অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
২০১৫ সালে ঢাকার মেয়র নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণ ভোট দিতে পারলে তখন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়ালই জিততেন এবং তারই মেয়র হওয়ার কথা ছিল। এবারও সুষ্ঠু ভোট হলে তাবিথই জিতবেন বলে আশা করছেন বিএনপির এই নেতা।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির ভোটে তাবিথকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়ার সিদ্ধান্তের পরদিন মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী। ২০১৫ সালের এপ্রিলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনিসুল হকের সঙ্গে লড়াই করেন বিএনপির তাবিথ আউয়াল। তবে ভোটের দিন দুপুরের আগেই তিনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
রিজভী বলেন, ‘মাত্র দুই ঘণ্টার ভোটে তাবিথ আউয়াল তিন লাখের অধিক ভোট পেয়েছিলেন। ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা বাকি সময়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের মহোৎসব চালিয়ে তৎকালীন নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় মাত্র অল্প ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করে।’
এবার সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আন্তরিক হলে তাবিথ আউয়াল বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলেও আশার কথা বলেন রিজভী। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির এই নেতা ঢাকা উত্তরে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নেই বলে অভিযোগ করে আসছেন। একই বক্তব্য আবার তুলে ধরলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘বর্তমান সিইসি আবারও আরেকটি নীল নকশা ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন সম্পন্ন করে কি না সে প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে।’
বর্তমান ইসির অধীনে সাম্প্রতিক কালের নির্বাচনগুলোকে ‘সেরা প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আমি বিএনপির পক্ষ থেকে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, ডিএনসি নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে দ্রুত লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির উদ্যোগ নিন।’
রাজনৈতিক সহাবস্থান তৈরির পদক্ষেপ নিন। ধানের শীষের প্রার্থী ও সমর্থকরা যাতে নির্ভয়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে সে ব্যবস্থা নিন। সেনাবাহিনী মোতায়েন করে ভয়-ভীতিমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করুন। কারণ এখন পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে সুষ্ঠু পরিবেশের কোন আলামত নেই।
দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘সপ্তাহের অধিকাংশ দিন মিথ্যা মামলায় হাজিরা দিতে হচ্ছে ও প্রতিদিন তাকে জামিন নিতে হচ্ছে, এসমস্ত অনাচারমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সরকার আদৌ সুষ্ঠু করবে কি না তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে।’
বিএনপির কাছে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা চেয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন রিজভী। কাদের বলেছিলেন, বিএনপি একবার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার চায়, একবার চায় সহায়ক সরকার। আসলে বিএনপি কী চায় সেটা তারা নিজেরাই জানে না।
কাদেরের এই বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের শ্রবণেন্দ্রীয়তে সমস্যা থাকতে পারে, কিন্তু জাতি বারবার বিএনপিসহ বিরোধী দলের সুষ্পষ্ট উচ্চারণ শুনেছে যে, বর্তমান সংসদ এবং প্রধানমন্ত্রীকে বহাল রেখে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে।’
‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সংকীর্ণ দলীয় চিন্তার বাইরে এক ধাপও ফেলেন না। বিরোধী দলকে তিনি শত্রু জ্ঞান করেন এবং বিরোধী মত ও সমালোচনায় তিনি অস্থির হয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সুতরাং এ ধরনের মনোবৃত্তির প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কখনোই কোন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















