অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
পদ্মাসেতু নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যে তার বুদ্ধিমত্তা ও এবং সাবমেরিন নিয়ে করা বক্তব্যে মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে আপত্তিকর ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলেছেন। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
গত ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পদ্মাসেতুতে না উঠতে বলেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘এখন তারা পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আওয়ামী লীগের আমলে এই সেতু হবে না। কোন একটা যদি জোড়াতালি বানায় সেই সেতুতে কেউ উঠতে যাবেন না, অনেক রিস্ক আছে।’
দুই দিন পর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক আলোচনায় খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এখন যার এইটুকু জ্ঞান নেই। একটা জিনিস নির্মাণ করতে হলে কীভাবে, কী পদ্ধতিতে করতে হয়, যার মাথায় ওইটুকু ঘিলু নাই।… ওনার মাথায় যে ঘিলু আছে সেটা কীসের? চুরি করা, টাকা বানানো, এতিমের টাকা খাওয়া, মানুষ পোড়ানো, মানুষ মারা এটাই তো?’
আবার ফেসবুকে খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য ছড়িয়েছে যেখানে তিনি নৌবাহিনীর জন্য কেনা সাবমেরিন ডুবে যাওয়ার কথা বলেছেন।
এই কথার উল্লেখ করে ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বহীর বৈঠকে খালেদা জিয়ার মাসনিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ইদানীং (খালেদা জিয়া) আবার বলেছেন আমাদের নৌবাহিনীর জন্য আনা সাবমেরিন ফুটো হয়ে গেছে। এটা পানির নিচে ডুবে গেছে। সেনাবাহিনীর বউ এটাও বুঝেন না, সাবমেরিন ডুবে যায় না- এটা পানির নিচ দিয়ে যায়।… বুঝতেছি না, তার মাথা ঠিক আছে কি না, তার মানসিক সমস্যা দেখা দিল কি না- তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার। ডাক্তার দেখানো উচিত কি না।’
দুটি দলীয় সমাবেশেই খালেদা জিয়ার পাশাপাশি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভোট ছাড়াই সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি হওয়া আর কারফিউ দিয়ে দেশ চালানোর সমালোচনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গত কয়েকদিন বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অরাজনৈতিক, আপত্তিকর ও শিষ্টাচারবর্হিভূত বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি ভবিষ্যতে তাকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তবে এই সংবাদ সম্মেলনে পদ্মাসেতু ও সাবমেরিন নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের বিষয়ে কিছু বলেননি ফখরুল।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই বর্তমান সরকার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারছে-প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন ফখরুল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ ভোট দেয়নি বলে বিএনপি ১৯৯৬ সালের ১৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি।
এর জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগিয়ে জোর ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে আছেন।’ ‘আমি বলব, ন্যূনতম সম্মানবোধ থাকলে ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেবেন।’
বিভিন্ন জেলায় সরকারি সফরে গিয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রাখারও সমালোচনা করেন ফখরুল। বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজে সব জায়গায় হেলিকপ্টারে গিয়ে নৌকার পক্ষে জনগণের কাছে ভোট চাচ্ছেন। অথচ বিএনপিকে ছোট একটা সমাবেশও করতে দিচ্ছে না। এটাই কি আওয়ামী লীগ সরকারের গণতন্ত্র?’
রবিবার জাতীয় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে রবিবার রাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেয়া ভাষণ নিয়েও কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি ও সংসদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় রাষ্ট্রপতি পুরোপুরিভাবে আওয়ামী লীগের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।’
আমরা জানি, রাষ্ট্রপতি যে বক্তব্য দিয়ে থাকেন তা নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অনুমোদিত হয়ে আসে। বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো লক্ষণ দেখছে না বলেও জানান দলের মহাসচিব। এর আগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকীতে কর্মসূচি ঠিক করতে যৌথসভা করে বিএনপি। পরে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















