ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কখনও রাত নামে না যে গ্রহে

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

এ গ্রহটিকে বলা হয় ‘ট্যাটুইন গ্রহ’। কিন্তু তার সঙ্গে ‘ট্যাটু’ বা উল্কির কোনো সম্পর্ক নেই। আসলে ‘স্টার ওয়রস’ ছবির নায়ক লিউক স্কাইওয়াকের বাড়ি ছিল ট্যাটুইনে। সেখান থেকেই এই নামকরণ। এ গ্রহের আকাশে দুই সূর্য। একই সঙ্গে দু’দুটি সূর্যকে নিয়মিত প্রদক্ষিণ করে চলে এই গ্রহটি। এর নাম ‘কেপলার-১৬৪৭-বি’।

বছর ছয়েক আগে আশ্চর্য এই ভিন গ্রহটির সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই ভিন গ্রহটি রয়েছে পৃথিবী থেকে ৩ হাজার ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে। এ গ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ১ হাজার ১০৭ দিন। মানে, তিন বছরের একটু বেশি।

সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে যে সময় নেয় পৃথিবী, আবিষ্কৃত এ ভিনগ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় তার চেয়ে তিন গুণ বেশি। এই ভিন গ্রহটি যে দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তার একটি আমাদের সূর্যের চেয়ে সামান্য বড়। অন্যটি সামান্য ছোট। এই ভিন গ্রহটির বয়স ৪৪০ কোটি বছর। মানে, আমাদের পৃথিবীরই প্রায় সমবয়সী।

আমেরিকার লেহিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোশুয়া পেপার এই ভিন গ্রহটির অন্যতম আবিষ্কারক। তবে এ আবিষ্কারে রয়েছেন চার মহাদেশের ১০ দেশের মোট ৪০ বিজ্ঞানী।

সান দিয়েগোয় আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির বৈঠকে এ আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করার পর সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞান জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ ছাপা হয়েছে। এ আবিষ্কার সম্পর্কে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এভিন গ্রহটির ভর ও ব্যাসার্ধ একেবারে আমাদের বৃহস্পতির মতোই।

এবং আকারে বৃহস্পতির মতোই বড়। আর তার পুরোটাই গ্যাসে ভরা। পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহ এটা নয়। দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা ভিন গ্রহগুলোকে বলা হয় ‘সারকাম-বাইনারি প্ল্যানেট’। তবে এই গ্রহটি রয়েছে তার সূর্যের চেয়ে অনেকটা দূরে। যাকে বলা হয় ‘হ্যাবিটেব্ল জোন’।

যদিও এই গ্রহটিতে প্রাণের সম্ভাবনা কম, সেটি গ্যাসে ভরা বলে। তবে এ গ্রহের যদি বড় কোনো চাঁদ থাকে, যদি তার সন্ধান মেলে কোনোদিন, তাহলে সেই চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। দুই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে বলে এই গ্রহে সূর্যাস্ত হয় না।

এই গ্রহটি যখন চেহারায় এত বড়, তখন তার অস্তিত্বের প্রমাণ পেতে এত দেরি হল কেন? এর জবাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এর কারণ হল, গ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে অনেক বেশি সময় নেয়। আর এদের কক্ষপথও খুব জটিল। তাই সহজে এদের হদিস মেলে না।

তবে এই আবিষ্কারের অভিনবত্বটা হল এখানেই, সূর্যকে এত দীর্ঘ কক্ষপথে প্রদক্ষিণ (লঙ্গেস্ট অরবিটাল পিরিয়ড) করা কোনো ভিন গ্রহের সন্ধান মিলল এই প্রথম। এত বড় ভিন গ্রহ এর আগে পাওয়া যায়নি। এই গ্রহটির আবিষ্কার হয়েছে কিলোডিগ্রি এক্সট্রিমলি লিট্ল টেলিস্কোপের (কেইএলটি) মাধ্যমে। এর দুটি অংশ রয়েছে। একটি আমেরিকার আরিজোনায়। অন্যটি দক্ষিণ আফ্রিকায়।

