাড়া বাজারে তান্ডব চালানো হয়েছে।

এব্যাপারে জানতে এমপি আয়েশা ফেরদৌসের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারনে অভিযোগের বিষয়ে তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার স্বামী মোহাম্মদ আলী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, আমি চিকিৎসা নিতে ঢাকায় আছি। দাসপাড়া বাজারে অগ্নিসংযোগ কে বা কারা করছে তা জানি না। অপরাধী যারাই হোক তাদের গ্রেফতার করা উচিত।

হাতিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পুর্ব শত্রুতার জের ধরে দাসপাড়া বাজারে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

নির্বাচনের আগুনে পুড়ল অর্ধশতাধিক দোকান

আপডেট সময় ১২:৫১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে একটি বাজারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীদের বাধা দিতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন।

এসময় হামলাকারীরা পেট্রল ঢেলে ৫০টি দোকান পুড়িয়ে দেয়। তাণ্ডব শেষে যাওয়ার সময় নগদ টাকা, স্বর্ণ, মালামাল নিয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের। সর্বশান্ত ব্যবসায়ীরা এখন অসহায় দিন কাটাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের দাসপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ চরকিং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার কাছে পরাজিত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌসের স্বামী মোহাম্মদ আলীর অনুগত বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন মহিন। এরজন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দায়ী করা হচ্ছে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

মহিন লোকজন নিয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দাসপাড়া বাজারে হামলা চালান। তার সঙ্গে ছিলেন, একই ইউনিয়নের আবু তাহের, আলাউদ্দিন, সালাহ উদ্দিন, দিদার উদ্দিন ডাকাত, এমরান হোসেন ডাকাত,মালেক কালু, অন্য এলাকার বাহার ডাকাত, আবদুল ওহাব ডাকাত, পিস্তল শাহনাজ, মুরাদ ডাকাত, শাহজাহান ডাকাত, এমাল ডাকাতসহ ৩০-৩৫ জন।

ব্যবসায়ীরা ডাকাত ভেবে বাধা দিলে গেলে তাদের বেধড়ক পেটানো হয়। পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়া হয় ৫০টি দোকানে। লুট করা হয় মালপত্র। নগদ টাকাসহ ব্যবসায়ীদের অন্তত ৮ কোটি টাকার জিনিপত্র লুট ও নষ্ট করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জ্যোতিষ চন্দ্র দাস, জাফর উদ্দিন, বিকাশ দাস, বিদ্যুৎ দাস দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমরা দাসপাড়া গ্রামে ও বাজারে আওয়ামী লীগের কর্মী ও সমর্থক। গত ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী মহিউদ্দিন আহমেদকে ভোট দিয়েছি। এটাই আমাদের অপরাধ। এমপির স্বামী মোহাম্মদ আলী সমর্থিত বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হেরে যাওয়ায় ওই প্রার্থী ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের নিয়ে বাজারে হামলা, পেট্রল ঢেলে দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে। আজ আমরা সব হারিয়ে রাস্তায় বসেছি। আমরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দৈনিক আকাশকে বলেন, পুর্ব শত্রুতার জের ধরে এমপির ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার স্বামী মোহাম্মদ আলীর নির্দেশে দাসপাড়া বাজারে তান্ডব চালানো হয়েছে।

এব্যাপারে জানতে এমপি আয়েশা ফেরদৌসের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারনে অভিযোগের বিষয়ে তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার স্বামী মোহাম্মদ আলী সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, আমি চিকিৎসা নিতে ঢাকায় আছি। দাসপাড়া বাজারে অগ্নিসংযোগ কে বা কারা করছে তা জানি না। অপরাধী যারাই হোক তাদের গ্রেফতার করা উচিত।

হাতিয়া থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার বলেন, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা পুর্ব শত্রুতার জের ধরে দাসপাড়া বাজারে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।