ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিদেশে জিয়া পরিবারের সম্পদের পরিমাণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আবারও দেশের বাইরে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের অভিযোগ আনলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অভিযোগ, দেশের বাইরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর এক হাজার মিলিয়ন ডলারসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারেক রহমান দেশের বাইরে প্রচুর অর্থপাচার করেছে। তারেক জিয়া ও তার ব্যবসায়ী পার্টনার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন একটি বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেয়ার নামে ২১ কোটি টাকা সিঙ্গাপুরের সিটিএনএ ব্যাংকে পাচার করে।’

‘এছাড়া বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার, দুবাইতে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি, সৌদি আরবে মার্কেটসহ অন্যান্য সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে।’

‘ভবিষ্যতে জনগণের সম্পদ ও অর্থ আর পাচার করতে দেয়া হবে না’ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর নাম প্রকাশিত হয়েছে। ট্যাক্স হেভেনে জিয়া পরিবারের বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা।’

গত ৭ ডিসেম্বর দেশের বাইরে জিয়ার পরিবারের অর্থপাচার ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনার পর প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করে আইনি নোটিস দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। গত ১৯ ডিসেম্বর পাঠানো ওই নোটিসে এক মাসের মধ্যে ক্ষমতা না চাইলে ক্ষতিপূরণ আদায়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়।

তবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব নোটিসকে তিনি পাত্তা দেন না। আর সময় মতো এর জবাব দেয়া হবে। সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির তালিকায় খালেদা জিয়ার স্থান তিন নম্বর হিসেবে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার কথাও সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর পাচারকৃত ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৪ দশমিক ৮৮ সিঙ্গাপুরি ডলার ইতোমধ্যে সেদেশ হতে ফেরত আনা হয়েছে। একই সাথে অর্থপাচারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

২০১২ এবং ২০১৩ সালে তিন দফায় সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকে থাকা খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ২১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ফেরত আনতে পেরেছিল দুদক।

দুদকের নথিপত্র অনুযায়ী ২০০৫ সালে কোকো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি টেলিটকের যন্ত্রাংশ কেনার কাজ পাইয়ে দিতে বহুজাতিক কোম্পানি সিমেন্সের কাছে ঘুষ নেন। আবার চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রে অর্থ গ্রহণ করেন। পুরো অর্থই সিঙ্গাপুরে লেনদেন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে এ বিষয়ে সিমেন্সের পক্ষ থেকে স্বীকারোক্তিও দেয়া হয়।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার কোকো চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়ে আর ফেরেননি। ২০১৫ সালে তিনি মালয়েশিয়ায় মারা যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিদেশে জিয়া পরিবারের সম্পদের পরিমাণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৫৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আবারও দেশের বাইরে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের অভিযোগ আনলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অভিযোগ, দেশের বাইরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর এক হাজার মিলিয়ন ডলারসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারেক রহমান দেশের বাইরে প্রচুর অর্থপাচার করেছে। তারেক জিয়া ও তার ব্যবসায়ী পার্টনার গিয়াস উদ্দিন আল মামুন একটি বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেয়ার নামে ২১ কোটি টাকা সিঙ্গাপুরের সিটিএনএ ব্যাংকে পাচার করে।’

‘এছাড়া বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার, দুবাইতে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি, সৌদি আরবে মার্কেটসহ অন্যান্য সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে।’

‘ভবিষ্যতে জনগণের সম্পদ ও অর্থ আর পাচার করতে দেয়া হবে না’ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর নাম প্রকাশিত হয়েছে। ট্যাক্স হেভেনে জিয়া পরিবারের বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা।’

গত ৭ ডিসেম্বর দেশের বাইরে জিয়ার পরিবারের অর্থপাচার ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনার পর প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করে আইনি নোটিস দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। গত ১৯ ডিসেম্বর পাঠানো ওই নোটিসে এক মাসের মধ্যে ক্ষমতা না চাইলে ক্ষতিপূরণ আদায়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়।

তবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এসব নোটিসকে তিনি পাত্তা দেন না। আর সময় মতো এর জবাব দেয়া হবে। সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তির তালিকায় খালেদা জিয়ার স্থান তিন নম্বর হিসেবে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার কথাও সংসদকে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর পাচারকৃত ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৪ দশমিক ৮৮ সিঙ্গাপুরি ডলার ইতোমধ্যে সেদেশ হতে ফেরত আনা হয়েছে। একই সাথে অর্থপাচারের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

২০১২ এবং ২০১৩ সালে তিন দফায় সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকে থাকা খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ২১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ফেরত আনতে পেরেছিল দুদক।

দুদকের নথিপত্র অনুযায়ী ২০০৫ সালে কোকো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি টেলিটকের যন্ত্রাংশ কেনার কাজ পাইয়ে দিতে বহুজাতিক কোম্পানি সিমেন্সের কাছে ঘুষ নেন। আবার চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রে অর্থ গ্রহণ করেন। পুরো অর্থই সিঙ্গাপুরে লেনদেন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে এ বিষয়ে সিমেন্সের পক্ষ থেকে স্বীকারোক্তিও দেয়া হয়।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার কোকো চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়ে আর ফেরেননি। ২০১৫ সালে তিনি মালয়েশিয়ায় মারা যান।