সূত্র: ইন্টারনেট

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কখনও রাত নামে না যে গ্রহে

আপডেট সময় ১১:৫৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

এ গ্রহটিকে বলা হয় ‘ট্যাটুইন গ্রহ’। কিন্তু তার সঙ্গে ‘ট্যাটু’ বা উল্কির কোনো সম্পর্ক নেই। আসলে ‘স্টার ওয়রস’ ছবির নায়ক লিউক স্কাইওয়াকের বাড়ি ছিল ট্যাটুইনে। সেখান থেকেই এই নামকরণ। এ গ্রহের আকাশে দুই সূর্য। একই সঙ্গে দু’দুটি সূর্যকে নিয়মিত প্রদক্ষিণ করে চলে এই গ্রহটি। এর নাম ‘কেপলার-১৬৪৭-বি’।

বছর ছয়েক আগে আশ্চর্য এই ভিন গ্রহটির সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই ভিন গ্রহটি রয়েছে পৃথিবী থেকে ৩ হাজার ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে। এ গ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ১ হাজার ১০৭ দিন। মানে, তিন বছরের একটু বেশি।

সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে যে সময় নেয় পৃথিবী, আবিষ্কৃত এ ভিনগ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় তার চেয়ে তিন গুণ বেশি। এই ভিন গ্রহটি যে দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তার একটি আমাদের সূর্যের চেয়ে সামান্য বড়। অন্যটি সামান্য ছোট। এই ভিন গ্রহটির বয়স ৪৪০ কোটি বছর। মানে, আমাদের পৃথিবীরই প্রায় সমবয়সী।

আমেরিকার লেহিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোশুয়া পেপার এই ভিন গ্রহটির অন্যতম আবিষ্কারক। তবে এ আবিষ্কারে রয়েছেন চার মহাদেশের ১০ দেশের মোট ৪০ বিজ্ঞানী।

সান দিয়েগোয় আমেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির বৈঠকে এ আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করার পর সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞান জার্নাল ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স’-এ ছাপা হয়েছে। এ আবিষ্কার সম্পর্কে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এভিন গ্রহটির ভর ও ব্যাসার্ধ একেবারে আমাদের বৃহস্পতির মতোই।

এবং আকারে বৃহস্পতির মতোই বড়। আর তার পুরোটাই গ্যাসে ভরা। পৃথিবীর মতো পাথুরে গ্রহ এটা নয়। দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা ভিন গ্রহগুলোকে বলা হয় ‘সারকাম-বাইনারি প্ল্যানেট’। তবে এই গ্রহটি রয়েছে তার সূর্যের চেয়ে অনেকটা দূরে। যাকে বলা হয় ‘হ্যাবিটেব্ল জোন’।

যদিও এই গ্রহটিতে প্রাণের সম্ভাবনা কম, সেটি গ্যাসে ভরা বলে। তবে এ গ্রহের যদি বড় কোনো চাঁদ থাকে, যদি তার সন্ধান মেলে কোনোদিন, তাহলে সেই চাঁদে প্রাণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। দুই সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে বলে এই গ্রহে সূর্যাস্ত হয় না।

এই গ্রহটি যখন চেহারায় এত বড়, তখন তার অস্তিত্বের প্রমাণ পেতে এত দেরি হল কেন? এর জবাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এর কারণ হল, গ্রহটি তার দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে অনেক বেশি সময় নেয়। আর এদের কক্ষপথও খুব জটিল। তাই সহজে এদের হদিস মেলে না।

তবে এই আবিষ্কারের অভিনবত্বটা হল এখানেই, সূর্যকে এত দীর্ঘ কক্ষপথে প্রদক্ষিণ (লঙ্গেস্ট অরবিটাল পিরিয়ড) করা কোনো ভিন গ্রহের সন্ধান মিলল এই প্রথম। এত বড় ভিন গ্রহ এর আগে পাওয়া যায়নি। এই গ্রহটির আবিষ্কার হয়েছে কিলোডিগ্রি এক্সট্রিমলি লিট্ল টেলিস্কোপের (কেইএলটি) মাধ্যমে। এর দুটি অংশ রয়েছে। একটি আমেরিকার আরিজোনায়। অন্যটি দক্ষিণ আফ্রিকায়।

সূত্র: ইন্টারনেট