ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ ‘আমি রুমিন ফারহানা, আমার কোনো দল লাগে না’ গুম হওয়া পরিবারের আর্তনাদ শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ

আম পাতার ঔষধি গুণাগুণ

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

আম খেতে সবাই পছন্দ করে। আমের স্বাস্থ্য জন্য উপকার এ বিষয়ে কারো দ্বীমত নেই। কিন্তু আম পাতা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি যা আমরা অনেকেই জানিনা। আম পাতায় আছে ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ উপাদান। এই পাতায় মেঞ্জিফিরিন নামক উপাদান থাকে যা অপরিমেয় স্বাস্থ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। আমের কচি পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি পান করে বা পাতা গুড়ো করে খাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আম পাতার ব্যবহার ও বিভিন্ন রোগ নিরাময় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সাধারণত আম পাতা ব্যবহার করা হয়।

আজ আমরা কথা বলবো আম পাতার গুণাগুণ সর্ম্পকে।

উজ্জ্বল, মাংসল এবং সূক্ষ্ম প্রান্তের আম পাতা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। আম পাতায় প্রচুর ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকে। আম পাতার ঔষধি গুণাগুণ পাওয়ার জন্য ফুটিয়ে বা গুঁড়ো করে খাওয়া যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কচি আম পাতা রান্না করে খাওয়া হয়। বিভিন্ন গবেষণায় আম পাতার ঔষধি গুণের কথা প্রমাণিত হয়েছে। আম পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে জেনে নিই।

রক্তচাপ
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১ কাপ আম পাতার চা পান করলে হাইপারটেনশন কমে। ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালীকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে আম পাতা। এতে রক্তচাপ কমানোর উপাদান আছে।

ডায়াবেটিস
ট্যানিন এবং অ্যান্থোসায়ানিন থাকে আম পাতায় যা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে। আম পাতার চা ডায়াবেটিস এড়িয়ে চলতে এবং সংবহন সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

শ্বসনতন্ত্র
সকল ধরনের শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা সারতে এবং কমাতে আম পাতার চা সাহায্য করে। যারা ব্রঙ্কাইটিস বা অ্যাজমায়, ঠাণ্ডায় ভুগছেন; তারা মুক্তি পেতে পারেন আম পাতা ফুটানো পানি পান করে।

কানের ব্যথা
কান ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আম পাতার রস ব্যবহার হতে পারে সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিকার। আম পাতায় হালকা তাপ দিয়ে কানের ছিদ্রের উপর লাগান। এটি ব্যথার সমস্যা মুক্তিতে চমৎকার কাজ করবে।

পোড়া
আম পাতার ছাই ত্বকের পোড়া অংশকে নিরাময় হতে সাহায্য করে। কিছু আম পাতা পুড়িয়ে ছাই করে নিন এবং এই ছাই আলতো করে পোড়া স্থানে ঘষুন। আম পাতার সাহায্যে পোড়া নিরাময় হবে খুব দ্রুত।

ইউরিক এসিড
গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত উপকারী আম পাতা। কিছু কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিন পাতার বর্ণ হলুদ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। উপকারিতা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়।

স্ট্রেস
অস্থির ও উদ্বিগ্ন অনুভব করেন তারা এর থেকে মুক্তি পেতে পান করতে পারেন আম পাতার চা। ২/৩ কাপ আম পাতার চা পান করে দেখুন পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এটি আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল হতে সাহায্য করবে এবং আপনি সতেজ অনুভব করবেন।

কিডনির পাথর
আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন এবং পানির সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন। এর ফলে কিডনি পাথর খুব সহজেই শরীর থেকে কিডনির পাথর বের হয়ে যাবে।

গলা ব্যথা
কিছু আম পাতা পুড়তে দিন এবং এর থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া শ্বাসের সাথে গ্রহণ করুন। এতে আপনার গলা ব্যথার সমস্যা কমবে।

স্বাস্থ্য বজায় রাখা
যাদের মুখের দুর্গন্ধ এবং দাঁত ও মাড়ির সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে। কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিন। উপকারিতা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের শান্তিতে নির্বাচন করতে দেব না: আসিফ মাহমুদ

আম পাতার ঔষধি গুণাগুণ

আপডেট সময় ১২:৪৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক: 

