অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য নাজমুল হুদা এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। মুক্তিযুদ্ধের রণধ্বনী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান এখন নিজের করে নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পুরনো দল বিএনপির ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগানও দেন তিনি। আর এ কারণে তাকে জিন্দাবাদ ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা মোহাম্মদ নাসিম।
নাজমুল হুদার পরিচয় এখন তিনি রাজনৈতিক মোর্চা বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স-বিএনএ এবং দল হিসেবে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান।
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বিএনএর তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে শেষে ‘জয় বাংলা’ এবং ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে বক্তব্য শেষ করেন নাজমুল হুদা। এ সময় মঞ্চে বসে তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসেন নাসিম।
পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মোহাম্মদ নাসিম হাসতে হাসতে বলেন, ‘হুদা ভাইকে বলব জিন্দাবাদ ছাড়তে হবে।’ আসলে অনেক দিনের অভ্যাস ছাড়তে একটু সময় লাগবে। তারপারেও বলব তাকে জিন্দাবাদ ছাড়তে হবে।
নাজমুল হুদাকে নাসিম বলেন, ‘মনে রাখবেন, পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ আমাদের নাই। আপনারা ছেড়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে এসেছেন। তাই না? পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই।’
বিএনপির দিকে আর যাওয়া যাবে না ইঙ্গিত করে নাজমুল হুদাকে নাসিম বলেন, ‘শুধু একটি কথা বলতে চাই, ওইখানে আর ফিরে যাওয়া যাবে না। থাকতে হবে শেখ হাসিনার সাথে।’
এর আগে সভাপতির বক্তব্যে নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমরা সুস্থ রাজনীতির জন্য বিএনএ জোট গঠন করেছি। বাংলাদেশের রাজপথকে উত্তপ্ত করে বাংলাদেশের যে বস্তাপচা রাজনীতি এতকাল পর্যন্ত আমরা দেখে এসেছি, সেই রাজনীতি থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা ৩১টি দল সংঘবদ্ধ হয়েছি।’
বিএনএকে নির্বাচনমুখী জোট আখ্যা দিয়ে আগামী নির্বাচনে প্রতিটি আসনে প্রার্থী দেয়ার কথা চিন্তাভাবনা করার কথাও জানান নাজমুল হুদা।
তবে পরে আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থী দেয়ার কথাও বলেন নাজমুল হুদা।
‘আমরা এই কথা বলতে পারি যে, আমরা সব কটি আসনে প্রার্থী দিলেও যেখানে নিশ্চিতভাবে ১৪ দলীয় প্রার্থী রয়েছে সেই সমস্ত আসন থেকে আমরা আমাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করব।’
নাজমুল হুদা বিএনপিতে থাকাকালে বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক হিসেবে মানতেন না। এমনকি তিনি বঙ্গবন্ধু শব্দটিও উচ্চারণ করতেন না। তবে আজ বঙ্গবন্ধু সম্বোধন করে তাকে জাতির জনক উল্লেখ করেই বক্তব্য রাখেন।
নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলেছেন, তিনি তার বাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বপ্নও বাস্তবায়ন করবেন এবং জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে তিনি ফিরিয়ে দেবেন এবং একটি সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হবে।’
২০০১ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জ-দোহার আসনে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল হুদার কাছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে হেরে যাওয়া সালমান এফ রহমানও এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
সালমান বলেন, ‘এখন আর বাংলাদেশে আন্দোলন-টান্দোলন হবে না। যথাসময় নির্বাচন হবে। কে আসবে কে আসবে না সেটা বিবেচ্য হবে না। সবার আসারই সুযোগ থাকবে। তবে কেউ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। আমাদের কাজ হবে জোটের পক্ষ থেকে যারা নির্বাচন করবেন তাদেরকে জয়ী করে আনা।’
বিএনএর কো-চেয়ারম্যান ও বিএলডিপির চেয়ারম্যান এম নাজিমউদ্দীন আল আজাদ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের শেখ সহীদুজ্জামান, বিএনএ মহাসচিব এম হাবিবুর রহমান প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 




