আম খেতে সবাই পছন্দ করে। আমের স্বাস্থ্য জন্য উপকার এ বিষয়ে কারো দ্বীমত নেই। কিন্তু আম পাতা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি যা আমরা অনেকেই জানিনা। আম পাতায় আছে ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ উপাদান। এই পাতায় মেঞ্জিফিরিন নামক উপাদান থাকে যা অপরিমেয় স্বাস্থ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। আমের কচি পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি পান করে বা পাতা গুড়ো করে খাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আম পাতার ব্যবহার ও বিভিন্ন রোগ নিরাময় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সাধারণত আম পাতা ব্যবহার করা হয়।

আজ আমরা কথা বলবো আম পাতার গুণাগুণ সর্ম্পকে।

উজ্জ্বল, মাংসল এবং সূক্ষ্ম প্রান্তের আম পাতা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। আম পাতায় প্রচুর ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকে। আম পাতার ঔষধি গুণাগুণ পাওয়ার জন্য ফুটিয়ে বা গুঁড়ো করে খাওয়া যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কচি আম পাতা রান্না করে খাওয়া হয়। বিভিন্ন গবেষণায় আম পাতার ঔষধি গুণের কথা প্রমাণিত হয়েছে। আম পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে জেনে নিই।

রক্তচাপ
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন ১ কাপ আম পাতার চা পান করলে হাইপারটেনশন কমে। ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালীকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে আম পাতা। এতে রক্তচাপ কমানোর উপাদান আছে।

ডায়াবেটিস
ট্যানিন এবং অ্যান্থোসায়ানিন থাকে আম পাতায় যা ডায়াবেটিস নিরাময়ে সাহায্য করে। আম পাতার চা ডায়াবেটিস এড়িয়ে চলতে এবং সংবহন সম্পর্কিত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

শ্বসনতন্ত্র
সকল ধরনের শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা সারতে এবং কমাতে আম পাতার চা সাহায্য করে। যারা ব্রঙ্কাইটিস বা অ্যাজমায়, ঠাণ্ডায় ভুগছেন; তারা মুক্তি পেতে পারেন আম পাতা ফুটানো পানি পান করে।

কানের ব্যথা
কান ব্যথার সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে আম পাতার রস ব্যবহার হতে পারে সবচেয়ে কার্যকরী প্রতিকার। আম পাতায় হালকা তাপ দিয়ে কানের ছিদ্রের উপর লাগান। এটি ব্যথার সমস্যা মুক্তিতে চমৎকার কাজ করবে।

পোড়া
আম পাতার ছাই ত্বকের পোড়া অংশকে নিরাময় হতে সাহায্য করে। কিছু আম পাতা পুড়িয়ে ছাই করে নিন এবং এই ছাই আলতো করে পোড়া স্থানে ঘষুন। আম পাতার সাহায্যে পোড়া নিরাময় হবে খুব দ্রুত।

ইউরিক এসিড
গেঁটে বাত নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত উপকারী আম পাতা। কিছু কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিন পাতার বর্ণ হলুদ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত। উপকারিতা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়।

স্ট্রেস
অস্থির ও উদ্বিগ্ন অনুভব করেন তারা এর থেকে মুক্তি পেতে পান করতে পারেন আম পাতার চা। ২/৩ কাপ আম পাতার চা পান করে দেখুন পার্থক্য বুঝতে পারবেন। এটি আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল হতে সাহায্য করবে এবং আপনি সতেজ অনুভব করবেন।

কিডনির পাথর
আম পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন এবং পানির সাথে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন। এর ফলে কিডনি পাথর খুব সহজেই শরীর থেকে কিডনির পাথর বের হয়ে যাবে।

গলা ব্যথা
কিছু আম পাতা পুড়তে দিন এবং এর থেকে উৎপন্ন ধোঁয়া শ্বাসের সাথে গ্রহণ করুন। এতে আপনার গলা ব্যথার সমস্যা কমবে।

স্বাস্থ্য বজায় রাখা
যাদের মুখের দুর্গন্ধ এবং দাঁত ও মাড়ির সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করে। কচি আম পাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিন। উপকারিতা পাওয়ার জন্য প্রতিদিন পান করুন এই পানীয়।